নিষিদ্ধ সাকিব এ ঘটনার পুনরাবৃত্তি চাই না

বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসানকে ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) এক বছরের জন্য নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছেন। এতে সারাদেশের ক্রিকেটপ্রেমীরা ক্ষুব্ধ হয়েছেন। উল্লেখ্য ম্যাচ ফিক্সিংয়ের প্রস্তাব গোপন করায় ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক সাকিব আল হাসানকে এক বছরের জন্য নিষিদ্ধ করলেও কেউ তা মেনে নিতে পারছেন না। কয়েক দিন আগে বিভিন্নরকম দাবিদাওয়া নিয়ে ক্রিকেটারদের আন্দোলন করতে দেখা গেছে এবং তাদের সাকিব আল হাসানকে নেতৃত্ব দিতে দেখা গেছে। এ নিয়ে ধর্মঘটের ডাক দিয়েছিল ক্রিকেটাররা। এরই মধ্যে হঠাত্ করেই সাকিব আল হাসানকে আইসিসি শাস্তির ঘোষণা করল। আইসিসি হয়তো রুলস মতো কাজ করেছে। তবে বিষয়টি যে সকলকে হতবাক করেছে তা বলার অপেক্ষা রাখে না এবং বিষয়টির জন্য কারো কাছেই জবাব মিলছে না! সাকিব বাংলাদেশ ক্রিকেটের সবচেয়ে বড়ো তারকা। তাকে ক্রিকেট থেকে দূরে রাখা আর ক্রিকেটকে দুর্বল করে দেওয়া একই কথা। আইসিসির এই শাস্তি দেশের জন্য ক্রিকেটের জন্য টিমের জন্য বিশাল ক্ষতিকর প্রভাব ফেলবে এতে কোনো সন্দেহ নেই! আইসিসির নিয়ম অনুযায়ী কোনো ক্রিকেটার, কোচিং স্টাফ, আম্পায়ার, স্কোরার, যদি বুকিদের কাছ থেকে ফিক্সিংয়ের (ম্যাচ পাতানো) প্রস্তাব পান, তাহলে আইসিসি বা সংশ্লিষ্ট দেশের ক্রিকেট বোর্ডের দুর্নীতি দমন কমিশনকে জানানো বাধ্যতামূলক। তিনটি পৃথক ঘটনা আইসিসিকে অবহিত না করায় সাকিব আল হাসানের বিরুদ্ধে আইসিসির দুর্নীতিবিরোধী ধারা ২.৪.৪ লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটেছে। ২০১৮ সালে বাংলাদেশ, শ্রীলঙ্কা ও জিম্বাবুয়ের মধ্যকার ত্রিদেশীয় সিরিজ ও ২০১৮ সালে আইপিএলের সময় জুয়াড়িদের কাছ থেকে পাওয়া প্রস্তাব আইসিসির দুর্নীতি দমন কমিশনের কাছে জানাননি সাকিব। ২০১৮ সালের ত্রিদেশীয় সিরিজেই তার সঙ্গে দ্বিতীয়বার যোগাযোগ করলেও সেটি দ্বিতীয়বার আকসুর কাছে জানাতে ব্যর্থ হন। ২০১৮ সালের ২৬ এপ্রিল সানরাইজার্স হায়দরাবাদ ও কিংস ইলেভেন পাঞ্জাবের একটি ম্যাচের আগে সাকিবকে ম্যাচ পাতানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। সেটিও যথাযথ কর্তৃপক্ষকে জানাতে ব্যর্থ হয়েছিলেন সাকিব আল হাসান। ক্রিকেট বিশ্বে এর আগেও সনাত্ জয়সুরিয়া, কুশল লোকরাচ্চি, জিন সাইমস, সিদ্ধার্থ ত্রিবেদী এবং থামি সোকেকিলে ম্যাচ পাতানোর অভিযোগে অভিযুক্ত হয়েছিলেন। আইসিসির দুর্নীতি দমন আইনের ২.৪.৪ ধারা অনুযায়ী সাকিব আল হাসানকে দুই বছরের জন্য নিষিদ্ধ করা হলেও দোষ স্বীকার করায় এক বছরের শাস্তি স্থগিত করা হয়েছে। অর্থাত্ আগামী এক বছর সাকিব আল হাসান খেলতে পারবেন না। ২০২০ সালের ২৯ অক্টোবর আবার মাঠে ফিরতে পারবেন এই ক্রিকেট তারকা। এক বছর নিষেধাজ্ঞা আরোপে হতাশ সাবেক ও বর্তমান ক্রিকেটাররা। সামনে ভারত, পাকিস্তান সফরসহ অনেকগুলো সিরিজ মিস করবেন সাকিব। সাকিবের এমন শাস্তি বাংলাদেশের ক্রিকেটের জন্য অনেক বড়ো ক্ষতি এবং ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। কারণ বাংলাদেশ ক্রিকেট টিমে সাকিবের বিকল্প কেউ নেই—এ কথা সকলেরই জানা। আগামী ম্যাচগুলো খেলতে হবে সাকিববিহীন, তাতে জয়ের অনিশ্চয়তা থেকেই যায়। পরিশেষে তরুণ ক্রিকেটারদের উদ্দেশে বলব, তাদের ওপর একটি দেশ বা জাতি অনেকখানি নির্ভর করে। ভবিষ্যতে যেন আর কোনো সাকিব ফিক্সিংয়ের মতো নিন্দনীয় ঘটনায় নিজেকে না জড়ান, যদি কোনো ফিক্সিংয়ের প্রস্তাব পানও তারা তবে সঙ্গে সঙ্গে যেন আইসিসির দুর্নীতি দমন কমিশনকে জানিয়ে দেন। কোনো মিডিয়া, পত্রিকা বা আর কোনো মাধ্যমে এরকম ঘটনার পুনরাবৃত্তি দেশবাসী দেখতে চায় না।

n লেখক :কবি ও শিক্ষক