বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির চার দিনব্যাপী দশম কংগ্রেসের গতকাল রবিবার দ্বিতীয় দিনে চারটি রাজনৈতিক প্রস্তাব গৃহীত হয়েছে। এসব প্রস্তাবনায় বলা হয়েছে, সামষ্টিক অর্থনীতির বহু ইতিবাচক চিত্রের পাশাপাশি ব্যষ্টিক অর্থনীতির নেতিবাচক দিকগুলো স্পষ্টভাবে দৃশ্যমান হচ্ছে। অর্থনীতির এই উন্নয়ন শ্রমিক-কৃষকসহ শ্রমজীবী ও নিম্ন আয়ের মানুষের কাছে যেতে পারেনি। ঘুষ, দুর্নীতি, দলীয় সংকীর্ণতা ও আমলাতান্ত্রিক দুর্নীতির সর্বব্যাপী আগ্রাসী প্রসার জনজীবনে গভীরভাবে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। ধনি-গরিবের বৈষম্য বেড়েছে লাগামহীনভাবে।
কংগ্রেস মনে করে, সামাজিক নিরাপত্তার জন্য গৃহীত প্রকল্পগুলো দুর্নীতি, দলীয় সংকীর্ণতায় সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছাচ্ছে না। বেকারত্ব, কাজের অনিশ্চয়তা, মাদকাসক্তি গোটা যুব সমাজকে হতাশার গভীরে ঠেলে দিচ্ছে। বেকারের সংখ্যা ১ কোটি ২০ লাখ প্রায়। এই পরিস্থিতি মুক্তিযুদ্ধের ঘোষণা ও সংবিধানে সামাজিক ন্যায় বিচার, মানবিক মর্যাদা ও সমতা বিধানের যে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল তা এখন দূরের বস্তুতে পরিণত হয়েছে।
কংগ্রেস অধিবেশনের দ্বিতীয় দিনে প্রথমেই সেশন পরিচালনার জন্য প্রেসিডিয়াম নির্বাচিত হয়। প্রেসিডিয়াম সদস্যরা হলেন— রাশেদ খান মেনন, ফজলে হোসেন বাদশা, আনিসুর রহমান মল্লিক, হাজেরা সুলতানা, আমিনুল ইসলাম গোলাপ ও হাজি বশিরুল আলম। রাজনৈতিক প্রস্তাব পেশ করেন ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক ফজলে হোসেন বাদশা। দলের সদস্যদের আর্থসামাজিক অবস্থান, সদস্যপ্রাপ্তির বছর—ইত্যাদি জানার জন্য ক্রেডেনশিয়াল কমিটি ঘোষণা করা হয়। এই কমিটির আহ্বায়ক নজরুল ইসলাম হাক্কানী এবং সদস্য করা হয়েছে নজরুল হক নীলু ও কিশোর রায়কে।