জো ক স

 সত্যজিত্ বিশ্বাস

ভূতের সংজ্ঞা

ছোট বাচ্চা :বাবা, ভূত কী? 

বাবা :যার কথা ভাবলে ভয়ে আমাদের লোমকূপ দাঁড়িয়ে যায়, গা ছমছম করে, বুক ধুকপুক করে, আর চোখের সামনে পড়লে ভয়ে থরথর করে কাঁপতে কাঁপতে আমাদের মুখ থেকে একটা শব্দ বের হয় না, সেটাই ভূত।    

ছোট বাচ্চা :যাও বাবা, কী যে বলো! মা কী ভূত?

ভূত দিবস উদযাপন

 

প্রথম ভূত :ভূত দিবসটাকে কী করে উদযাপন করা যায়, বল তো?

দ্বিতীয় ভূত :উদযাপন! আমি আর থাকবই না মানুষের মাঝে। তার চেয়ে চলে যাব কোনো বনে জঙ্গলে। 

প্রথম ভূত :কেন রে?

দ্বিতীয় ভূত :এ যুগের পোলাপান ভয় তো পায় না মোটেই, উল্টো আমাদের কথা শুনলে দাঁত বের করে হাসে, কার্টুন বানায়, জোকস বানায়। এ অপমান আর সহ্য হয় না।

প্রথম ভূত :হুম। 

দ্বিতীয় ভূত :শুধু কী তাই? কেউ কিছু হারিয়ে ফেললে দিব্যি আমাদের ঘাড়ে দোষ চাপিয়ে দিয়ে বলে, এ নিশ্চয়ই ভূতের কারবার। দোষ না করেও আমাদের ঘাড়ে দোষ চাপানো! বল, তখন কেমন লাগে?

প্রথম ভূত :ঠিকই বলেছিস রে। চল তবে বনে গিয়েই উদযাপন করি।

নারীর নিরাপত্তা ও শান্তি সূচকে বাংলাদেশ

প্রথম বন্ধু :পেপারে পড়লাম, নারীর নিরাপত্তা ও শান্তি সূচকে বাংলাদেশ নাকি ১৬৭টি দেশের মধ্যে  ১৪২তম স্থানে?

দ্বিতীয় বন্ধু :আরে ধূর, সব ষড়যন্ত্র। আমাদের শান্তিতে নোবেল পুরস্কার না দেবার ষড়যন্ত্র।

ডেটিংয়ে একদিন

প্রেমিকা পেছন থেকে এসে পার্কে বসে থাকা প্রেমিকের চোখ চেপে ধরল।

প্রেমিকা :টুকি।

প্রেমিক :কে, কে?

প্রেমিকা :আরে আমি গো আমি। ভয় পেয়েছ?

প্রেমিক (বুকে থু থু ছিটিয়ে) :শোনো, এত মেকআপ করে আসবে না, ভূতের মতো লাগে।

প্রেমিকা :ভূত দেখতে কেমন, তুমি জানলে কী করে?

প্রেমিক :এর থেকেও বীভত্স হওয়া কি সম্ভব?

 

ভূত দেখতে কেমন

ছোট বাচ্চা :মা, ভূত দেখতে কেমন?

মা :একটুও সুন্দর না, অনেক ভয়ংকর। তাদের কাজই হলো সন্ধ্যার সময় ঘরে ঢুকে সবাইকে ভয় দেখানো।  

ছোট বাচ্চা :কী যে বলো মা? বাবা কি ভূত?

খুশির বার্তা

ভাগ্নে :খবর শুনেছ? বিশ্বব্যাংকের সহজে ব্যবসা সূচকে ১৯০ দেশের মধ্যে বাংলাদেশ ১৬৮তম।

মামা :তোদের এই এক সমস্যা। সবসময় নেগেটিভভাবে ভাবিস। এটা তো খুশির বার্তা।  

ভাগ্নে :খুশির বার্তা?

মামা :অবশ্যই। বাংলাদেশ থেকে ব্যবসা করে এত সহজে টাকা নিয়ে যাওয়া সম্ভব না, এই বার্তা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়াটা খুশির বার্তা না? 

 

আমার মামা সব জানে

ভাগ্নে :বিদ্যালয়ে অপরিষ্কার টয়লেট স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণ, আবার অন্যদিকে সীমিত পিয়ন/আয়া দিয়েও অসংখ্য ছাত্র-ছাত্রীর ব্যবহার করা টয়লেট পরিষ্কার রাখা সম্ভব না। কোনোভবেই কি টয়লেটগুলো পরিষ্কার, ঝকঝকে রাখা যায় না?  

মামা :যায় তো। টয়লেটগুলোতে তালা মেরে রাখলেই হয়।

 

বোতাম চেপে রাস্তা পার

পথচারী :এইবার আমরাই রাস্তার রাজা, সারাক্ষণ বোতাম চাপার উপরই থাকুম। 

চালক :হায়রে বেকুব, তোরা বোতাম চাপার উপরই থাক। আমরা গাড়ি থামাইলে তো।

 

বাণী

দালাল পেলে ক্রসফায়ার দেওয়া হবে :সাতক্ষীরার ডিসি। 

ইস, এমন ডিসি যদি প্রতি জেলায় একজন করে থাকত :জনৈক।

 

গৃহিণী দিবসে

প্রথম বন্ধু :কীরে গৃহিণী দিবসে গৃহ বাদ দিয়ে হাসপাতালে কেন?

দ্বিতীয় বন্ধু :আর বলিস না, সবই আমার কপালের দোষ।

প্রথম বন্ধু :কেন, কপাল আবার কী দোষ করল?

দ্বিতীয় বন্ধু :বউকে নিয়ে নদীর পাড়ে বসে বালুতে বউয়ের নাম লিখলাম, জল এসে সে নাম মুছে দিল। আকাশে নাম লিখতে চাইলাম, মেঘ এসে আকাশ ঢেকে দিল। কোনো কিছু না পেয়ে যেই হূদয়ে নাম লিখতে গেলাম, সাথে সাথে হার্ট অ্যাটাক হলো।

আসল বস

অফিস বস :আপনারা কে কে স্বর্গে যেতে চান?

(সবাই হাত তুললেও একজন হাত তুলল না)

অফিস বস :কী ব্যাপার? আপনি স্বর্গে যেতে চান না?

জনৈক কর্মচারী :স্যার, অন্য দিন হলে ভেবে দেখতাম। আজ কোথাও যেতে পারব না।

অফিস বস :কেন? আজকে কী?

জনৈক কর্মচারী :আজ তো গৃহিণী দিবস, বউ বলেছে, অফিস শেষে তাড়াতাড়ি বাড়ি ফিরতে।

নোবেল সমাচার

প্রথম বন্ধু :বল তো, কোন বিষয়ে নোবেল পুরস্কার দিলে বাংলাদেশে নোবেল পুরস্কার আসতই আসত?

দ্বিতীয় বন্ধু :সমালোচনায়।

দামি হলে না দেয়াই ভালো

শিক্ষক :আজ তোমাকে অত্যন্ত দামি কিছু উপদেশ দেব।

ছাত্র :প্লিজ স্যার, দামি হলে না দেয়াই ভালো।

শিক্ষক :কেন?

ছাত্র :ইদানীং আমাদের পাড়ায় খুব চুরি হচ্ছে। যাদের বাসায় দামি কোন জিনিস আছে, তাদের বাসাতেই চুরি হচ্ছে।