লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জে আলীপুর-সমেষপুর এবং শ্রীরামপুর হাসপাতাল থেকে বাংলাবাজার সড়ক দুইটির পুরো অংশ জুড়ে খানাখন্দর আর দুই পাশ ভেঙে কার্পেটিং উঠে গিয়ে অর্ধযুগ ধরে চলাচলের অযোগ্য হয়ে আছে। ফলে এ সড়ক দুটি দিয়ে যাতায়াতকারী লক্ষাধিক লোকের উপজেলা শহরের সঙ্গে যোগাযোগে মারাত্মক দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
জানা যায়, উপজেলার ভাদুর ইউনিয়নের আলীপুর-সমেষপুর সড়কের তিন কিলোমিটার এবং ইছাপুর ইউনিয়নের শ্রীরামপুর হাসপাতাল থেকে বাংলাবাজার সড়কের তিন কিলোমিটারসহ ছয় কিলোমিটারের দুটি সড়ক ২০০১-০২ অর্থবছর কাঁচা থেকে পাকা করা হয়। পাকা হওয়ার পাঁচ-ছয় বছর পর থেকে কার্পেটিং উঠে গিয়ে বিভিন্ন স্থানে গর্ত ও দুই পাশ ভেঙে বেহাল অবস্থা হয়েছে।
এলাকাবাসী সংস্কারের জন্য বার বার স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের কাছে দাবি ও সংশ্লিষ্ট বিভাগেও লিখিত আবেদন করলেও সফলতা আসেনি। সড়কের অবস্থা বেহাল হওয়ায় দুর্ঘটনাসহ বার বার যানবাহন নষ্ট হওয়ার কারণে গত এক বছর থেকে মালিকরা এ সড়ক দিয়ে যানবাহন চলাচল বন্ধ করে দেয়। খুব অল্পসংখ্যক রিকশা, সিএনজি চলাচল করলেও ভাড়া দিতে হয় তিন-চারগুণ বেশি।
সমেষপুর গ্রামের ফারুক হোসেন, বাচ্ছু মিয়া, শাহাবুদ্দিন পাটোয়ারী, শিক্ষক (অব.) আবদুল জলিল, ইছাপুরের জসিম উদ্দিন, সুজন, রবিউলসহ এলাকাবাসী জানান, সড়ক সংস্কারের জন্য আমরা জনপ্রতিনিধিসহ সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের নিকট কয়েকবার আবেদন করেছি। কয়েকবার উপজেলা প্রকৌশলী এসে পরিমাপ করে নিয়েছে। রোগীদের নিয়ে চরম বিপাকে পড়তে হয়। ইছাপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শহিদ উল্যাহ জানান, সোনাপুর হরিসভা থেকে বাংলাবাজার পর্যন্ত মানুষের চলাচল অনুপযোগী হওয়ায় আট কিলোমিটারের মধ্যে গত দুই বছর পাঁচ কিলোমিটার সংস্কার হয়েছে, বাকি তিন কিলোমিটার সংস্কারের জন্য এলজিইডি অফিসসহ সবার সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছি।
ভাদুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জাহিদ হোসেন ভূইয়া জানান, এলাকাবাসীও বলেছে এবং আমিও দেখেছি সড়কটির অত্যন্ত খারাপ অবস্থা। এমপিসহ এলজিইডি অফিসের সঙ্গে যোগাযোগ করে চেষ্টা করছি সড়কটির সংস্কারের কাজ দ্রুত হবে। উপজেলা প্রকৌশলী জাহিদুর হাসান জানান, জেলা নির্বাহী প্রকৌশলী অফিসের সঙ্গে যোগাযোগ করে সড়ক দুইটির বর্তমানে কোন অবস্থায় আছে জানাতে পারব। তবে খুব শিগিগরই সড়কগুলো সংস্কার হবে।