ঢাকা মহানগর উত্তর-দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সম্মেলন মধ্য ডিসেম্বরে

 ‘অনুপ্রবেশকারী ও বিতর্কিতরা বাদ পড়বেন’

মেহেদী হাসান

আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সম্মেলন আগামী ১০ থেকে ১৫ ডিসেম্বরের মধ্যে করার নির্দেশ দিয়েছেন। দুই মহানগরের শীর্ষ চার নেতাকে গতকাল রবিবার সকালে প্রধানমন্ত্রীর এই নির্দেশ জানিয়ে দিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। নির্দেশনা পাওয়ার সত্যতা স্বীকার করে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহে আলম মুরাদ ইত্তেফাককে জানান, ‘আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সকালে আমাকে বলেছেন, ডিসেম্বরের ১০ থেকে ১৫ তারিখের মধ্যে সম্মেলন করতে। আমরা সেভাবেই প্রস্তুতি নিচ্ছি।’

২০১২ সালের ২৭ ডিসেম্বর ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের ত্রিবার্ষিক সম্মেলন হয়। এর তিন বছর পর ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগকে দুই ভাগে বিভক্ত করা হয়। ২০১৬ সালের ১০ এপ্রিল মহানগর আওয়ামী লীগ উত্তর-দক্ষিণ, ৪৫টি থানা এবং ১০০টি ওয়ার্ড ও ইউনিয়নের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকদের নাম ঘোষণা করেন আওয়ামী লীগের তত্কালীন সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম। তখন ঢাকা মহানগর উত্তরে আওয়ামী লীগের সভাপতি করা হয় এ কে এম রহমতুল্লাহ ও সাধারণ সম্পাদক করা হয় সাদেক খানকে। দক্ষিণের সভাপতি হন হাজি আবুল হাসনাত ও সাধারণ সম্পাদক হন শাহে আলম মুরাদ। ক্ষমতাসীন দলের গুরুত্বপূর্ণ এই দুই শাখার সম্মেলনের দিন তারিখ ঢাকা ও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনের তারিখ দেখে নির্ধারণ করার কথা কয়েকদিন আগে জানিয়েছিলেন ওবায়দুল কাদের।

আগামী জানুয়ারিতে একই দিনে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরশনে ভোট করা হবে বলে গতকাল জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনের জ্যেষ্ঠ সচিব মো. আলমগীর।

সূত্র জানায়, আসন্ন ঢাকা মহানগর উত্তর-দক্ষিণের সম্মেলনে অনুপ্রবেশকারী ও বিতর্কিতরা বাদ পড়বেন। ইতিমধ্যে বিতর্কিতদের তালিকা প্রস্তুত করেছেন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। দলের প্রবীণ নেতা ও বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সার্বিক সহযোগিতায় এ তালিকা তৈরি করেন তিনি। তিনি মহানগর আওয়ামী লীগের আসন্ন সম্মেলনে বিতর্কিতদের বাদ দিয়ে নতুন নেতৃত্ব আনার চিন্তা-ভাবনা করছেন। এ রদবদল প্রধানমন্ত্রীর চলমান শুদ্ধি অভিযানের অংশ। এদিকে সম্মেলন আসায় দলীয় কার্যক্রম, নেতাকর্মীদের উজ্জীবিত, সাংগঠনিক শক্তি বৃদ্ধি, জাতীয় নির্বাচনে জয়ের লক্ষ্যে ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ আওয়ামী লীগে চলছে রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা। নেতাকর্মীদের একত্রিত করে দল গোছাতে এমন প্রতিযোগিতায় নেমেছেন দায়িত্বপ্রাপ্ত সংগঠনের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকসহ সিনিয়র নেতারা। প্রসঙ্গত, ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ আওয়ামী লীগে সাংগঠনিক থানা রয়েছে ৫০টি, ওয়ার্ড ১৪২টি এবং ইউনিয়ন ১৭টি।