বদলির প্রজ্ঞাপন জারির পরও এখনো কর্মস্থলে যোগ দেননি টাঙ্গাইল ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে পদায়িত হওয়া ইমারজেন্সি মেডিকেল অফিসার ডা. মো. ইবনুল হাসান। পাঁচ মাসের বেশি সময় পার হয়ে যাওয়ার পরও তিনি নিজ কর্মস্থলে বহাল থাকতে তদবির চালিয়ে যাচ্ছেন বলে অভিযোগ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের। তবে ইবনুল হাসান অভিযোগটি অস্বীকার করেছেন।
জানা যায়, চলতি বছর মে মাসের ১৬ তারিখ স্বাস্থ্য অধিদফতরের এক প্রজ্ঞাপনে এই কর্মকর্তার বদলির আদেশ দেওয়া হয়। তবে প্রজ্ঞাপনের ৫ মাস পেরিয়ে গেলেও কর্মস্থলে না যাওয়ায় তার কাছে চিঠি পাঠায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। তবে দুই মাস পেরিয়ে গেলেও সেই চিঠির জবাব দেননি তিনি।
হাসপাতালটির তত্ত্বাবধায়ক ডা. নারায়ন সাহা বলেন, প্রজ্ঞাপনটি আমরা ৬ মাস আগে পেয়েছিলাম। তবে ডা. মো. ইবনুল এখানে যোগ না দেওয়ার কারণ জানতে চেয়ে চিঠি পাঠাই। সেই চিঠির জবাব দেননি তিনি। তাছাড়া পদায়নের পর থেকে কোন ধরণের যোগাযোগও করেননি তিনি। এরপর আর কিছুই জানি না।
ডা. মো. ইবনুল হাসান জানান, আমার বদলি হয়েছে। তবে এই বিষয়টি নিয়ে আমি কাজ করছি। এখানে কাগজপত্রের জটিলতা রয়েছে। এসব শেষ হলেই কাজে যোগ দেব।
তবে কাগজপত্রে কি ধরণের জটিলতা রয়েছে জানতে চাইলে সে বিষয়ে স্পষ্ট করে কোন কথা বলতে চাননি তিনি। জানা গেছে রাজধানীর ধানমন্ডির ১৩ নম্বর রোডে অবস্থিত 'আরএক্স ৭১' নামের একটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে তার সম্পৃক্ততার বিষয়েও তথ্য পাওয়া গেছে। এই প্রতিষ্ঠানটি দেশের বিশেষজ্ঞ ডাক্তারদের সঙ্গে রোগীর অ্যাপয়েন্টমেন্টের ব্যবস্থা করে যার বিনিময়ে রোগীদের কাছ থেকে নির্দিষ্ট পরিমাণে ফি আদায় করে। জানা গেছে এই প্রতিষ্ঠানে ড. ইবনুলের পক্ষ হয়ে কাজ করছেন তার ভাই।
এ বিষয়ে প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে নাম প্রকাশ না করার শর্তে প্রতিষ্ঠানের একজন উদ্যোক্তা জানান, আসলে তিনি সরকারি কর্মকর্তা। তাই সরাসরি এখানে তার নাম দিতে নিষেধ করেছেন। তার ভাইকে এখানে যুক্ত করা হয়েছে। তিনি আমাদের ডাক্তারদের সিরিয়াল নেওয়ায় বিষয়ে সাহায্য করেন। স্বাস্থ্য অধিদফতরে কাজ করার সুবাদে ডাক্তারদের সঙ্গে তার সম্পর্ক ভালো।
ইত্তেফাক/জেডএইচ