নদীতে ডুব দিয়ে সীমান্ত থেকে অস্ত্র আনা হতো

হাফিজুর রহমান। যশোরের সীমান্তবর্তী নদী ইছামতীর লাগোয়া পুটখালী গ্রামের বাসিন্দা। এক সময় গরু চোরাচালানের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। কিন্তু সীমান্তে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কঠোর নজরদারির কারণে তিনি পেশা বদল করতে বাধ্য হয়েছেন। পরবর্তীতে অস্ত্র ব্যবসায়ীদের প্রলোভনে পড়ে তাদের দলে ভিড়ে যান। এ দলে জড়িত বাংলাদেশ ও ভারতের একাধিক চক্র। ভারতীয় চক্র সীমান্তে (ইছামতির নদীর পাড়ে) অস্ত্র জড়ো করত। পরে একটি চক্র ইছামতি নদীতে গোসল করার সুবাদে অস্ত্রগুলো বাংলাদেশ নিয়ে আসত হাফিজের লোকজন। মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে এ তথ্য জানিয়েছেন হাফিজুর রহমান। ডিবি পুলিশ গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সোমবার রাতে রাজধানীর মিরপুর এলাকা থেকে হাফিজুরকে গ্রেফতার করে। এ সময় তার কাছ থেকে উদ্ধার করা হয় চারটি আগ্নেয়াস্ত্র ও ১৭ রাউন্ড গুলি। এ ঘটনায় রাজধানীর মিরপুর মডেল থানায় মামলা হয়েছে। ডিবি পুলিশ গতকাল হাফিজকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে। অভিযান পরিচালনাকারী ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের উত্তর বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মশিউর রহমান বলেন, হাফিজুর সোমবার সীমান্ত এলাকা থেকে বাসে করে অস্ত্র নিয়ে ঢাকায় আসে। এ অস্ত্রের চালান রাজধানীর বাড্ডা এলাকার একটি চক্রের কাছে পৌঁছানোর কথা ছিল। কিন্তু তার আগেই আমরা তাকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হই। গোয়েন্দা পুলিশের এ কর্মকর্তা বলেন, হাফিজুরদের চক্রটি কলকাতার অস্ত্র ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে অবৈধভাবে অস্ত্র এনে তা রাজধানীতে বিক্রি করত। গ্রেফতার হাফিজুর রহমান, তার সহযোগী একই গ্রামের বাসিন্দা হাবিবুর রহমান বিশ্বাস ও জিল্লুর ভারত থেকে বেনাপোল দিয়ে চোরাইপথে অবৈধ অস্ত্র ও গুলি বাংলাদেশে আমদানি করে। প্রথমে এসব অবৈধ অস্ত্র ভারতের বিহার থেকে কলকাতার অস্ত্র ব্যবসায়ীদের মাধ্যমে সীমান্তের বিভিন্ন এলাকায় লুকিয়ে রাখত। পরবর্তীতে বাংলাদেশি ব্যবসায়ীদের প্রয়োজনমতো ও দর কষাকষি চূড়ান্ত হলে সরবরাহ করত।। মশিউর রহমান আরো জানান, তাদের এ অস্ত্র সন্ত্রাসী কার্যকলাপ, জঙ্গি গোষ্ঠী, রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা সৃষ্টিসহ নানা ধরনের নাশকতামূলক বা সন্ত্রাসী কার্যকলাপে ব্যবহার হয়ে থাকে। হাবিবুরের মাধ্যমে ভারতের উত্তর চব্বিশ পরগনার বনগ্রাম গ্রামের জাহাঙ্গীর নামক ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগ করলে জাহাঙ্গীর প্রত্যেকটি অস্ত্রের জন্য ৩০ হাজার করে টাকা নিয়ে থাকে। যার বিনিময়ে জাহাঙ্গীর ভারত থেকে অস্ত্র-গুলি সরবরাহ করে থাকে। সরবরাহ করা অস্ত্র বাংলাদেশে এনে বিভিন্ন ব্যক্তির কাছে উচ্চমূল্যে বিক্রয় করা হয়।