সাজানো ডাইনিং টেবিল

 

একটি সুন্দর সাজানো ডাইনিং রুমে অতিথিকে লাঞ্চ অথবা ডিনারে নিমন্ত্রণ জানাতে কার না ভালো লাগে! ডাইনিং রুমের সাজে একটা স্মার্ট ফ্যাশনেবল ডাইনিং টেবিল অপরিহার্য। বিভিন্ন ডাইনিং স্টাইল নিয়ে এবারের এই আয়োজন। লিখেছেন লোপা চৌধুরী

একসময় একটা কথা খুব প্রচলিত ছিল—‘এসো বসো আহারে’। ছোট্ট এই কথাটিতেই তখনকার দিনের জমজমাট সমাহারের স্পষ্ট ইঙ্গিত মেলে। লাল মেঝেতে কাঠের চওড়া পিঁড়ি কিংবা লাল পাড় বসানো বাপ-দাদার তৈরি আসনে বসার ব্যবস্থা। অথবা শ্বেত পাথরের টেবিল এবং তার সাথে কারুকাজ করা ভারী কাঠের চেয়ার। লাইফস্টাইল বদলের সঙ্গে সঙ্গে এই সকল চিত্রেরও পরিবর্তন এসেছে। পাল্টেছে আসবাবপত্র ও সরঞ্জামের চিত্রও। কিন্তু মূল সুরটি অপরিবর্তিতই থেকে গেছে। খাওয়ার সময় আরাম, আয়াসের প্রয়োজন আজও। তা সে আসনই হোক কিংবা রট আয়রনের কুশনড চেয়ার, লাল মেঝে কিংবা উডেন ফ্লোর। ডাইনিং রুমের সজ্জা ঠিক কেমন হবে তা নির্ভর করবে আপনার ঘরের আয়তন, ব্যবহারিক প্রয়োজন, অন্যান্য ঘরের অন্দর সাজের ওপর।

যদি খাবার ঘরটি মোটামুটি বড়ই হয় তবে বাড়ির অন্য আসবাবপত্রের সঙ্গে মিল রেখে বেশ একটা পুরোনো মেজাজে সাজানো যায় তা। ওভার শেপের মেহগনি রাঙা ডাইনিং টেবিলে উজ্জ্বল লাল ম্যাট, রাজস্থানি কোস্টার, লাল বর্ডারের সাদা চিনেমাটির প্লেট ও ডিজাইন করা গ্লাস ডাইনিংয়ের স্টাইলটিতে যোগ করতে পারে এক অনন্য মাত্রা। এর সঙ্গে যোগ হতে পারে হ্যাংঙ্গিং ল্যাম্প শেডে ইস্থেটিক টাচ। খাবার ঘর থেকে অন্য ঘরে যাওয়ার প্যাসেজে সামান্য একটা লাল পর্দাতেই সাজ সম্পূর্ণ হতে পারে। এখানেই অন্দর সাজের মুন্সিয়ানা। বাড়ি সাজানো মানেই যে এক গাদা খরচ করতে হবে তা কিন্তু নয়। যথাযথ পরিকল্পনা, রঙের কম্পোজিশন ও ব্যবহারিক দিকটা মাথায় রেখে সাজানোয় হাত দিলেই কেল্লা ফতে। পুরোনো আসবাবে ফেলে আসা দিনের নস্টালজিয়ার সঙ্গে সঙ্গে মন খারাপেরও একটা বিষয় থাকে। সাজে উজ্জ্বল লাল রঙের সংযোজনে উষ্ণতা ফিরে পায়, তৈরি হয় প্রার্থিত পরিবেশ। আবার ঘর যদি ছোট হয়, তবে আসবাবপত্র যথাসম্ভব সিম্পল রাখুন। কারুকাজ করা, কার্ভ এড়িয়ে চলুন। স্ট্রেট লাইন ফার্নিচার ব্যবহার করলে ভালো দেখাবে, জায়গা কম নেবে। যেমন হতে পারে—কিচেন আর মূল ঘরের মাঝের প্যাসেজটুকুই একধারে বসার এবং একধারে প্লেন অ্যান্ড সিম্পল চৌকা একটা কাঠের টেবিল এবং সাধারণ চেয়ারে খাবার ব্যবস্থা। স্ট্রেট ব্যাকড চেয়ার ও টেবিলে চারজনের বসার ব্যবস্থায় স্থানাভাববশত কোনো বাহুল্য থাকবে না। তবে টেবিল চেয়ার ছোট ও সিম্পল হলেও ভ্যালু অ্যাডিশন করতে ব্যবহার করতে পারেন উজ্জ্বল সবুজ ম্যাট আর চেয়ারে ডিম্বাকৃতির দড়িবাঁধা কুশন। ঝাড়বাড়ির শখ থাকলেও ছোট্ট বাড়িতে বেমানান। মেলা বা খুচরা দোকান থেকে কেনা ল্যাম্পশেডের বিভিন্ন পিস জুড়ে জুড়ে ঝাড়ের আদলে তৈরি করতে পারেন। আসলে ইন্টেরিয়র ডেকরেশন হলো একটা ক্রিয়েটিভ প্রসেস। কিছু ব্যাকরণসম্মত নিয়ম থাকলেও আপনার খুশি মতো ব্যবহারে অদল বদল করতেই পারেন। সাধারণত মেঝে বা দেওয়ালে লাগানো হয় যে হ্যান্ডকালরড সিরামিক টাইলস, তাই ব্যবহার করা হয়েছে ডাইনিং টেবিল টপ হিসেবে। আপনার ঘর লাগোয়া খোলা জায়গা থাকলে অথবা একটা সুন্দর সাজানো ছাদ থাকলে তো কথাই নেই। ওপেন এয়ার ওয়াইন অ্যান্ড ডাইনের দারুণ ব্যবস্থা রাখতে পারেন। ডাইনিং চেয়ার টেবিল আম কাঠের হতে পারে। কেননা, খোলা ছাদে আম কাঠের ডাইনিং টেবিলে শুধু একটা সাদামাটা লুকই তৈরি হয় না, এর ব্যবহারিক দিকও মাথায় রাখার মতো। আর এর ওয়েদার ডিউরেবিলিটি দারুণ। ফলে খোলা আকাশের নিচে বহু বছর ভালো থাকে এই টেবিল। ল্যাম্প শেড হিসেবে ব্যবহার করতে পারেন চিরাচরিত মাটির হাঁড়ি। এথনিক অ্যামবিয়েন্ট লাইটিং যাকে বলে আর কি! গাছপালা ব্যবহারে ইনডাইরেক্ট লাইটিং তৈরি করে দারুণ রোমান্টিক পরিবেশ তৈরি করতে পারেন। সাদা দেওয়াল আর সাদা মেঝে যদি হয়ে থাকে, তবে তার মাঝে নীল ও হাল্কা সবুজের কটন টেবিল ক্লথ ব্যবহারে রঙের ছোঁয়া আনতে পারলে দেখতে দারুণ লাগবে। চেয়ারে লাল কালোর কনট্রাস্ট কম্বিনেশনে তৈরি করতে পারেন ইন্টারেস্টিং কালার স্কিম।

আপনার ঘর যদি প্রশস্ত হয়, আর যদি ইচ্ছা থাকে যে, ঘরের ডাইনিং স্টাইলে থাকবে ফর্মাল টাচ, তাহলে অন্যভাবে চিন্তাভাবনা করতে পারেন। আপনার বাড়ির খাবার ঘরের কালার যদি হয় থিম হোয়াইট তবে সাদা মার্বেলের মেঝে, দুধ সাদা চেয়ার কভার, সাদা পর্দার সঙ্গে আয়তাকার গ্লাস টপ একেবারেই মানানসই হবে। অন্দরসাজে প্লেসমেন্ট অব ফার্নিচারও খুব জরুরি। কোনাকুনিভাবে রাখা খাবার টেবিল একটা বিশেষ ডায়মেনশন তৈর করবে। অতএব কেমন হবে আপনার খাবার ঘরের অন্দরসাজ, কোন ধরনের আসবাব ব্যবহার করবেন, জাপানি স্টাইলে মাটিতে ছোটছোট জলচৌকি রাখবেন নাকি কাচের টেবল, তা আপনার পছন্দ আর চাহিদার ওপরেই নির্ভর করে। আর ইচ্ছাটাও একান্ত আপনারই।