উলিপুরে ব্রহ্মপুত্রের ভাঙনের কবলে তিন ইউনিয়ন

উলিপুরে ব্রহ্মপুত্র নদের ভাঙনে এক সপ্তাহের ব্যবধানে বসতবাড়িসহ আবাদি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। এদিকে তিন কিলোমিটার ভাঙনে কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ড সম্প্রতি ৩০ লাখ টাকা ব্যয়ে ভাঙন কবলিত ৬০ মিটার স্থানে বালু ভর্তি জিও ব্যাগ ডাম্পিং করে। সম্প্রতি ঐ স্থানের পাশেই দেখা দিয়েছে তীব্র ভাঙন।

সরেজমিনে উপজেলার হাতিয়া ইউনিয়নের নয়াদাড়া, কামারটারী, পালের ভিটায় দেখা গেছে, ব্রহ্মপুত্র নদের ভাঙন অব্যাহত রয়েছে। ভাঙনকবলিত এলাকার মানুষজন জানান, গত কয়েক মাসে ভাঙনকবলিত প্রায় তিন কিলোমিটারব্যাপী স্থানে শতাধিক বসতবাড়ি ও কয়েকশত একর আবাদি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। এ পরিস্থিতিতে পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুক সম্প্রতি ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন করে দ্রুত ভাঙনরোধে ব্যবস্থা নিতে পাউবো কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেন। পানি উন্নয়ন বোর্ড তিন কিলোমিটার ভাঙনে ৩০ লাখ টাকা ব্যয়ে ৬০ মিটার জায়গায় বালু ভর্তি জিও ব্যাগ ডাম্পিং করে। কিন্তু সম্প্রতি পাউবোর ঐ ডাম্পিং করা স্থানের পাশেই নতুন করে ফের ভাঙন শুরু হলে গত এক সপ্তাহের ব্যবধানে বসতবাড়িসহ আবাদি জমি নদীগর্ভে চলে যায়।

স্থানীয় একাব্বর আলী বলেন, আটবার বাড়ি ভাঙল, এবার নিয়ে ৯ বার হবে। নদী ভাঙা বন্ধ না হলে আর কোথাও যাওয়ার জায়গা থাকবে না। হাতিয়া ইউপি চেয়ারম্যান আবুল হোসেন বলেন, যেভাবে ভাঙন শুরু হয়েছে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে ওয়াপদা বাঁধসহ হাতিয়া ইউনিয়নের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা নদীগর্ভে  চলে যাবে। উলিপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী রফিকুল ইসলাম বলেন, তিন কিলোমিটার ভাঙনে ৬০ মিটার জায়গায় বালু ভর্তি জিও ব্যাগ ডাম্পিং করা হয়েছে। পরবর্তীতে ৬০০ মিটারের টেন্ডার গৃহীত হয়েছে। অনুমোদন হলেই কাজ শুরু হবে।