উত্যক্তের শিকার হয়ে স্কুলছাত্রীর আত্মহত্যা, গ্রেফতার ৪

ঢাকার ধামরাইয়ে উত্যক্ত ও স্কুল মাঠে ডেকে নিয়ে শারীরিক লাঞ্ছনার শিকার হয়ে লজ্জা ও ঘূর্ণায় মুন্নি আক্তার (১৩) নামে এক স্কুলছাত্রী আত্মহত্যা করেছে। রবিবার বিকালে ধামরাইয়ের চৌহাট ইউনিয়নের রাজাপুর কহেলা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত মুন্নি ওই এলাকার মনির হোসেনের মেয়ে ও রাজাপুর কহেলা বাহরাম মল্লিক উচ্চ বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী। এ ঘটনায় পুলিশ চার ছাত্রকে গ্রেফতার করেছে। গ্রেফতাররা হলেন- রবিন, রাব্বি, শফিক ও রোকন। তারাও ওই বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্র। সোমবার তাদের আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। 

পুলিশ ও নিহতের পরিবার সূত্রে জানা গেছে, কয়েক মাস আগে নবম শ্রেণির এক ছাত্র মুন্নিকে প্রেমের প্রস্তাব দেয়। মুন্নি তা প্রত্যাখ্যান করায় ছেলেটি তার উপর ক্ষুব্ধ হয়।  এর পর থেকে মুন্নি বিদ্যালয়ে যাওয়া আসার পথে তাকে প্রায়ই উত্যক্ত করে আসছিল সেই ছাত্র। তাদের অভিভাবকের কাছে বিষয়টি জানানো হলেও তারা কোন ব্যবস্থা নেয়নি। এতে বাধ্য হয়ে মুন্নি কয়েকদিন স্কুলে যাওয়া বন্ধ রেখেছিল। পরে রবিবার সে স্কুলে গেলে দুপুরে টিফিনের সময় ওই ছাত্ররা মুন্নিকে ক্লাস থেকে স্কুল মাঠে ডেকে এনে নানাভাবে অপমান করার পাশাপাশি অশালীন আচরণ করে। এসব আচরণে মুন্নি কান্না করতে করতে বাড়ি চলে যায়। এরপর বিকালে ক্ষোভে ও লজ্জায় গলায় উড়না পেঁচিয়ে ঘরের আড়ার সঙ্গে ঝুলে আত্মহত্যা করে।  

ধামরাই থানার ওসি দীপক চন্দ্র সাহা জানান, নিহত স্কুলছাত্রীর লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় নিহত স্কুলছাত্রীর বাবা থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। অভিযুক্ত চারজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তদন্তপূর্বক আরো কেউ জড়িত থাকলে তাদেরও আইনের আওতায় আনা হবে। 

ইত্তেফাক/জেডএইচ