ছোটোবেলা থেকেই শিখে এসেছি, আমাদের চারপাশে যা কিছু আছে তা নিয়েই পরিবেশ গঠিত। বর্তমানে নানা সমস্যায় জর্জরিত আমাদের পরিবেশ। যুবসমাজের নৈতিক অধঃপতন, সামাজিক অস্থিরতা, পরিবেশদূষণ, অসচেতনতা, অন্যায় কার্যক্রম ক্রমেই যেন বেড়ে চলেছে। সমাজের পরিবর্তনের লক্ষ্যে আমরা আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের ৭২ জন শিক্ষার্থী দীক্ষা গ্রহণের মাধ্যমে বিশ্ব স্কাউট আন্দোলনে যুক্ত হয়েছি। স্কাউটের সাতটি আইন তথা ‘নিজেকে সত্ ও সত্যবাদী হিসেবে গড়ে তোলা, সবার সঙ্গে বন্ধুত্ব তৈরি, বিনয়ী ও আনুগত্য, জীবের প্রতি সদয় হওয়া, মিতব্যয়িতা, সর্বদা প্রফুল্ল থাকা এবং চিন্তা, কথা ও কাজে নির্মল’ থাকার শিক্ষা যে কোনো ব্যক্তিকে সুপথে চলার দিকনির্দেশনা প্রদান করে। মদ, জুয়া, শঠতা, নারী বা পুরুষ বিপরীত লিঙ্গের প্রতি আকর্ষণ ও নাস্তিকতা—মানবজীবনের এই পাঁচটি পঞ্চশীলা থেকে দূরে থাকা স্কাউটিংয়ের অন্যতম শিক্ষা।
১৯০৭ সালে ইংল্যান্ডের ব্রাউন্সি দ্বীপে ব্যাডেনপাওয়েল মাত্র ২০ জন বালককে নিয়ে স্কাউট আন্দোলন শুরু করেন। কালক্রমে তা সামাজিক আন্দোলনে রূপ নিয়ে ইংল্যান্ড, আমেরিকাসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে পড়ে। ১৯৭২ সালের ৯ এপ্রিল গঠিত হয় বাংলাদেশ বয় স্কাউট সমিতি। সে বছরেরই ৯ সেপ্টেম্বর গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের মহামান্য রাষ্ট্রপতির ১১১ নং অধ্যাদেশবলে বাংলাদেশ বয় স্কাউট সমিতিকে স্বীকৃতি প্রদান করা হয়। বাংলাদেশে স্কাউট আন্দোলনের বিস্তৃতিতে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভূমিকা ছিল চিরস্মরণীয়।
গত ২৩ থেকে ২৫ অক্টোবর আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় রোভার স্কাউট গ্রুপের তিন দিনব্যাপী বার্ষিক তাঁবুবাস ও দীক্ষানুষ্ঠান সমাপ্ত হলো। আমি আমার আত্মমর্যাদার ওপর নির্ভর করে প্রতিজ্ঞা করছি যে আল্লাহ ও আমার দেশের প্রতি কর্তব্য পালন করতে, সর্বদা অপরকে সাহায্য করতে, স্কাউট আইন মেনে চলতে আমি আমার যথাসাধ্য চেষ্টা করব—এই প্রতিজ্ঞাবাক্য পাঠ করিয়ে ক্যাম্পের শেষ দিন আমাদের স্কাউট আন্দোলনের সঙ্গে আনুষ্ঠানিকভাবে অন্তর্ভুক্ত করেন ইবি রোভার স্কাউট গ্রুপের সম্পাদক প্রফেসর ড. রুহুল কে এম সালেহ। এর আগের তিন দিন আমরা বিভিন্ন পিটির মাধ্যমে যেমন শরীরচর্চার নতুন নতুন নিয়ম শিখেছি, তেমনি প্রাথমিক প্রতিবিধান হাতে-কলমে শেখার মাধ্যমে আহত ব্যক্তিকে প্রাথমিক চিকিত্সা প্রদানের নিয়ম রপ্ত করেছি। আবার পরিবেশদূষণ, কারণ, প্রতিকার ও সামাজিক উন্নয়নের বিভিন্ন দিক সম্পর্কে বিস্তারিত জ্ঞান অর্জন করেছি। দীক্ষাগ্রহণের পূর্ব রাতে মহাতাঁবু জলসায় অগ্নি প্রজ্বালনের মাধ্যমে বিভিন্ন শিক্ষামূলক গান, নৃত্য, অভিনয়, কৌতুক, নাটক প্রভৃতি প্রদর্শনের মাধ্যমে আমরা প্রত্যেকে নিজেদের সুপ্ত প্রতিভা বিকশিত করার চেষ্টা করেছি। আনন্দ ও জ্ঞানার্জন করতে কে না চাই! তবে সেই আনন্দ লাভের মাধ্যমে জ্ঞান অর্জিত হলে তো আর কোনো কথাই থাকে না। স্কাউটের প্রতিটি কার্যক্রম আনন্দদানের মাধ্যমে শিক্ষা প্রদান করা। এছাড়া নিরক্ষরদের অক্ষরজ্ঞান প্রদান, বৃক্ষরোপণ, টিকাদান, স্যানিটেশন ও পরিবেশ সংরক্ষণ কর্মসূচি, জ্বালানি সাশ্রয়ী চুলা নির্মাণ, বন্যা বা বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগে স্কাউট সদস্যদের কার্যক্রম প্রশংসা কুড়িয়েছে। কিশোর ও যুবসমাজের নৈতিক অধঃপতন রোধে দেশের প্রতি আনুগত্য এবং ব্যক্তি পর্যায়ে আত্মনির্ভর-শীলতা তৈরি করতে স্কাউটিং কার্যক্রমকে আরো গ্রাম পর্যায়ে ছড়িয়ে দিতে হবে।
n লেখক :শিক্ষার্থী, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া।