ইরানের বিরুদ্ধে নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনির পক্ষে কাজ করা ৯ জন কর্মকর্তার ওপর নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি গত সোমবার জানানো হয়েছে। ইরানে মার্কিন দূতাবাস দখলের ৪০তম বার্ষিকীর দিনে এই নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়। এদিকে ইরানের প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি গতকাল মঙ্গলবার বলেছেন, তার দেশ পুনরায় ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের কাজ শুরু করবে।
সোমবার মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয়ের পররাষ্ট্র সম্পদ নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের এক বিবৃতিতে বলা হয়, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনির পক্ষ থেকে নিয়োগ পাওয়া কিংবা তার পক্ষে কাজ করার জন্য এই নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হলো। ইরানের সর্বোচ্চ নেতার পক্ষ থেকে নিয়োগ পাওয়া দেশটির সেনাপ্রধান মেজর জেনারেল মোহাম্মাদ বাকেরি, বিচার বিভাগের প্রধান ইব্রাহিম রায়িসিকেও এই নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনা হয়েছে। ইরানের সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী ও ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর শীর্ষ কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হোসেইন দেহকান এবং আইআরজিসির খাতামুল আম্বিয়া সদর দপ্তরের প্রধান মেজর জেনারেল গোলাম আলী রশিদের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। আয়াতুল্লাহ খামেনির চিফ অব স্টাফসহ তার দপ্তরের আরো কয়েকজন কর্মকর্তা এই নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়েছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী স্টিভেন মানুচিন নিষেধাজ্ঞায় অন্তর্ভুক্ত ব্যক্তিদের ‘ব্যাপক ক্ষতিকর আচরণের’ দায়ে অভিযুক্ত করেছেন। নিষেধাজ্ঞায় অন্তর্ভুক্ত ব্যক্তিদের কোনো সম্পদ যুক্তরাষ্ট্রে থাকলে তা বাজেয়াপ্ত করা হবে। কোনো মার্কিন প্রতিষ্ঠানও তাদের সঙ্গে কোনো লেনদেন করতে পারবে না। তবে ইরানের দাবি, যাদের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রে তাদের কোনো সম্পদই নেই।
এদিকে ইরানি প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি গতকাল বলেছেন, তার দেশ তেহরানের দক্ষিণাঞ্চলে ভূগর্ভস্থ পরমাণুকেন্দ্রে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের কাজ পুনরায় শুরু করবে। বিশ্বের শক্তিধর দেশগুলোর সঙ্গে করা ২০১৫ সালের পরমাণু চুক্তি থেকে পিছু হটার এটি ইরানের সর্বশেষ পদক্ষেপ। চুক্তিতে শিয়াদের পবিত্র নগরী কোমের কাছে ফর্দো প্ল্যান্টে পরমাণু-সংক্রান্ত সব কাজ বন্ধের শর্ত ছিল, যা ইরান আন্তর্জাতিক অবরোধ তুলে নেওয়ার বিপরীতে মেনে নিয়েছিল। কিন্তু গত বছরের মে মাসে যুক্তরাষ্ট্রের চুক্তি থেকে বেরিয়ে যাওয়ার ঘোষণা এবং ইরানের ওপর নতুন অবরোধ আরোপের পরিপ্রেক্ষিতে তেহরান চুক্তি থেকে পিছু হটা শুরু করে।