বাংলাদেশে বড়ো বিনিয়োগ নিয়ে আসতে চায় কোরিয়া

এশিয়ার অন্যতম শিল্পোন্নত দেশ দক্ষিণ কোরিয়া বাংলাদেশে বড়ো বিনিয়োগ নিয়ে আসতে চাইছে। বাংলাদেশ অর্থনৈতিক জোন কর্তৃপক্ষের (বেজা) আওতাধীন জমিতে শিল্পপার্ক প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে এ বিনিয়োগ করতে চায় কোরিয়া ইন্ডাস্ট্রিয়াল কমপ্লেক্স কোম্পানি লিমিটেড (কেআইসি)। এজন্য দেশটি প্রাথমিকভাবে ৪০০ একর জমি চেয়েছে। এতে দেশটির প্রায় ১০০টি কোম্পানি ৫০ কোটি মার্কিন ডলারের সমপরিমাণ অর্থ (স্থানীয় মুদ্রায় ৪ হাজার কোটি টাকার বেশি) বিনিয়োগ করতে চায়। তবে এজন্য বিদ্যুত্ অবকাঠামোসহ অন্যান্য সুবিধা নিশ্চিত করার জন্য বলেছে তারা। গতকাল সোমবার বেজার নির্বাহী চেয়ারম্যান পবন চৌধুরীর সঙ্গে সাক্ষাত্কালে কোম্পানির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রায়হো চো এ বিনিয়োগের বিষয়ে বিস্তারিত কথা বলেন। বায়হো চো বলেন, বাংলাদেশ সরকার এবং বেজার সর্বাত্মক সহযোগিতা পেলে জমি পাওয়া সাপেক্ষে তারা খুব দ্রুত কাজ শুরু করতে চান। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে তাদের সব ধরনের সহযোগিতা দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।

সূত্র জানিয়েছে, কোম্পানিটির এ বিনিয়োগের কথা ছিল মিয়ানমারে; কিন্তু দেশটিতে যথাসময়ে অবকাঠামো তৈরি না হওয়া ও বিদ্যুত্ ঘাটতি এবং শিল্পে পানি সরবরাহসহ অন্যান্য অবকাঠামো তৈরিতে দেরি হওয়ায় সম্ভাব্য বিনিয়োগকারী কোরিয়ান কোম্পানিগুলো বিকল্প খুঁজতে থাকে। এর ধারাবাহিকতায় তারা ঐ বিনিয়োগ বাংলাদেশে সরিয়ে আনতে চাইছে। জানা গেছে, ২০১৩ সালে মিয়ানমারের বাগো এবং মোন রাজ্যে তারা দুইটি শিল্পপার্ক উন্নয়নের কাজ শুরু করে।

কেআইসি প্রাথমিকভাবে ৪০০ একর জমি চেয়েছে। এখানে তারা বস্ত্র, চামড়া, জুয়েলারিসহ আরো কিছু পণ্যের কারখানা স্থাপন করবে। এছাড়াও স্বাস্থ্য ও অন্যান্য সেবাসহ একটি শিল্পপার্কে বসবাসকারী সবার জন্য মানসম্মত আবাসিক এলাকা স্থাপন করার পরিকল্পনা তারা করেছে।  বেজার নির্বাহী চেয়ারম্যান পবন চৌধুরী বলেন, বেজা সব সুবিধা দিয়ে টেকসই ও পরিবেশবান্ধব শিল্প গড়ে তুলতে বদ্ধপরিকর। একারণেই চীন, জাপান এবং ভারত এখানে অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপন করতে চলেছে। তিনি বলেন, কোরীয় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বিনিয়োগ বাংলাদেশের বৈদেশিক বিনিয়োগের ক্ষেত্রে একটি নতুন দিগন্ত সূচিত করবে। তিনি উল্লেখ করেন, কোরীয় বিনিয়োগকারীদের জন্য বেজা অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে এবং এ লক্ষ্যে সম্ভাব্য সব সেবার দ্বার উন্মুক্ত থাকবে।