বঙ্গবন্ধু ও জাতীয় চার নেতা হত্যা প্রসঙ্গে বিভিন্ন দলের নেতারা

পরিকল্পনাকারীদের চিহ্নিত করতে তদন্ত কমিশন করুন

আওয়ামী লীগ ও ১৪ দলের কয়েকটি শরিক দলের শীর্ষ নেতারা বলেছেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে ও জাতীয় চার নেতাকে নৃশংসভাবে হত্যার সঙ্গে সরাসরি জড়িতদের বিচার হয়েছে। তবে ইতিহাসের এই দুটি জঘন্যতম হত্যাকাণ্ডের পেছনের পরিকল্পনাকারীরা এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে গেছে। একটি তদন্ত কমিশন গঠনের মাধ্যমে নেপথ্যের হোতাদের চিহ্নিত করে তাদের আইনের আওতায় আনা হলেই এই দুটি হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত বিচারকাজ সম্পন্ন হবে। জেল হত্যা দিবস (৩ নভেম্বর) উপলক্ষ্যে গতকাল শুক্রবার রাজধানীর কাকরাইলে ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশ-আইডিইবির মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি মিলনায়তনে ‘শহীদ এম মনসুর আলী স্মৃতি সংসদ’ আয়োজিত আলোচনা সভায় তারা এ তদন্ত কমিশন গঠনের দাবি জানান।

১৫ আগস্ট, ৩ নভেম্বরের হত্যাকাণ্ড ছিল দেশ ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বিরুদ্ধে : আমির হোসেন আমু

আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আমির হোসেন আমু বলেন, বঙ্গবন্ধু ও জাতীয় চার নেতাকে হত্যাকাণ্ডের ঘটনা কোনো ব্যক্তি কিংবা সংগঠনের বিরুদ্ধে ছিল না। যারা রাজনৈতিক সচেতন তারা জানতেন—এই দুটি হত্যাকাণ্ড ছিল মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, স্বাধীন বাংলাদেশ ও দেশের জনগণের বিরুদ্ধে। যার ধারাবাহিকতায় তখন সামরিক বাহিনীতেও খুঁজে খুঁজে খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা অফিসারদের ফাঁসি দেওয়া হয়েছিল।

তিনি বলেন, স্বাধীনতাবিরোধী অপশক্তি দীর্ঘসময় বাংলাদেশকে শাসন করেছে। এই শক্তি মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে বিকৃত করতে চেয়েছিল। মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে হত্যা করে বাংলাদেশকে আবার পাকিস্তানি কায়দায় ঢেলে সাজাতে চেয়েছিল। এই অপশক্তির প্রতিটি পদক্ষেপ ছিল দেশ ও জনগণের বিরুদ্ধে। তারা মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বিরুদ্ধে জেহাদ ঘোষণা করেছিল। জাতীয় চার নেতার কর্মময় জীবনের স্মৃতিচারণ করে আমু বলেন, যে কোনো কঠিন সিদ্ধান্তের সময় শহিদ এম মনসুর আলীর ওপর বিশ্বাস রাখতেন বঙ্গবন্ধু, যার কারণে মন্ত্রিত্ব ছেড়ে বঙ্গবন্ধু যখন দলের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব নিয়েছিলেন, তখন তিনি তার মন্ত্রণালয়গুলো পরিচালনার দায়িত্ব দিয়েছিলেন মনসুর আলীকে।

বিলাসী জীবন ও খারাপ আচরণ করা বঙ্গবন্ধুসহ চার নেতা আমাদের শেখাননি :তোফায়েল আহমেদ

আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের আরেক সদস্য তোফায়েল আহমেদ বলেন, ‘আমরা যখন ছাত্ররাজনীতি করতাম, তখন মানুষের সঙ্গে বিনয়ের সঙ্গে কথা বলতাম। এখনকার ছাত্রনেতাদের মতো বিলাসী জীবন ছিল না। কারণ বিলাসী জীবনযাপন এবং মানুষের সঙ্গে খারাপ আচরণ করা বঙ্গবন্ধুসহ চার নেতা আমাদের শেখাননি।’ তিনি বলেন, ‘ছাত্রজীবনে আমরা নিজেরা হাতে পোস্টার লিখতাম, নিজেরাই পোস্টার লাগাতাম। যখন হলে থাকতাম, তখন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৌশল বিভাগ কোথায় সেটা আমরা কোনো দিন জানতাম না। উনসত্তরের এত বড়ো আন্দোলনে আমাদের খরচ হয়েছিল মাত্র ২২ হাজার টাকা। আজকে সাংবাদিকদের কেউ কেউ আমার ইন্টারভিউ করতে এসে সেদিনের ছাত্ররাজনীতি ও আজকের ছাত্ররাজনীতি সম্পর্কে জানতে চান। আমি তাদের বলি, সেদিনের ছাত্ররাজনীতি নিয়ে আমি বলতে পারব, আজকের ছাত্ররাজনীতি নিয়ে কিছু বলতে পারব না।’

সাবেক এই ছাত্রনেতা বলেন, ‘আমরা আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়জীবনে ‘র্যাগিং’ শব্দ কখনো শুনিওনি। আজকে দেখি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে, অমুক জায়গায় চাঁদা দাবি করা হয়।’ তোফায়েল আহমেদ বলেন, ‘দেশ-জাতি আজ বঙ্গবন্ধুর কন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সামনে এগিয়ে যাচ্ছে। দেশকে দুর্নীতিমুক্ত করতে প্রধানমন্ত্রী কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করেছেন। একসময় যারা বলত বাংলাদেশ হবে দরিদ্র দেশের মডেল, সেই তারাই আজ বলছে বাংলাদেশ উন্নয়নের রোল মডেল।’

তদন্ত কমিশন গঠন করলে হত্যাকাণ্ডে কার কী ভূমিকা ছিল তা বের হবে : মোহাম্মদ নাসিম

আলোচনা সভায় সভাপতিত্বকারী, আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য, ১৪ দলের সমন্বয়ক ও শহিদ এম মনসুর আলীর পুত্র মোহাম্মদ নাসিম বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু ও জাতীয় চার নেতার হত্যাকাণ্ড নিয়ে একটি তদন্ত কমিশন গঠন করুন। দেখবেন কারা নেপথ্যে পরিকল্পনাকারী হিসেবে কাজ করেছে, তাদের নাম বেরিয়ে আসবে। হত্যাকাণ্ডের সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীসহ কার কী ভূমিকা ছিল, সেটি বেরিয়ে আসবে। কার কার দায়িত্বে অবহেলার কারণে এমন নির্মম ঘটনা ঘটেছে, জাতি তা জানতে পারবে। কারণ ষড়যন্ত্র করে কে এম ওবায়দুর রহমান ও শাহ মোয়াজ্জেম হোসেনের মতো ব্যক্তিদের জেল হত্যার দায় থেকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে। সে জন্য বলছি, তদন্ত কমিশন গঠন করে প্রকৃত খুনিদের বিচার করতে হবে।’

মোহাম্মদ নাসিম বলেন, ‘আমি পিতার শেষ মুখ দেখতে পারিনি, পিতার জানাজা পড়তে পারিনি। আমি এক হতভাগ্য সন্তান। তারপরও আমার গর্ব ও অহংকার এটা যে আমি খুনি মোশতাকের মতো কোনো বেইমানের সন্তান নই, আমি শহিদ এম মনসুর আলীর মতো আদর্শবান ব্যক্তিত্বের সন্তান।’ তিনি বলেন, ‘আমার পিতা জীবন দিয়েছেন, তবু বঙ্গবন্ধুর রক্ত-আদর্শ ও জনগণের সঙ্গে বেইমানি করেননি। আজকে আমাদের প্রজন্মকে চার নেতার জীবন থেকে শিক্ষা নিতে হবে, তাদের নীতি-আদর্শ অনুসরণ করতে হবে। কেননা, মনসুর আলী খুনি মোশতাকের মন্ত্রিত্বের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে মৃত্যুকে আলিঙ্গন করে নিয়েছেন, তারপরও বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে বেইমানি করেননি। আজকে আমাদেরও সেইভাবে নেতার ও নেতৃত্বের প্রতি অবিচল থাকতে হবে। না হলে আমরা শেখ হাসিনাকে রক্ষা করতে পারব না।’

১৪ দলের সমন্বয়ক বলেন, ‘সারাদেশের মানুষ আজ শেখ হাসিনার প্রতি কৃতজ্ঞ। তিনি যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করেছেন। পর্বতসম বাধা উপেক্ষা করে সর্বক্ষেত্রে উন্নয়ন করেছেন। আলোকিত বাংলাদেশ গঠন করছেন। বিএনপি নেতা ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনের একটি বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, দোয়া করি আপনি আরো ৬৩ বছর বেঁচে থাকুন, ৬৩ বছর পরেও দেখবেন আওয়ামী লীগই ক্ষমতায়। বিএনপি আর কোনোদিন ক্ষমতায় আসতে পারবে না। শকুনের দোয়ায় গরু মরে না, বিএনপির ড. মোশাররফের দোয়ায়ও গরু মরবে না। আপনারা নির্বাচন করে হেরেছেন, আপনারা বারবার পরাজিত হবেন। মোহাম্মদ নাসিম আরো বলেন, আমরা যদি ভুল করি তা সংশোধনের ও শাস্তি দেওয়ার ক্ষমতা রাখেন প্রধানমন্ত্রী। সেজন্য দলের ভেতরেই তিনি শুদ্ধি অভিযান চালাচ্ছেন।’

আজকে আমরা একটা বিচিত্র সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছি : মতিয়া চৌধুরী

আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য বেগম মতিয়া চৌধুরী বলেন, ‘আজকে আমরা একটা বিচিত্র সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছি। এই ধরনের অভিজ্ঞতার মুখোমুখি এর আগে হইনি। বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা সংকটকে সব সময় সম্ভাবনায় পরিণত করে তোলেন। ৮১ সালে তার দেশে পা রাখার পর থেকেই এটা দেখছি। ২০০১ সালের পর অনেকে বলত আওয়ামী লীগ শেষ। আওয়ামী লীগ শেষ হয়নি, শেখ হাসিনাও শেষ হননি। বরং নবোদ্যমে ১৪ দল ও জাতীয় পার্টিকে সঙ্গে নিয়ে আওয়ামী লীগ সামনে এগিয়ে যাচ্ছে। ১৪ দলের এই ঐক্য বাংলাদেশের মানুষকে অনেককিছু দিয়েছে। ঐক্যবদ্ধভাবে পথ চলার কারণেই বাচ্চাদের হাতে বিনামূল্যে বই পৌঁছেছে, হতদরিদ্রদের হাতে দশ টাকায় চাল গেছে।’

তিনি বলেন, ‘বিএনপির এক নেতা বলেছেন, আওয়ামী লীগ নাকি ৬৩ বছরেও আর ক্ষমতার মুখ দেখবে না। আমরা অসহিষ্ণু হব না। আইন নিজের গতিতে চলবে। যারা জঙ্গি-সন্ত্রাসীদের আশ্রয় দেয়, বঙ্গবন্ধুর হত্যার সঙ্গে জড়িত তাদের মুখে একথা মানায় না। মতিয়া চৌধুরী বলেন, ৭ নভেম্বর একদিকে সেনা নিধন চলে, আরেকদিকে জাতীয় সংগীত পরিবর্তন করে জিয়া বিএনপি গঠন করে। বিএনপি মানে হলো ‘বাংলাদেশ নওপাকিস্তান’। অর্থাত্ জিয়া পাকিস্তানকে বোঝাতে চেয়েছেন যে, এদেশের মানুষের স্বপ্নকে চুরমার করে আমি তোমাদের দেওয়া দায়িত্ব পালন করেছি। অথচ আজ পাকিস্তানের এমপিরাই সংসদে দাঁড়িয়ে বলেন, ‘বাংলাদেশ বানাদো’।’

আগের দিনের নেতাদের বিত্ত-বৈভব ছিল না, ছিল নীতি-আদর্শ ও লক্ষ্য : আনোয়ার হোসেন মঞ্জু

আলোচনায় অংশ নিয়ে জাতীয় পার্টি-জেপির চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন মঞ্জু এমপি বলেন, ‘আগেকার দিনে যারা রাজনীতি করতেন তাদের এত বিলাসী জীবন, বিত্ত-বৈভব ছিল না। তারা সাধারণ জীবন-যাপন করতেন। তবে তাদের আদর্শ, নীতি ও লক্ষ্য ছিল। এজন্য প্রাণ পর্যন্ত দিয়ে গেছেন তারা। ৭৫ এর হত্যাকাণ্ডের পর মনসুর আলীকে মন্ত্রী হওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিল খন্দকার মোশতাক। জবাবে মনসুর আলী বলেছিলেন, যারা হাতির পিঠে চড়ে তারা কখনো গাঁধার পিঠে চড়তে পারে না। এই জবাবের মাধ্যমে তিনি একদিকে আদর্শের কথা জানিয়েছেন, অন্যদিকে বঙ্গবন্ধুর কথা বলেছেন। বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে যারা কাজ করেছেন তারা এর নিচের কারো সঙ্গে মেলামেশা করতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন না।’

তিনি বলেন, ‘তখন একটিমাত্র দল ছিল আওয়ামী লীগ, আর ছাত্রসংগঠন ছিল ছাত্রলীগ। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন হলে যারা থাকতেন তখনও তাদের নানা ভয়ভীতি দেখানো হতো। আজ এতবছর পরে এসেও দেখছি হলে যারা সরকারি দলের তারা সাধারণ শিক্ষার্থীদের তুলনায় অনেক আরাম-আয়েশে থাকেন। হলগুলোতে আজ যেসব কথা শোনা যায়, এটা আমরা কল্পনাও করতে পারতাম না।’

আনোয়ার হোসেন মঞ্জু বলেন, শেখ ফজলুল হক মনি একদিন আমাকে বলেছিলেন—ওই সচিবালয়ে যেও না। অনেক কিছুর পরিবর্তন হয়েছে। কিন্তু এতবছর পরেও অনেক কিছুই এখনো চলছে সেই ব্রিটিশ আমলের আইন দিয়ে। তিনি বলেন, স্বাধীনতার আন্দোলন দানা বেঁধে-বেঁধে শেষ পর্যন্ত লক্ষ্যে পৌঁছেছিল। আন্দোলন-সংগ্রামে আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের চেয়ে বেশি ত্যাগ কারো নেই। আজ নতুন প্রজন্মের মুখে শুধু শুনি টাকা। দুর্নীতির জন্য সরকার বিএনপির যেই লোকের ব্যবসা বন্ধ করে দিয়েছে, পরদিন দেখি আওয়ামী লীগ নেতা তার বাড়িতে। টাকার বিনিময়ে মুক্তিযোদ্ধা বানানোর চেষ্টা করা হয়। প্রতিবাদ হলে মুক্তিযোদ্ধার সাহায্যকারী করা হয়। এই অবক্ষয় থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। এক্ষেত্রে সাহস, উত্সাহ ও অনুপ্রেরণা দেবে বঙ্গবন্ধু ও জাতীয় চার নেতার আদর্শিক জীবন।

জেপি চেয়ারম্যান আরো বলেন, যুবলীগের জন্ম হয়েছে পরে। আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের অবক্ষয় অবশ্যই রোধ করতে হবে। দুই-চার জনের জন্য সবার বদনাম হবে, ঘরে-ঘরে নানা আলোচনা হবে—এটা আমাদের ভালো লাগে না। আওয়ামী লীগের পুরোনো নেতাদের কর্মজীবন, আদর্শ ও সংগ্রাম সম্পর্কে পড়তে হবে। তাদের মতো হবো—এটা বিশ্বাস করি না, কিন্তু চেষ্টা থাকতে হবে। একেবারে বেহায়া যেন না হয়ে যাই।

বঙ্গবন্ধু ও চার নেতাকে হত্যার পেছনে যারা ছিল তাদের বের করে ফাঁসিতে ঝুলাতে হবে : মায়া

আলোচনা সভায় আওয়ামী লীগ নেতা ও সাবেক মন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া ৩ নভেম্বর জেলহত্যার করুণ ঘটনার বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে আমাদের একটি কক্ষে আটকে রেখে পাশের কক্ষেই চার নেতাকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। বঙ্গবন্ধু ও চার নেতাকে হত্যার পেছনে যারা ছিল তাদের বের করে ফাঁসিতে ঝুলাতে হবে।

প্রশাসনের একটা সিন্ডিকেট প্রধানমন্ত্রীর চ্যালেঞ্জসমূহকে

নস্যাতের ষড়যন্ত্র করছে : দিলীপ বড়ুয়া

১৪ দল শরিক সাম্যবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক দিলীপ বড়ুয়া বলেন, প্রধানমন্ত্রী নিজের ঘর থেকে দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে তোপ দাগিয়েছেন। তিনি বিশ্ববাসীকে দেখাতে চান, যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের পাশাপাশি দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধেও দলমত নির্বিশেষে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর চ্যালেঞ্জসমূহে নস্যাত্ করতে প্রশাসনের একটি সিন্ডিকেট ষড়যন্ত্র করছে। ১৪ দলের আরেক শরিক বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক ফজলে হোসেন বাদশা বলেন, স্বাধীনতাবিরোধী শক্তি যে পর্যন্ত সমূলে উত্পাটিত না হবে সেই পর্যন্ত মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। আওয়ামী লীগের সঙ্গে ওয়ার্কার্স পার্টি সেই রাজনৈতিক দায়িত্ব পালন করবে, আমরা সেই প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি। আলোচনা সভা পরিচালনা করেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহে আলম মুরাদ।