রাজধানীর ধানমন্ডিতে শিল্পপতির ফ্ল্যাটে জোড়া খুনের পর বাসা থেকে বেরিয়ে যাওয়া সেই নতুন গৃহকর্মী সুরভীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গতকাল রবিবার রাতে পুলিশ তাকে শেরেবাংলা নগর থানা এলাকা থেকে গ্রেফতার করে। তবে সন্দেহের শীর্ষে রয়েছে দারোয়ান বাচ্চু। এদিকে গতকাল রবিবার ধানমন্ডি থানায় অজ্ঞাত পরিচয় এক নারীকে (নতুন গৃহকর্মী সুরভী) আসামি করে একটি মামলা হয়। নিহত আফরোজা বেগমের মেয়ে অ্যাডভোকেট দিলরুবা সুলতানা রুবা বাদী হয়ে ঐ মামলা করেন।
শেরেবাংলা নগর থানা সূত্র জানিয়েছে, গতকাল রাত সাড়ে ৯টার দিকে পুলিশ ঐ থানা এলাকার একটি হাসপাতালের সামনে থেকে সুরভীকে গ্রেফতার করে। পরে তাকে ধানমন্ডি থানায় হস্তান্তর করা হয়। এছাড়া তদন্ত সংশ্লিষ্টরা জানান, নুরুজ্জামান ও বাচ্চুকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করে এখনো জিজ্ঞাসাবাদ অব্যাহত আছে। তারা এখনো হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে সঠিক কোনো তথ্য দেয়নি। তবে পুলিশের ধারণা, এ জোড়া খুনের ঘটনায় প্রধান সন্দেহভাজন বাচ্চু হলেও মূল কাজটি করেছেন সুরভী। সূত্র জানিয়েছে, থানা পুলিশের পাশাপাশি এ ঘটনার ছায়া তদন্ত করছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) ও র্যাব।
গত শুক্রবার রাতে ধানমন্ডি ২৮ নম্বর (নতুন ১৫) রোডের একটি ভবনের চতুর্থ তলা থেকে টিমটেক্স গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কাজী মনির উদ্দিনের শাশুড়ি আফরোজা ও তার গৃহকর্মী দিতির (১৯) লাশ উদ্ধার করা হয়। দুই জনকেই গলা কেটে হত্যা করা হয়। পাঁচতলার ঐ ফ্ল্যাটে আফরোজা বেগম ও তার গৃহকর্মী দিতি থাকতেন। উলটো দিকের ফ্ল্যাট এবং তার ঠিক ওপরে পাঁচ তলার ডুপ্লেক্সে বাসার ফ্ল্যাটে স্বামী-সন্তান নিয়ে থাকেন আফরোজার মেয়ে দিলরুবা। রুবার স্বামী মনির উদ্দিন তারিম দাবি করেছেন, শুক্রবার তার বাসায় নতুন এক গৃহকর্মী (সুরভী) কাজে এসেছিল। নিরাপত্তাকর্মী বা কর্মচারীদের যোগসাজশে ঐ ‘কাজের বুয়াই’ এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে বলে তার সন্দেহ।
গতকাল দায়ের করা মামলার এজাহারে দিলরুবা সুলতানা রুবা বলেন, তাদের বাসার পুরোনো কাজের লোক আতিকুল হক বাচ্চুর বাড়ি ময়মনসিংহের পাগলা থানার মুখি গ্রামে। তার বাবার নাম আব্দুল হেকিম। গত ১ নভেম্বর বিকাল সাড়ে তিনটার দিকে বাচ্চু একজন নতুন কাজের মেয়ে (সুরভী) নিয়ে আসে তার বাসায়। নতুন কাজের মেয়েকে আমি বাচ্চুর সঙ্গে আমার মায়ের বাসায় পাঠিয়ে দেই। পরবর্তীতে ক্লোজ সার্কিট টেলিভিশন ভিডিওতে (সিসিটিভি) তার চলে যাওয়ার দৃশ্য পাওয়া গেছে।
মামলার এজাহারে দিলরুবা সুলতানা রুবা বলেন, আমার ধারণা আতিকুল হক বাচ্চুর আনা নতুন কাজের মেয়েটি অজ্ঞাতনামা সহযোগীদের নিয়ে সুকৌশলে বাসায় ঢুকে আমার মা ও পুরোনো কাজের মেয়ে দিতিকে হত্যা করে স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা নিয়ে পালিয়ে যায়।