হাল সময়ে তরুণ-তরুণীরা ঝঁকুছে কালারফুল ওয়েস্টার্ন পোশাকের দিকে। তবে শুধু ফ্যাশনের প্রয়োজনে কালারফুল ও ডিজাইন বৈচিত্র্যের পোশাক পছন্দ করে কিনলেই হবে না। কেননা হালকা শীতের এই সময়ে পছন্দের পোশাকটি পরার পর যেন আরাম পাওয়া যায়, তাও নিশ্চিত করতে হয়। চলতি ফ্যাশনে ওয়েস্টার্ন ধাঁচের কামিজ বা কুর্তি নিয়ে লিখেছেন নওশীন শর্মিলী
বর্তমান ট্রেন্ডে তরুণ-তরুণীদের কালারফুল ওয়েস্টার্ন পোশাকের দিকে ঝোঁকটা বেশি। সঙ্গে সমকালীন ডিজাইন আর পরিচ্ছন্ন মর্ডান লুকের দিকেও সবার নজর থাকে। সেইসাথে পোশাকী ক্যানভাসে যেন প্যাটার্ন ও ডিজাইন বৈচিত্র্যের মেলবন্ধনটাও সুদৃঢ় হয়। কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়পড়ুয়া তরুণ-তরুণী থেকে শুরু করে এক্সিকিউটিভ লেভেলের নারী-পুরুষেরাও আজকাল ওয়েস্টার্ন পোশাক পরছেন। ওয়েস্টার্ন পোশাকের সঙ্গে ওয়েস্টার্ন লুকটাও খুব জরুরি। ইউনিভার্সিটি পড়ুয়া অধিকাংশ মেয়েরা ওয়েস্টার্ন পোশাক পরতেই বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। তাদের অনেকের ভাষ্যে, ‘হালকা শীতের এই সময়ে সালোয়ার-কামিজের চেয়ে ওয়েস্টার্ন পোশাক পরতেই আমরা পছন্দ করি। আর ওয়েস্টার্ন পোশাকে আরামও পাওয়া যায়, তেমনি ফ্যাশনটাও ঠিক থাকে।’ বর্তমান সময়ে ওয়েস্টার্ন পোশাকে এসেছে নানা বৈচিত্র্য। কামিজ বা কুর্তিতে নকশি কারুকাজ এখন চলছে বেশ। এছাড়া ওয়েস্টার্ন পোশাকের মধ্যে টিউনিকের কথা আলাদা করে না বললেই নয়। হাল ফ্যাশনে এটি চলছে বেশ। তরুণীদের কাছে কামিজের জায়গায় ট্রেন্ডি টিউনিক টপস বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। কুর্তি ও টিউনিকের মধ্যে কিছু পার্থক্য রয়েছে। কুর্তি হল কামিজেরই একটি আলাদা স্টাইল। সেক্ষেত্রে টিউনিক টপস ও দেশি স্টাইলের ফিউশন।
পোশাকে নানা বৈচিত্র্য পছন্দ করেন ফ্যাশনপ্রেমী তরুণীরা। সব সময় একই ধাঁচের পোশাক পরা থেকেও তাই মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন তারা। নানা ধাঁচের, নানা নকশার দিকে চোখ রাখছেন তারা। আর তারুণ্য মানেই রঙিন :নানা রঙের মেলায় নিজেকে হারিয়ে ফেলা, চোখ ধাঁধানো হরেক রকম রং থেকে নিজের পছন্দটি খুঁজে বের করা। তাই তো এই সময়ের রঙিন সব ওয়েস্টার্ন পোশাক পরতেই বেশি পছন্দ করছেন তরুণীরা। তারা ফিটিং টিউনিক টপস, শার্ট, স্টাইলিশ কুর্তা বেছে নিচ্ছেন অনায়াসেই। পার্টি বা দৈনন্দিন পোশাক হিসেবে অনেকেই পছন্দ করেন ফ্যাশনেবল কালারফুল টপস বা কুর্তা। টপসের দৈর্ঘ্য আগের তুলনায় দিন দিন বাড়ছে। দেশীয় উপাদানের সঙ্গে ওয়েস্টার্ন কাট যুক্ত হয়েছে। আগে শর্ট টপসের প্রচলন বেশি থাকলেও এখন হাঁটু সমান বা তার থেকে লম্বা টপসের প্রচলন বেশি দেখা যায়। ঘরে সাধারণ পোশাক হিসেবে স্কার্ট, টপস তো বটেই, এমনকি বাইরে চলাফেরায়ও তরুণীরা এই ওয়েস্টার্ন কালেকশনের পোশাক, যেমন :জিন্স, শার্ট, টপসকে বেছে নিচ্ছেন। আধুনিকতার জন্যই মূলত ওয়েস্টার্ন পোশাক বিশ্বব্যাপী জায়গা করে নিয়েছে।
বর্তমানে ওয়েস্টার্ন পোশাকগুলোর কাপড়ে ও বুননে দেওয়া হচ্ছে দেশীয় আমেজ। বর্তমান ট্রেন্ডে দেশীয় ঐতিহ্যবাহী পোশাক থেকে শুরু করে ওয়েস্টার্ন পোশাকও আছে তরুণীদের পছন্দের তালিকায়। যারা ফ্যাশন-সচেতন, তাদের কাছে দেশীয় পোশাক যেমন পছন্দের, একই সঙ্গে তারা পছন্দ করেন ওয়েস্টার্ন পোশাকও। দেশীয় ও পশ্চিমা দুইয়ের সংমিশ্রণে তৈরি ডিজাইনের গাউন পরতে বেশি পছন্দ করছেন তরুণীরা। পার্টি বা দৈনন্দিন পোশাক হিসেবে অনেকেই পছন্দ করেন ফ্যাশনেবল টপস বা কুর্তা। টপসের দৈর্ঘ্য আগের তুলনায় বেড়েছে। দেশীয় উপাদানের সঙ্গে ওয়েস্টার্ন কাট যুক্ত হয়েছে। আগে শর্ট টপসের প্রচলন বেশি থাকলেও এখন হাঁটু সমান বা তার থেকে লম্বা টপসের প্রচলন বেশি দেখা যায়। কোনোটা আবার সামনের দিকে হাঁটু সমান দৈর্ঘ্যের হলেও পেছনে ঝুলটা পা পর্যন্ত লম্বা রাখা হয়েছে।
ওয়েস্টার্ন পোশাকের মধ্যে টিউনিকের কথা আলাদা করে না বললেই নয়। কারণ হাল ফ্যাশনে এটি চলছে বেশ। তরুণীদের কাছে কামিজের জায়গায় ট্রেন্ডি টিউনিক টপস বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। কুর্তি ও টিউনিকের মধ্যে কিছু পার্থক্য রয়েছে। কুর্তি হলো কামিজেরই একটি আলাদা স্টাইল। সেক্ষেত্রে টিউনিক টপস ও দেশি স্টাইলের ফিউশন। আসলে দেশীয়ভাব বজায় রেখে ওয়েস্টার্ন পোশাকের প্যাটার্নে তৈরি করা হয় টিউনিক। তরুণীদের কাছে এই পোশাক বেশ জনপ্রিয়। জিন্স বা পালাজ্জোর সঙ্গে সহজেই মানিয়ে যায়। চাইলে স্কার্ট বা ধুতি-পায়জামার সঙ্গে মিলিয়ে পরা যায়।
ফ্যাশনে ভিন্নতার জন্যই নতুন প্রজন্মের কাছে টিউনিক বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। তাছাড়া যেকোনো পরিবেশের সঙ্গেই মানিয়ে যায়। টিউনিকের ডিজাইনে ভিন্নতা আনার স্বাধীনতা রয়েছে। কাপড়ের ধরন বুঝে চাইলেই মনমতো ডিজাইন ফুটিয়ে তোলা যায়। টিউনিকের নিচের অংশ, গলার স্টাইল, হাতা বিভিন্ন ক্ষেত্রেই নতুনত্ব আনার সুযোগ রয়েছে। প্রতি দিনের পোশাক হিসেবে টিউনিক বেশ মানানসই। থ্রিকোয়ার্টার ও ফুলস্লিভ টিউনিক টপসগুলো পরতে বেশ আরামদায়ক। অন্যদিকে এসব পোশাকই আবার অনায়াসে মানিয়ে যাবে টিন থেকে ৩০-এর কোটায় আছেন এমন নারীকে। তবে এ ক্ষেত্রে কাট ও নকশায় কিছুটা পরিবর্তন আসবে। টপসের রং গাঢ় না হলেই মানিয়ে যাবে বয়স ও ব্যক্তিত্বের সঙ্গে। পার্টি বা দৈনন্দিন পোশাক হিসেবে অনেকেই পছন্দ করেন ফ্যাশনেবল কালারফুল টপস বা কুর্তা। আর এসব পোশাকের মধ্যে প্রাধান্য পাচ্ছে উজ্জ্বল রং। আপনার পছন্দের কালারফুল ওয়েস্টার্ন পোশাক পাবেন ফ্যাশন হাউস এক্সটেসি, ক্যাটস আই, ট্রেন্জ, ইয়ালো, জেন্টল পার্ক, ইয়াংকের বিভিন্ন আউটলেটে।
ওয়েস্টার্ন পোশাকের সঙ্গে সাজসজ্জা হতে হবে মানানসই। ওয়েস্টার্ন ড্রেস দুই ধরনের হয়। ক্যাজুয়াল ও ফরমাল। ক্যাজুয়াল ড্রেস আর ফরাল ড্রেসের সাজ অবশ্যই ভিন্ন ধরনের হবে। ফরমাল প্যান্ট-শার্ট পরলে সাজগোজ হবে একদমই সীমিত। হালকা মেকআপের সঙ্গে হালকা অর্নামেন্টস। এ ধরনের পোশাক সাধারণত কর্মক্ষেত্রে পরা হয়। এর বাইরে বন্ধুদের আড্ডা, পার্টি কিংবা দাওয়াতে পছন্দসই টিউনিক, টি-শার্ট, কুর্তি কিংবা গাউন—যাই পরুন না কেন, সাজটা মানানসই নিতে হবে। যদি আপনি টি-শার্টের সঙ্গে বড় একটি টিপ আর চুলে ফুল গুঁজে পরেন, তাহলে দেখতে ভীষণ বাজে লাগবে। তাই সাজটা হতে হবে বুঝেশুনে। টি-শার্ট, কুর্তি ইত্যাদির সঙ্গে বড় পুঁতির মালা, হাতে মোটা বালা বেশ মানাবে। আবার জমকালো গাউন পরলে গয়না একটু হালকা পরার চেষ্টা করবেন। মেকআপ সব সময়ই যতটা ন্যাচারাল রাখা যায়, ততই ভালো। রাতের দাওয়াত হলে চোখের সাজটা স্মোকি করতে পারেন।
মডেল অন্তরা ও চাঁদনী
পোশাক ইয়াংকে
ছবি বিশ্বজিত্ সরকার