ব্যাংকিং খাত নীতি-নৈতিকতা ও সুশাসন

 

নানা কারণে বর্তমানে ব্যাংকিং খাত এখন আলোচনায় উঠে আসছে। রাজনৈতিক মাঠ থেকে শুরু করে অর্থনীতির কঠিন তাত্ত্বিক বিষয় আলোচনা করতেও এখন এ খাত আলোচনার শীর্ষে। ব্যাংক খাতের খেলাপি ঋণ, অনিয়ম, কেলেঙ্কারির আলোচনায় দোষী গ্রাহকের সঙ্গে সঙ্গে আলোচনায় আসেন ব্যাংকাররাও। তখনই ব্যাংকারদের নৈতিক অবক্ষয়ের বিষয়টিও চলে আসে।

ব্যাংকারদের সহযোগিতা বা যোগসাজশে ঋণ পাওয়ার অযোগ্য ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান ব্যাংক থেকে অর্থ হাতিয়ে নেয়। আঙ্গুল উঠে ব্যাংকের সর্বোচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধেও। এমন অবস্থা তৈরি হয় ব্যাংক খাতে সুশাসন নষ্ট হলে। আর সেটা নষ্ট হয় ব্যাংকারদের মধ্যে নৈতিকতার চর্চা যখন কমে যায়। নৈতিকতা থাকলে ব্যাংক খাত সুষ্ঠু থাকতে বাধ্য। তখন অনিয়ম, জাল-জালিয়াতির ঝুঁকিও কমে যাবে। এটা শুধুমাত্র মুখের কথা নয়, গবেষণাতেও এর প্রমাণ মিলেছে।

সম্প্রতি বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্ট পরিচালিত এক গবেষণার ফলাফলে দেখা যাচ্ছে, ব্যাংকিং খাতে নীতিবান নেতৃত্বের অভাব রয়েছে বলে মনে করেন দেশের ৬১ শতাংশ ব্যাংকার। প্রকৃত অর্থেও ব্যাংকিং খাতে নৈতিকতার চর্চা অনেক কমে গিয়েছে। এর মূল কারণ, ব্যাংকের পর্ষদের পক্ষ থেকে নিয়ম ভঙ্গ করার চাপ, ব্যাংকারদের অতিমাত্রায় লোভ, বাংলাদেশ ব্যাংকের দুর্বল তদারকি ব্যবস্থা এবং ক্ষেত্র বিশেষে দোষ জেনেও কিছু করতে না পারার ক্ষমতা প্রভৃতি।

অন্যদিকে ব্যাংকাররা দোষ করার পরও ধরা পড়লে বিচার এড়িয়ে যাওয়ার মতো সুযোগ পেয়ে যাওয়ার অন্যরা এ ধরনের কাজে উত্সাহিত হয়। এ অবস্থা থেকে উত্তরণ না ঘটাতে পারলে দিনে দিনে ব্যাংকগুলোর অবস্থা আরো খারাপ হয়ে যাবে। তাতে দেশের সামগ্রিক অর্থনীতি ক্ষতিতে পড়বে। তাই প্রতিটি ব্যাংক এবং নিয়ন্ত্রণকারী ব্যাংক হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাংককে সম্মিলিতভাবে কাজ করার বিকল্প নেই। আর বড় বড় যেসব ঘটনা ঘটেছে, সেগুলোকে বিচারের আওতায় নিয়ে আসার ব্যবস্থা করা। একইসঙ্গে বিচার বিভাগকে এ বিষয়ে আরো অগ্রসর ভূমিকা পালন করার বিকল্প নেই।

নৈতিকতা জোর করে চাপানো যায় না। এটা মানুষের বিবেকপ্রসূত বিবেচনার ওপর নির্ভরশীল। পারিপার্শ্বিক অবস্থার কারণে এ বিবেকপ্রসূত চিন্তাধারা অনেক সময় ব্যাহত হয়। তাই সেটা যাতে না হতে পারে সেজন্য প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা নেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে। এক্ষেত্রে দেশ-বিদেশের অনুকরণীয় ব্যাংকের জীবন ও দর্শন অনুসরণ করা যেতে পারে। নৈতিকতা বিরোধী কার্যকলাপের জন্য একদিকে ব্যাংকারদের শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে। অন্যদিকে যারা এ বিষয়টি কঠোরভাবে অনুসরণ করতে পারবে তাদেরকে পুরস্কৃত করার মাধ্যমে উত্সাহিত করা যেতে পারে।