উদ্দীপক: সানমুন ও পায়েল একই শিল্প ইউনিটের দুটি শাখার শাখা ব্যবস্থাপক। সানমুন চৌকস ও দক্ষ হওয়াতে তিনি তার শাখা সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করতে পারেন। তাছাড়া তার প্রতিষ্ঠানের বেশির ভাগ কাজ সম্পর্কে তার স্বতন্ত্র ধারণা রয়েছে। ফলে তার শাখা হতে ভালো মুনাফা হচ্ছে। অপরদিকে পায়েল সত্ ও উত্তম স্বভাবের হলেও চৌকস ও প্রাণচঞ্চল না হওয়াতে তিনি দক্ষতার সাথে তার শাখা পরিচালনা করতে পারেন না। ফলে তার উত্পাদন কম হচ্ছে। মুনাফাও তুলনামুলক কম হচ্ছে। তার উচিত হচ্ছে কর্মীদের সাথে মিশে তাদেরকে উত্সাহ ও উদ্দীপনা দিয়ে তাদের থেকে কাজ আদায় করে নেয়া।
ক) আদর্শ ব্যবস্থাপকীয় দক্ষতা কী?
খ) ব্যবস্থাপনা ও প্রশাসনের মধ্যে সম্পর্ক কোথায়?
গ) উপরের উদ্দীপকে সানমুন এর সফলতায় কোন ধরণের ব্যবস্থাপকীয় দক্ষতা পরিলক্ষিত হয়েছে? আলোচনা করো?
ঘ) উদ্দীপকে পায়েল কোন ধরণের ব্যবস্থাপকীয় দক্ষতা নিয়ে এগিয়ে যেতে পারে? তোমার মতামত দাও।
উদ্দীপকের ক নং প্রশ্নের উত্তর: প্রতিষ্ঠানের লক্ষ্য,সামর্থ্য ও সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে উপকরণের সঠিক ব্যবহার করে নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে প্রত্যাশিত ফলাফল অর্জন করাকে ব্যবস্থাপকীয় দক্ষতা বলা হয়।
উদ্দীপকের খ নং প্রশ্নের উত্তর: উপায় উপকরণাদির কার্যকর ব্যবহার করে লক্ষ্যে পৌঁছানোর জন্য পরিকল্পনা, সংগঠন ও নিয়ন্ত্রণ কার্যকে ব্যবস্থাপনা বলা হয়। ব্যবস্থাপনার উপরি পর্যায়ে অধিষ্ঠিত ব্যক্তি বা ব্যক্তিবর্গের প্রয়াস বা প্রচেষ্টাকে প্রশাসন বলা হয়।
উপরোক্ত আলোচনা থেকে প্রতীয়মান হয় যে, ব্যবস্থাপনার উপরি পর্যায়ে অধিষ্ঠিত ব্যক্তিবর্গকে প্রশাসন বলা হয়। এই প্রশাসন প্রতিষ্ঠানের মস্তিস্কের ন্যায় প্রতিষ্ঠানিক নীতি পদ্ধতি নির্দিষ্ট করে। অপর দিকে সংগঠন কিভাবে চলবে ব্যবস্থাপনা তার পথ প্রদর্শন করে বা উপায় উপকরণ কীভাবে কার্যকর রূপে ব্যবহূত হবে তার উপায় নির্দেশ করে। তাই প্রশাসনকে মস্তিস্ক বলা হলে ব্যবস্থাপনাকে চক্ষু বলা যাবে। অর্থাত্ একটি ছাড়া আরেকটি অচল।
উদ্দীপকের গ নং প্রশ্নের উত্তর: উপরের উদ্দীপকে সানমুন এর সফলতায় আদর্শ ব্যবস্থাপকের কারিগরি দক্ষতা ফুটে উঠেছে।
কোনো নির্দিষ্ট কাজ সম্পাদনে যে বিশেষ পদ্ধতি কলা-কৌশল বা যন্ত্রপাতি ব্যবহূত হয় তা সঠিকভাবে ব্যবহার করতে পারাই হলো কারিগরি দক্ষতা।
একটি নির্দিষ্ট কাজ কীভাবে করতে হবে সে সংক্রান্ত বিশেষ ও স্বতন্ত্র ধারণাকে কারিগরি দক্ষতা বলে। উপরের উদ্দীপকে সানমুন একটি শাখার চৌকস শাখা ব্যবস্থাপক। তার কাজ সম্পর্কে স্বতন্ত্র ধারণার কারণে শাখা সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করতে পারেন। আর এই স্বতন্ত্র ধারণা বা কাজ সংক্রান্ত বিশেষ ধারণাকে কারিগরি দক্ষতা বলা হয়। এই কারিগরি দক্ষতা মধ্য ও নিম্নস্তরের ব্যবস্থাপকদের জন্য খুবই প্রয়োজন।
উদ্দীপকের ঘ নং প্রশ্নের উত্তর: উদ্দীপকে পায়েল মানবীয় বা আন্ত:ব্যক্তিক দক্ষতা নিয়ে এগিয়ে যেতে পারেন।
প্রতিষ্ঠানের অধীনস্ত কর্মীদের দিয়ে কাজ করিয়ে নেয়ার জন্য আন্ত; যোগাযোগ প্রতিষ্ঠা এবং কর্মীদের প্রভাবিত ও অনুপ্রাণিত করার সামর্থকে মানবীয় সম্পর্কগত দক্ষতা বলা হয়। এক্ষেত্রে ব্যক্তি বা দলকে বোঝে তাদের প্ররোচিত বা উত্সাহিত করার সামর্থকে বোঝায়। উক্ত উদ্দীপকে পায়েল সত্ ও উত্তম স্বভাবের হলেও চৌকস ও প্রাণচঞ্চল না হওয়াতে তিনি দক্ষতার সাথে তার শাখা পরিচালনা করতে পারেন না। ফলে তার উত্পাদন ও মুনাফা তুলনামূলক কম হচ্ছে। তার উচিত হচ্ছে কর্মীদের সাথে মিশে তাদেরকে উত্সাহ ও উদ্দীপনা দিয়ে তাদের থেকে কাজ আদায় করে নেয়া। আর এই উত্সাহ ও উদ্দীপনাই হলো আন্ত: ব্যক্তিক দক্ষতা।একজন আদর্শ ব্যবস্থাপকের চার ধরনের দক্ষতা থাকলেও মানবীয় দক্ষতা হিসেবে আন্ত:ব্যক্তিক দক্ষতা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই স্তরে কর্মীদের মন বোঝে কাজ করতে হয় তাদের থেকে কাজ আদায় করে নিতে জানতে হয় এবং কর্মীদেরকে প্ররোচিত করতে হয়। মি:পায়েলকে প্রতিষ্ঠানের বাহ্যিক সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গের সাথেও আন্ত:ব্যক্তিক সম্পর্ক গড়ে তুলতে হবে।