গুণীদের ফ্রেমবন্দি করাই যখন নেশা

>>  সাইফুল ইসলাম

 

তিন দশক ধরে ফটোগ্রাফি করছেন ইফতেখার ওয়াহিদ ইফতি। মূলত গুণী ব্যক্তিদের ছবি তুলতেই পছন্দ করেন। ক্যামেরার সঙ্গেই বন্ধুত্ব তার ছোটবেলা থেকে।

গত ২৬ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হয়ে গেল আলোকচিত্রী ইফতেখার ওয়াহিদ ইফতির ‘ব্লোয়িং ইন দ্য উইন্ড’ শীর্ষক পক্ষকালব্যাপী একক আলোকচিত্র প্রদর্শনী। এ উদ্ব্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ফারুক পাঠান (এমপি),  শংকর শাওজাল, শম্পা রেজা, নুরুল আলম আতিক, আদিত্য শাহীন, তুষার ইসলাম (এমডি, পিক অ্যান্ড পে), মো. রকিব উদ্দিন (উদ্যোক্তা)। প্রদর্শনীটি ২০ নভেম্বর পর্যন্ত (সকাল ৯টা থেকে রাত ১২টা) চলবে উত্তরার ৩ নম্বর সেক্টরের ১৮ নম্বর সড়কের ২৬ নম্বর বাড়িতে অবস্থিত উইন্ড ব্লোজ রেস্তোরাঁয়। ১১টি পোর্ট্রেট এবং ১৪টি ক্রিয়েটিভ ছবি নিয়ে সাজানো হয়েছে এ আয়োজন।

শরীয়তপুরে নানার বাড়িতে জন্ম ইফতেখারের। বাবা একজন সরকারি চাকরিজীবী ছিলেন। সেজন্য ‘দীপু নাম্বার টু’-এর দীপুর মতো দেশের অনেক জায়গায় তাকে থাকতে হয়েছে। এসএসসি পরীক্ষার পর মামার কাছ থেকেই ফটোগ্রাফি শিখেন ইফতেখার। তখন মামা তাকে একটা এসএলআর দিয়েছিল ফটোগ্রাফি করার জন্য। সেখান থেকেই তার যাত্রা শুরু।

দেশের ৫০০ থেকে ৬০০ বিশিষ্ট ব্যক্তির ছবি তুলে ইফতি নিজেও সুপরিচিত হয়েছেন। জীবন্ত কিংবদন্তিদের বর্ণাঢ্য জীবনচিত্র ধরে রেখেছেন তার ক্যামেরায়। তাদের মধ্যে অনেকে আজ আর নেই। গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব শাইখ সিরাজ, আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন চিত্রশিল্পী শাহাবুদ্দিন, শিক্ষাবিদ ও দার্শনিক সরদার ফজলুল করিমের মতো অসংখ্য নামীদামি মানুষের ছবি তুলেছেন।

২০০১ সালে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রে ‘পোর্ট্রেট’ শিরোনামে অনুষ্ঠিত হয় ইফতেখারের প্রথম চিত্র প্রদর্শনী। এরপর অনুষ্ঠিত তার উল্লেখযোগ্য প্রদর্শনীর মধ্যে রয়েছে :২০০২ সালে ইন্ডিয়ান হাইকমিশনের আর্ট গ্যালারিতে ‘অ্যা লুক থ্রু দ্য ক্রোজ আইজ’। ২০০৬ সালে গুলশানের ইনসোমোনিয়া গ্যালারিতে ‘দ্য হুইল অব ইন্টারনাল হোপস’ শিরোনামে প্রদর্শনী। ২০০৭ সালে শাইখ সিরাজের ওপরে ‘সান অব দ্য সয়েল’। ২০১৩ শিল্পী শাহাবুদ্দিনের ওপরে ‘শাহাবুদ্দিন দ্য পেইন্টার দ্য ফাইটার’। একই বছরের জুলাই মাসে দার্শনিক সরদার ফজলুল করিমকে নিয়ে ‘এ ফিলোসফার পোর্ট্রেট’ শিরোনামে আলোচিত্র প্রদর্শনী করেন এই শিল্পী। যার মধ্যে তিনি ফজলুল করিমের ৪০টি ছবি প্রকাশ করেন। তিনি মনে করেন, এই ছবিগুলোর মাধ্যমে যুগ যুগ ধরে মানুষ তাকে মনে রাখবে।

তরুণদের উদ্দেশে ইফতেখারের বলেন, ‘হুট করে কিছু পাওয়া সম্ভব নয়। যে যাই করি না কেন, কবিতা লেখা, ছবি আঁকা, ছবি তোলাসহ সকল কাজে লেগে থাকতে হবে। আর লেগে থাকলে সফলতা আসবেই। আর রাতারাতি কিছু করার সুযোগ নেই বাংলাদেশে।’