ব্যবসায়ী ইসমাইল হোসেন বাতেন গত ১৯ জুন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে যাওয়ার উদ্দেশ্যে রাজধানীর গাবতলী লালকুঠি প্রথম কলোনির বাসা থেকে বের হন। বের হওয়ার সময় চার বছর বয়সী ছেলে ইনামকে বলেছিলেন, তার জন্য আম নিয়ে আসবেন। কিন্তু সাড়ে চার মাস পেরিয়ে গেলেও বাবার জন্য ইনামের অপেক্ষা শেষ হয়নি। বাতেনের স্বজনরা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দ্বারে দ্বারে ঘুরেও তার কোনো সন্ধান পায়নি। গতকাল শুক্রবার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন করেন বাতেনের পরিবারের সদস্যরা। উপস্থিত ছিলেন তার স্ত্রী নাসরিন জাহান স্মৃতি। তার সঙ্গে ছিল ছেলে ইনাম ও মেয়ে ইনশাক (১৪)।
নাসরিন বলেন, বাতেন যেদিন নিখোঁজ হয়, ছোটো ছেলেকে বলে গিয়েছিল বাবা, তোমার জন্য আম নিয়ে আসব। সেই যে গেল, আর ফিরে এল না। দুপুরে নাকি ওর অফিস থেকে ও খাবার খাওয়ার জন্য বের হয়েছিল। কিন্তু বাসায় তো আর আসেনি। তিনি আরো বলেন, ছেলে সেদিন রাত দুটা পর্যন্ত জেগেছিল বাবার জন্য। বলে, বাবা আম নিয়ে আসলে তারপর ঘুমাবে। এখনো বাবার জন্য অপেক্ষা করে ছেলেটা। সারাদিন দরজার সামনে ঘুরঘুর করে, কখন বাবা আসবে সেই অপেক্ষায়। শুধু বাবার কাছে যেতে চায়। বলে, বাবা না আসলে ঘুমাবে না, খাবে না, কিচ্ছু করবে না। এভাবেই তো প্রায় পাঁচ মাস চলে গেল। ছেলের বাবা আর আসেনি। ছেলেমেয়েকে নিয়ে সব জায়গায় ঘুরেছি। কত জায়গাতেই না চিঠি দিয়েছি স্বামীর খোঁজ পেতে। কিন্তু এখনো কেউ কোনো খবর দিতে পারেনি। লোকটা বেঁচে আছে না মরেই গেছে, সে কথাও তো জানি না ।
স্বামী না থাকায় দুই সন্তানকে নিয়ে আর্থিকভাবেও কষ্টে দিনাতিপাত করতে হচ্ছে নাসরিনকে। তিনি বলেন, টিউশনি করে কোনোমতে সংসার চালাচ্ছি। নাসরিন ধারণা করছেন, পুরোনো শত্রুতার জের ধরে কেউ হয়তো অপহরণ করে থাকতে পারে বাতেনকে। তিনি বলেন, বাতেনদের বাড়ি কিশোরগঞ্জের বাজিতপুরের কুকরারাই গ্রামে মিন্টু মিয়া নামে একজন খুন হন। ঐ মামলায় বাতেনকে আসামি করা হয়েছিল। বেসকুর খালাস পায় বাতেন। কিন্তু মিন্টু মিয়ার সন্তানরা বাতেনকেই খুনি মনে করেন। নাসরিন বলেন, বছর চারেক আগে (সন্ত্রাসী বাহিনী বাতেনের ওপর হামলা করেছিল। মিন্টুর ছেলেরাই এই হামলা করিয়েছিল। নিখোঁজ হওয়ার চার-পাঁচ দিন আগে বাতেন বলছিল, ওকে নাকি আবার মিন্টু মিয়ার ছেলেরা হুমকি দিয়েছে। ওরা নাকি বলেছে, প্রতিশোধ নেবে। আমার ভেবেছিলাম এই হুমকির জন্য জিডি করব। কিন্তু সেই জিডিও করা হলো না, তার আগেই মানুষটা নিখোঁজ হয়ে গেল।