শহরের বাবুরাইল এলাকায় ধসে পড়া চার তলা ভবন থেকে এখনো আটকেপড়া শিশু ওয়াজিদকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। গতকাল সোমবার রাতে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ফায়ার সার্ভিসের উদ্ধার কার্যক্রম চলছিল। এদিকে, জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ভবন ধসের ঘটনায় অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট রেহেনা আক্তারকে আহ্বায়ক করে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত কমিটিকে আগামী পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক মো. জসিম উদ্দিন।
এর আগে গত রবিবার ভবনটি ধসে শোয়েব (১২) নামে ষষ্ঠ শ্রেণির এক ছাত্রের মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় সাত জন আহত হন। নিহত শোয়েব বাবুরাইল মুন্সীবাড়ির মৃত শাহাবুদ্দিন মিয়ার ছেলে। ভবনটিতে আটকেপড়া শিশু ওয়াজিদ নিহত শোয়েবের সঙ্গেই ঐ ভবনের নিচতলায় আরবি পড়তে গিয়েছিল।
ওয়াজিদের বাবা মো. রুবেল বলেন, শোয়েব ও ওয়াজিদ খালাতো ভাই। তারা ঐ ভবনের নিচতলায় আরবি পড়তে গিয়েছিল। ভবন ধসে পড়লে অন্যরা বেরিয়ে আসতে পারলেও আটকে পড়ে শোয়েব ও ওয়াজিদ। শোয়েবকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিত্সক মৃত ঘোষণা করেন। আমার ছেলেকে যেন সুস্থ অবস্থায় ফেরত পাই এ প্রার্থনা করছি।
নারায়ণগঞ্জ জেলা ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের সহকারী পরিচালক মো. আব্দুল্লাহ্ আল আরেফীন জানান, ওয়াজিদ নামে এক শিশু ভবনের ভেতর আটকে রয়েছে বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। তাকে উদ্ধারের চেষ্টা চলছে। ইউএনও নাহিদা বারিক জানান, সবাইকে উদ্ধার না করা পর্যন্ত উদ্ধার কাজ চলবে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত শনিবার আসরের আজানের পর ভবনটি হেলে পড়ে। এ সময় বাড়ির মালিকদের কেউ ছিলেন না। গত রবিবার বিকালে ভবনটি ধসে পড়ে। ধসে যাওয়া ভবনটির পাশের ভবনের বাসিন্দা তাসলিমা জানান, ধসে পড়া ভবনটি এমনিতেই খুবই ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় ছিল।