‘দেশীয় ফুটবলারদের মান বাড়াতে হবে’

স্পোর্টস রিপোর্টার

দলে বিদেশি খেলোয়াড়ের সংখ্যা আরেকটু বেশি হলে চট্টগ্রাম আবাহনীর শিরোপা পুনরুদ্ধারের সম্ভাবনাটা আরেকটু বাড়ত। শেখ কামাল আন্তর্জাতিক ক্লাব কাপের ফাইনালে তেরেঙ্গানু এফসির কাছে হেরে শিরোপার সুযোগ হাতছাড়ার পর চট্টগ্রাম আবাহনীর অধিনায়ক জামাল ভুঁইয়া এমন মত দেন।

কোচ মারুফুল হক অবশ্য অধিনায়কের এমন অভিমতে একমত নন। বরং তিনি মনে করেন, ভবিষ্যতে শিরোপার খুব কাছে গিয়েও এমন স্বপ্নভঙ্গের বিষাদে পড়তে না চাইলে দেশীয় ফুটবলারদের মান আরো বাড়াতে হবে।

চট্টগ্রাম আবাহনীর মন্টেনেগ্রিন ফরোয়ার্ড লুকা রটকোভিচ পুরো টুর্নামেন্টে পাঁচ ম্যাচ খেলে করেছেন দুই গোল। ফাইনালে এক গোল করে চট্টগ্রাম আবাহনীর শিরোপা স্বপ্নকে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত জিইয়ে রাখলেও নষ্ট করেছেন দারুণ কিছু সুযোগ। কখনো তার বাজে ফার্স্ট টাচ অথবা কখনো দুর্বল শটের ফল ভোগ করেছে আবাহনী।

আরেক ফরোয়ার্ড চিনেদু ম্যাথিউ টুর্নামেন্টে দারুণ খেললেও ফাইনালে প্রতিপক্ষের কড়া মার্কিংয়ের জাল ছিঁড়ে বেরোতে পারেননি। চট্টগ্রাম আবাহনীও পায়নি আর সমতাসূচক গোলের দেখা। এদিন বিবর্ণ ছিলেন দলটির আরেক ভরসা চার্লস দিদিয়েরও। হালকা চোটের কারণে অবশ্য ম্যাচের ৬০ মিনিটের দিকেই তাকে তুলে নিয়েছিলেন কোচ মারুফুল।

আরেক বিদেশি ফরোয়ার্ড প্রিন্স ট্যাগো ফিটনেস সমস্যার কারণে টুর্নামেন্টে চট্টগ্রাম আবাহনীর হয়ে একটি ম্যাচও খেলতে পারেননি। ডিফেন্ডার প্লেন পিটারও প্রত্যাশিত নৈপুণ্য দেখাতে পারেননি। অধিনায়ক জামাল ভুঁইয়া মনে করেন বিদেশি খেলোয়াড়ের ঘাটতি দলকে ভুগিয়েছে ফাইনালে।

জাতীয় দলেরও অধিনায়ক জামাল ম্যাচ পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘আমাদের দলে যদি আরো দুজন বিদেশি থাকত, তাহলে সুযোগটা হয়তো আরো বাড়ত। আমার মনে হয়, স্থানীয়রা ভালোই খেলেছে। সবাই লি টাককে নিয়ে কথা বলেছে কিন্তু আমি মনে করি, সে আজ খুব একটা বিপজ্জনক ছিল না। রক্ষণ ভালো করেছে। আপনারা জানেন, ছোটো-ছোটো বিষয়গুলো পার্থক্য গড়ে দিয়েছে।’

বিদেশিদের এমন নিষ্প্রভ দিনে দেশীয়দের সামনে সুযোগ ছিল আলো কেড়ে নেওয়ার। তবে আরিফুর রহমান, কাওসার আলি রাব্বিরা ব্যর্থ হয়েছিলেন সেটা করতে। কোচ মারুফুল হক বললেন, ভবিষ্যতে এমন হতাশা এড়িয়ে, শিরোপা জিততে হলে প্রয়োজন দেশীয় ফুটবলারদের মানোন্নয়নের।

লুকা ফাইনালের মতো সেমিফাইনালেও বেশ কিছু সহজ সুযোগ নষ্ট করেছিলেন। তার এমন পারফরম্যান্সের ব্যাপারে কোচের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল ফাইনালে বেঞ্চের কাউকে সুযোগ দেয়া হবে কি না। জবাবে মারুফুল জানিয়েছিলেন, বেঞ্চের খেলোয়াড়রা দারুণ গুণসম্পন্ন হলেও ফাইনালের প্রথম একাদশে জায়গা করে নেওয়ার মতো পরিপক্বতা আসেনি ।

ভবিষ্যতে এমন হার এড়াতে করণীয় কী—এমন প্রশ্নের জবাবেও একই কথা বললেন মারুফুল। তিনি বলেন, ‘ভবিষ্যতে ফাইনালে এমন হার এড়াতে দেশীয় ফুটবলারদের মান ভালো করতে হবে। এতে করে কোচের হাতে বিকল্পের সংখ্যা বাড়ে।’

তেরেঙ্গানুর বিপক্ষে ফাইনালে দলের ভুল থাকলেও কিছুটা দুর্ভাগ্যও সঙ্গী হয়ে গিয়েছিল চট্টগ্রাম আবাহনীর। প্রথমার্ধেই রহমত মিয়ার চোট কোচের হাতে বদলি খেলোয়াড়ের সংখ্যা কমিয়ে দিয়েছিল। এ নিয়ে কিছুটা আফসোসও ঝরে পড়ল কোচের কণ্ঠে।

মারুফুল বলেন, ‘প্রথমার্ধে রহমতকে চোটের কারণে তুলে নিতে হয়েছিল, যার কারণে দ্বিতীয়ার্ধে একজন আক্রমণাত্মক খেলোয়াড় কম বদলি করতে পেরেছি। না হলে হয়তো ব্যাপারটা অন্যরকমও হতে পারত।’