নেত্রকোনায় স্কুলছাত্রীকে দুই দিন আটকে রেখে ধর্ষণ হাসপাতালে ভর্তি

 নেত্রকোনা প্রতিনিধি

নেত্রকোনার লক্ষ্মীগঞ্জ ইউনিয়নের নসিবপুর গ্রামে পঞ্চম শ্রেণির এক ছাত্রীকে অপহরণ করে দুই দিন আটকে রেখে হাত-পা বেঁধে ধর্ষণ করেছে এক বখাটে। গত বৃহস্পতিবার ভোর ৪টার দিকে মেয়েটি বখাটের আস্তানা থেকে পালিয়ে এসে তার মা-বাবাকে ঘটনাটি জানায়। মেয়েটিকে নেত্রকোনা আধুনিক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

পুলিশ ও ধর্ষিত শিশুর স্বজনরা জানান, গত ২৯ অক্টোবর দিবাগত রাতে মেয়েটি তার নানির সঙ্গে পাশের মহল্লায় ওয়াজ শুনতে যায়। রাত সাড়ে ১১টার দিকে কয়েক জন বখাটে যুবক ওয়াজ মাহফিল থেকে মেয়েটিকে জোরপূর্বক অপহরণ করে নিয়ে যায়। এরপর একটি ঘরে তার হাত-পা, মুখ বেঁধে দুই দিন আটকে রেখে তাকে ধর্ষণ করা হয়।

গত বৃহস্পতিবার দুপুরে হাসপাতালে চিকিত্সাধীন মেয়েটি জানায়, ভাজনীপাড়া গ্রামের এখলাস মিয়ার বখাটে ছেলে পিয়েল মিয়া (২৫) ও আরো দুই জন তাকে ওয়াজ মাহফিল থেকে ডেকে নিয়ে যায় এবং পিয়েল তাকে কুপ্রস্তাব দেয়। সে রাজি না হওয়ায় তার মুখ বেঁধে তাকে জোরপূর্বক ধরে নিয়ে যায় তারা। কিছুক্ষণ পর একটি ঘরে নিয়ে গিয়ে জোরপূর্বক তাকে ধর্ষণ করে পিয়েল। পরে তাকে মুখ ও হাত-পা বেঁধে ঘরের মাচায় ফেলে রাখে। মেয়েটির বাবা জানান, বখাটে পিয়েল মিয়া দীর্ঘদিন ধরেই তার মেয়েকে উত্ত্যক্ত করে আসছিল। এই ঘটনায় পিয়েলসহ দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন তিনি। ঘটনার পরদিন তিনি নেত্রকোনা থানায় একটি জিডি করেছেন বলে জানান। নেত্রকোনা মডেল থানার ওসি তাজুল ইসলাম জানান, বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আসামিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নেত্রকোনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এস এম আশরাফুল আলম হাসপাতালে শিশুটির সঙ্গে কথা বলে জানান, আমরা ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি। অভিযুক্ত আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।