প্রবাদ আছে, ‘শেষ ভালো যার সব ভালো তার’। শুরুতে পিছিয়ে থেকেও অনেকেই শেষ সময়ে কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে সাফল্য লাভ করেন। আগামী ৩০ নভেম্বর দেশের কৃষি ও কৃষিবিজ্ঞান বিষয়ক সাতটি বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথমবারের মতো গুচ্ছ পদ্ধতিতে ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। কৃষিবিদ হতে চাইলে সাতটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বমোট ৩ হাজার ৫৫০টি আসনের একটি তোমাকে নিশ্চিত করতে হবে। এজন্য চাই শেষ সময়ে কঠোর পরিশ্রম আর সুন্দর প্রস্তুতি। বিভিন্ন কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে গুচ্ছ পদ্ধতির ভর্তি পরীক্ষা প্রস্তুতি নিয়ে বিস্তারিত লিখেছেন— মো. আবু হানিফ
জীববিজ্ঞান
সৈয়দা কামরুন্নাহার শশী
শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়
প্রতিযোগিতাময় ভর্তি পরীক্ষায় টিকতে হলে বিষয়ভিত্তিক ভালো করা জরুরি। তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো জীববিজ্ঞান কারণ সর্বোচ্চ ৩০ নম্বর থাকে এই বিষয়ে। উদ্ভিদবিজ্ঞান এবং প্রাণিবিজ্ঞান প্রতি অংশ থেকেই ১৫ মার্কস থাকবে। তাই উভয় অংশকেই সমান গুরুত্বের সঙ্গে দেখতে হবে। জীববিজ্ঞানকে ভয় না পেয়ে বারবার রিভিশন দিতে হবে। শেষ সময়ে পাঠ্যবই থেকে গুরুত্বপূর্ণ টপিকগুলো দাগিয়ে পড়ে ফেল। বোল্ড করা লাইনগুলো, ছোটো ছোটো সংজ্ঞা, প্রকারভেদ, বৈশিষ্ট্য, উদাহরণ, বক্স করে দেওয়া পার্থক্যগুলো খুব ভালোভাবে পড়তে হবে। পড়ার সময় ছবিগুলো মিলিয়ে পড়লে দীর্ঘসময় আয়ত্তে থাকবে। বিগত বছরের প্রশ্নগুলো সলভ করে ফেল, তাহলে প্রশ্ন কিভাবে হয় সে বিষয়ে ধারণা পাবে এবং কোন্ অধ্যায় থেকে বেশি প্রশ্ন আসে সেটি অনুমান করতে পারবে। সারাদিন যা পড়বে রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে তা একবার রিভিশন দিবে। উদ্ভিদবিজ্ঞান থেকে কোষ ও এর গঠন, কোষ বিভাজন, কোষ রসায়ন, অণুজীব, শৈবাল ও ছত্রাক, উদ্ভিদ শারীরতত্ত্ব, উদ্ভিদের প্রজনন, জীবপ্রযুক্তি অধ্যায়গুলো বেশি গুরুত্বসহকারে পড়বে। প্রাণিবিজ্ঞান থেকে বিভিন্ন পর্বের প্রাণিসমূহের বৈশিষ্ট্য, পরিপাক, রক্ত, শ্বসন, জিনতত্ত্ব ও বিবর্তন অধ্যায়গুলো গুরুত্বপূর্ণ। তোমাদের পদচারণায় মুখরিত হোক কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সবুজ চত্বর।
গণিত
জাহিদ হাসান আশিক
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়
কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় সমন্বিত ভর্তি পরীক্ষা শুরু হতে আর মাত্র কয়েকটা দিন বাকি। এতদিন তোমরা বিস্তৃতভাবে পড়েছ, তবে শেষ সময়ে পড়তে হবে টেকনিক্যালি। কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে বিগত সালে আসা সব প্রশ্নের প্যাটার্ন ভালোভাবে আয়ত্ত করো এবং সেগুলোতে বেশি গুরুত্ব দাও। যেহেতু এবার ক্যালকুলেটরের ব্যবহার নেই, তাই তোমাকে হতে হবে কৌশলী। যে ম্যাথগুলো করতে ক্যালকুলেটর লাগে না, সেগুলো বেশি বেশি সমাধান করো। গণিতে অন্তরীকরণ, যোগজীকরণ, সরলরেখা, জটিল সংখ্যা, সম্ভাব্যতা, বিন্যাস-সমাবেশ, বৃত্ত ও ফাংশন বেশি গুরুত্বপূর্ণ। যোগজীকরণের ক্ষেত্রে বিগত সব প্রশ্ন বারবার অনুশীলন করো। অনুশীলন না করলে মনে থাকবে না। অধ্যায়ভিত্তিক গুরুত্বপূর্ণ টপিকগুলো সমাধান করো। কিছু কঠিন প্রশ্ন সব সময়ই থাকবে, যা ক্যালকুলেটর ছাড়া করা অসম্ভব বা অনেক সময় সাপেক্ষ, সেগুলো শেষে ধরবে। কারণ এগুলোর একটা সল্ভ করতে তোমার অনেক সময় চলে যাবে। সবশেষে বলব, যেহেতু ক্যালকুলেটরের ব্যবহার নেই, তাই কিছু সাধারণ মান যেমন :২, ৩, সাইন, কস, ট্যান ইত্যাদির কমন মানগুলো মুখস্থ রাখার চেষ্টা করো। কারণ পুরো ম্যাথ করার পরে যাতে সামান্য ৩=১.৭৩ এটা না জানার জন্য একটি নম্বর ছেড়ে দিয়ে আসতে না হয়। পরিশ্রম করে যাও, সফল হবেই।
ইংরেজি
জান্নাতুল নাইমা নিতু
চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি ও অ্যানিমেল সায়েন্স বিশ্ববিদ্যালয়
অদম্য স্বপ্ন আমার, হব আমি কৃষিবিদ—এই স্বপ্ন পূরণের সুযোগ আগামী ৩০ নভেম্বর। প্রতি বছর বেশ কয়েকবার পরীক্ষার সুযোগ থাকলেও এবার সুযোগ একবার। সেই সুযোগ কাজে লাগাতে শেষ সময়ে নিজের প্রস্তুতিকে আরেকবার শাণিত করে নাও। ইংরেজি থেকে ১০টি প্রশ্ন আসবে। পরীক্ষায় এগিয়ে থাকতে এই ১০ মার্কস খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ইংরেজির জন্য বিশেষ কোনো প্রস্তুতি নিতে হয় না। বিগত বছরের ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্ন এবং বিসিএসের প্রশ্ন সমাধান করলে বেশ কিছু কমন পাবে। তাছাড়া বেসিক গ্রামারের নিয়মকানুন ভালোভাবে আয়ত্ত করে ফেলো। এছাড়া বানান, প্রবাদবাক্য, প্রিপজিশন, সিনোনিম, এনটোনিম, বাক্য রূপান্তর, বাক্য শুদ্ধকরণ, ভয়েস চেঞ্জ ইত্যাদি টপিক থেকে বেশি প্রশ্ন হয়। বিগত কয়েক বছরের কৃষি ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্ন সল্ভ করলেই বুঝতে পারবা কঠিন কোনো টপিক থেকে প্রশ্ন দেওয়া হয় না। উদাহরণসহ টপিকগুলোর রুলস মনে রাখলে উত্তর করা অনেক সহজ হয়ে যায়। সমার্থক শব্দ ও বিপরীতার্থক শব্দগুলো নিয়মিত রিভিশন দাও, কঠিন বানানগুলো লিখে লিখে পড়ে ফেলো। তাহলে দেখবে চাপ অনেকটাই কমে যাবে। পরিকল্পনা মাফিক পড়াশোনা করো। সৃষ্টিকর্তা অবশ্যই তোমাদের পরিশ্রমের উত্তম প্রতিদান দেবেন। সবার জন্য দোয়া রইল, দেখা হবে বিজয়ে।