কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় সরকার থেকে প্রাপ্ত অর্থের হিসাব দিতে হবে -----আনোয়ার হোসেন মঞ্জু

জাতীয় পার্টি-জেপির চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন মঞ্জু এমপি বলেছেন, কেন্দ্রীয় সরকার ও স্থানীয় সরকারের নানা বরাদ্দ ও অনুদানের অর্থে প্রাথমিক বিদ্যালয়সমূহের অবকাঠামো নির্মাণ, মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণসহ উন্নয়নকাজ সাধিত হয়। এ অর্থ ব্যয়ের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্টদের হিসাব দানের ব্যবস্থা থাকা আবশ্যক। বরাদ্দকৃত অর্থের যথাযথ সদ্ব্যবহারের ব্যত্যয়ে বিদ্যালয়ের ছাদ ও দেওয়ালের প্লাস্টার খুলে পড়ে শিক্ষার্থী আহত বা নিহত হওয়ার ঘটনা কাম্য নয়। অবশ্য ভাণ্ডারিয়ায় এ জাতীয় অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা কখনই ঘটেনি।

তিনি গতকাল দুপুরে পিরোজপুর জেলার ভাণ্ডারিয়া উপজেলার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতিদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির সংসদ সচিবালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে একথা জানানো হয়েছে।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, পিএ কমিটি প্রদত্ত নির্দেশনার আলোকে দায়ী ব্যক্তিদের বিষয়ে দায়-দায়িত্ব নির্ধারণকালে অডিট আপত্তির অনুচ্ছেদ-১ এ দেখা যায়—সিএমএসডি কর্তৃক বিদেশি উত্পাদনকারী প্রতিষ্ঠানের অনুমোদিত লোকাল এজেন্টের সঙ্গে যোগসাজশে পণ্য আমদানির নামে জালিয়াতি করায় আর্থিক ক্ষতি হয় ১৪ কোটি ৩১ লাখ ৪৭ হাজার ৩৪৫ টাকা। এই আপত্তির সঙ্গে জড়িত সিএমএসডির সাবেক পরিচালক মে জে (অব.) সৈয়দ ইফতেখার উদ্দিন। আর অনুচ্ছেদ-২ এ দেখা যায়, জাতীয় ঔষধনীতি উপেক্ষা করে বাজারমূল্য অপেক্ষা অস্বাভাবিক উচ্চ মূল্যে ঔষধপত্র ও চিকিত্সা সরঞ্জামাদি কেনায় আর্থিক ক্ষতি হয়েছে ১১ কোটি ৬৬ লাখ ৫ হাজার ৩৫ টাকা। এই অডিট আপত্তির সঙ্গে জড়িত ব্রি জে আহসান কবীর খান আপত্তিগুলো সঠিক নয় মর্মে আত্মপক্ষ সমর্থনের জন্য রুলস অব প্রসিডিউরের ২০৫ বিধি অনুযায়ী স্থায়ী কমিটির সভাপতির কাছে ব্যক্তিগত শুনানির জন্য আবেদন করেন। সে অনুযায়ী সভাপতি সিএমএসডির সাবেক ও বর্তমান দুই পরিচালককে স্থায়ী কমিটির বৈঠকে উপস্থিত থাকার অনুমতি দেন।

সৈয়দ ইফতেখার উদ্দিনের অনুপস্থিতিতে তার পক্ষে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আপত্তির বিষয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় গঠিত কমিটির রিপোর্ট স্থায়ী কমিটির বৈঠকে উপস্থাপন করেন। কমিটি সবকিছু শোনার পর আগামী এক মাসের মধ্যে জড়িতদের বক্তব্য গ্রহণসহ ত্রিপক্ষীয় বৈঠকের মাধ্যমে সিএজির মাধ্যমে কমিটির কাছে এ বিষয়ে রিপোর্ট উপস্থাপনের নির্দেশনা দিয়েছে।

স্থায়ী কমিটির বৈঠক সম্পর্কে কমিটির সভাপতি ডা. রুস্তম আলী ফরাজী ইত্তেফাককে বলেন, ‘এই অনিয়মের বিষয়ে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না। সম্পূর্ণ স্বচ্ছতার ভিত্তিতে সবকিছু করা হবে। পণ্য আমদানি ও কেনায় কোনো ধরনের ব্যত্যয় ঘটার প্রমাণ মিললে একটি উচ্চ পর্যায়ের কমিটি গঠন করা হবে। কমিটিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের একজন, একজন অডিটর ও একজন স্বাস্থ্যখাত বিশেষজ্ঞকে রাখা হবে। অভিযুক্তরা যদি নিজেদের নির্দোষ প্রমাণ করতে পারেন তাহলে ভালো, না পারলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

কমিটির সভাপতি রুস্তম আলী ফরাজীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে কমিটির সদস্য আবুল কালাম আজাদ, আব্দুস শহীদ, আফছারুল আমীন, শহীদুজ্জামান সরকার, আহসানুল ইসলাম (টিটু), বেগম ওয়াসিকা আয়েশা খান ও জাহিদুর রহমান অংশ নেন।

সংসদ সচিবালয়ের পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরো জানানো হয়, গতকালের বৈঠকে সিএমএসডি, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) হাসপাতাল ও রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ২০১২-১৩ অর্থবছরের হিসাব সম্পর্কিত মহা হিসাব-নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রকের বিশেষ অডিট রিপোর্ট এবং ২০১৩-১৪ এর অডিট আপত্তির সর্বমোট আটটি আপত্তি নিয়ে আলোচনা হয়। আপত্তিতে ক্ষতির টাকার পরিমাণ ৫৫ কোটি ৭৪ লাখ ৬৩ হাজার ৬২৯ টাকা।