সৌরভ গাঙ্গুলি বোর্ড অব কনট্রোল ফর ক্রিকেট ইন ইন্ডিয়ার (বিসিসিআই) সভাপতির দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই নিত্য নতুন খবরের শিরোনামের জোগান দিয়ে চলেছেন। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি আলোচিত হয়েছেন দিবারাত্রির টেস্টে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে। একই সঙ্গে ভারতীয় ক্রিকেটের নানামুখী উন্নয়নের পরিকল্পনাও হাতে নিয়েছেন। হিন্দুস্তান টাইমসকে দেওয়া এক সাক্ষাত্কারে উঠে এসেছে সেসব নিয়ে তার বিস্তারিত ভাবনা।
দিবারাত্রির টেস্টে ভারত প্রথম বারের মতো খেলতে যাচ্ছে। এই ব্যাপারে আপনার ভাবনা কী?
—আমি চেষ্টা করব, যাতে ভারত বছরে অন্তত একটা দিবারাত্রির টেস্ট খেলুক। এই চেষ্টাটা নিশ্চিত। ভারত যেখানেই সফরে যাক না কেন, আমি সেই দেশের বোর্ডের সঙ্গে আলাপ করে দেখব যে, দিবারাত্রির টেস্ট আয়োজনের কোনো সুযোগ আদৌ আছে কিনা।
সীমিত ওভারের ক্রিকেটে দ্বৈত অধিনায়কত্বের যুগে কি ভারত এখন যেতে পারে?
—অনেকেই ব্যাপারটায় বিস্মিত হন। বলেন, আইপিএলে মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের হয়ে অধিনায়ক হিসেবে এত সাফল্য থাকার পরও কেন রোহিত শর্মাকে জাতীয় দলের নেতৃত্ব দেওয়া হয় না। আমি মনে করি, কোহলি যখন অনুপস্থিত থাকে তখনই কেবল নেতৃত্ব দেওয়া উচিত রোহিতের। দ্বৈত অধিনায়কত্বের ব্যাপারে এখনো আলোচনারই সময় আসেনি।
নতুন দায়িত্বের ভূমিকার কতটা উপভোগ করছেন?
—আমার নিজের প্রতি অগাধ আস্থা আছে। কোনো কিছুকে পালটে ফেলার জন্য যদি আমাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়, মনে হয় আমি সেটা করতে পারব। কেবল ড্রেসিংরুমে বসে থেকে কেউ ভালো ক্রিকেটার হতে পারে না। তখনই আপনি সম্মান পাবেন, যখন আপনি শক্ত কোনো চ্যালেঞ্জে উতরে যাবেন। আমাকে যে দায়িত্বই দেওয়া হোক, আমি সেখানে সেরাটা দেওয়ারই চেষ্টা করি সব সময়। আমাকে একা ছেড়ে দিলেই বরং আমি ঘুমিয়ে যাবো।
বিরাট কোহলির সঙ্গে বোঝাপড়াটা কি একটু বেশিই কঠিন?
—না, একদমই কঠিন কিছু না। আমি আসলে দল নির্বাচনের ব্যাপারে সংযুক্ত হতে চাই না। দল নির্বাচনের ব্যাপারে আমি তাদের ওপরই নির্ভর করতে চাই যারা অভিজ্ঞ ও কাজটা করার জন্য যথেষ্ট যোগ্য।
টেস্টকে আরো জনপ্রিয় করার জন্য আর কী কী পদক্ষেপ নেওয়া উচিত বলে মনে করেন আপনি?
—এটা আসলে ধাপে ধাপে হবে। হ্যাঁ, এটা ঠিক যে সময়টা ভালো নয়। সম্প্রতি ভারতে এসে দক্ষিণ আফ্রিকা দল যেমন পারফরম্যান্স করেছে তাতে আমি খুবই হতাশ। আমি মনে করি, এ ক্ষেত্রে ওদের আরো বেশি সময় নেওয়া উচিত। আমি নিজের সময় যে দলটার বিপক্ষে খেলেছি, এটা ঠিক সেই মানের নয়। একই কথা পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কার ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। ক’দিন আগে অস্ট্রেলিয়াও বাজে সময়ের মধ্য দিয়ে গেছে। তবে, খুব দ্রুতই ওরা নিজেদের হারানো অবস্থান ফিরে পেয়েছে।