ভারতে বাংলাদেশি পণ্যের শুল্কমুক্ত রপ্তানি বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী এমপি। তিনি বলেছেন, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে সম্পর্ক অত্যন্ত গভীর এবং ঐতিহাসিক। এই সম্পর্ক আগামীতে আরো সুদৃঢ় হবে। গভীর বন্ধুত্বের কারণে দুই দেশেই উন্নয়ন অব্যাহত রয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমরা ভারতের বিভিন্ন পণ্য আমদানি অব্যাহত রেখেছি, কিন্তু সেই অনুপাতে বাংলাদেশ থেকে রপ্তানি কম।’
‘বাংলাদেশ-ভারত কৌশলগত অবস্থান’ নিয়ে দুই দিনব্যাপী ‘বাংলাদেশ-ভারত বন্ধুত্ব সংলাপ’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্পিকার এসব কথা বলেন। শিরীন শারমিন চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে ফ্রেন্ডশিপ সংলাপ দুই দেশের মধ্যে অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরো জোরদার করবে। বাণিজ্যিক সহযোগিতা বাড়াবে। দুই দেশের বিরাজমান সমস্যাগুলো সুনির্দিষ্ট করে তা নিরসন এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক অগ্রগতি ধরে রাখতে এই বন্ধুত্ব সংলাপ সেতুর মতো ভূমিকা রাখছে।
স্পিকার আরো বলেন, বাংলাদেশ ও ভারত দুই দেশের সরকার সন্ত্রাসবাদ দমনে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে। আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এই নীতি বিশ্বব্যাপী প্রশংসা পেয়েছে। তিনি বাংলাদেশ-ভারতের মধ্যে সংসদীয় সহযোগিতা বাড়ানোর ওপরও গুরুত্বারোপ করেন। স্পিকার ২০২০ সালে মুজিববর্ষ এবং ২০২১ সালে স্বাধীনতার অর্ধশত বছর পূর্তি অনুষ্ঠানে অংশ নিতে বন্ধু দেশ হিসেবে ভারতকে আমন্ত্রণ জানান।
বাংলাদেশ ফাউন্ডেশন ফর রিজিওনাল স্টাডি ও ইন্ডিয়া ফাউন্ডেশন যৌথভাবে এই সংলাপের আয়োজন করে। কক্সবাজারের ইনানী সৈকতের হোটেল রয়েল টিউলিপের বলরুমে গতকাল শুক্রবার বিকালে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলম এমপির সভাপতিত্বে সংলাপের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন আয়োজক সংগঠন বাংলাদেশ ফাউন্ডেশন ফর রিজিওনাল স্টাডির সাধারণ সম্পাদক এম শহিদুল ইসলাম।
বন্ধু হয়ে একসঙ্গে কাজ করে যেতে চাই :ভারতীয় হাইকমিশনার
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার রীভা গাঙ্গুলি দাশ বলেন, ‘সব দিক দিয়ে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের উন্নয়ন হয়েছে। বাংলাদেশের আইটি, মেডিক্যালসহ সব সেক্টরে ভারতের অংশগ্রহণ বাড়ানো হয়েছে।’ বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বুদ্ধিমত্তায় এটি সম্ভব হয়েছে দাবি করে তিনি আরো বলেন, ‘সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ দমনে বাংলাদেশ সরকারের জিরো টলারেন্স নীতিতে বাংলাদেশ সরকার খুবই খুশি। প্রতিবেশী হিসেবে আঞ্চলিক উন্নয়ন অব্যাহত রাখতে বন্ধু হয়ে আমরা একসঙ্গে কাজ করে যেতে চাই।’
ভারতের আসাম রাজ্যের অর্থ, স্বাস্থ্য ও পূর্তমন্ত্রী হিমান্তা বিশ্ব শর্মা বলেন, ‘দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আমাদের অর্থনৈতিকভাবে লাভবান করছে। এই ধারা অব্যাহত রাখতে আমদানি-রপ্তানি বাড়াতে কাজ করা জরুরি।’
বিজেপির কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক রাম মাধব বারানাসী বলেন, ‘বাংলাদেশ-ভারতের বন্ধুত্ব বিশ্বাসের। বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়ে বাংলাদেশ মানবিকতার অনন্য নজির স্থাপন করেছে। এই সংকটে বাংলাদেশের পাশে রয়েছে ভারত।’ কূটনৈতিক উপায়ে শিগিগরই রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধান হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
সভাপতির বক্তব্যে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলম বলেন, জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাসবাদ প্রতিরোধে বাংলাদেশ ও ভারত অভিন্ন নীতিতে কাজ করছে। আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দুই দেশ আগামীতে আরো সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়ে কাজ করবে।
অনুষ্ঠানে ফ্রেন্ডশিপ বাংলাদেশের সভাপতি ও টেকনো ইন্টারন্যাশনাল কলেজ অব টেকনোলজির পরিচালক ড. রাধা তমাল গোস্বামী, আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় নেতা জাহাঙ্গীর কবির নানক, বাংলাদেশ ফাউন্ডেশন ফর রিজিওনাল স্টাডির চেয়ারম্যান আ স ম সামশুল আরেফীন, স্থানীয় এমপি আশেক উল্লাহ রফিক, সাইমুম সরোয়ার কমল, কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান লে. কর্নেল (অব) ফোরকান আহমদ, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সিরাজুল মোস্তফা প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। আজ শনিবার দ্বিতীয় অধিবেশনে ‘কক্সবাজার ঘোষণা’র মধ্য দিয়ে সমাপ্ত হবে এই সংলাপ।