কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার রামচন্দ্রপুর নৌবন্দর একসময় মুখর থাকলেও অবকাঠামো সুযোগ-সুবিধা কমে যাওয়ায় কর্মব্যস্ততা আগের মতো নেই। দিনভর হাঁকডাকেও যাত্রীর দেখা মেলে না। ফলে কখনো কখনো নির্ধারিত লঞ্চ গন্তব্যের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায় না। জেলা শহর থেকে প্রায় ৫১ কিলোমিটার দূরে এর অবস্থান। দক্ষিণ পাশের গ্রাম মুরাদনগরের রামচন্দ্রপুর আর উত্তরে হোমনা উপজেলার শোভারামপুর গ্রাম। মাঝে বয়ে যাওয়া তিতাস নদীর মুরাদনগর প্রান্তে থাকা রামচন্দ্রপুর বন্দর হয়েই নৌপথে মানুষ যাতায়াত করত ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, নরসিংদী ও ব্রাহ্মণবাড়ীয়াসহ কুমিল্লার দাউদকান্দি, মেঘনা, হোমনা, তিতাস উপজেলায়। পানিতে ভাসমান একটি পন্টুনের সঙ্গে নদীর তীরে লোহার সিঁড়ির সংযুক্তি রামচন্দ্রপুর নৌবন্দরের অস্তিত্ব জানান দেয়। চলাচলকারী যাত্রীদের জন্য নেই বিশ্রামাগার, ওয়াশরুম বা খাবার পানি। রোদ-বৃষ্টিতে তাই ভ্রমণকারীদের দুর্ভোগ চরমে ওঠে। প্রতিদিন অনেক নারী, শিশু, বয়স্ক বা অসুস্থ লোকজনকে লঞ্চঘাটে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করতে দেখা যায়। পন্টুুনটিতে রয়েছে দুটি কক্ষ। তার একটি বিআইডব্লিউটিএ-র অফিস কক্ষ, অন্যটি পরিত্যক্ত। তবে দুটিই মাসের পর মাস বন্ধ থাকে।
রামচন্দ্রপুর লঞ্চঘাটের ইজারাদারের কাছে জানা যায়, দুই ঈদের সময় যাত্রীদের অতিরিক্ত চাপ থাকে। বিআইডব্লিউটিএ-র দায়িত্বপ্রাপ্ত একজন আছেন সারেং পদমর্যাদার। মাসে একবার আসেন তিনি। বিদ্যুত্ সুবিধা না থাকায় ঝড়-বৃষ্টির দিনে রাতের বেলায় লঞ্চে ওঠা-নামায় চরম ঝুঁকিতে থাকেন যাত্রীরা। বর্তমানে এই বন্দর থেকে ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জ রুটে দুটি লঞ্চ চলাচল করে। একজন লঞ্চ কর্মচারীর কাছে জানা যায়, শুষ্ক মৌসুমে নদীর পাড়ের লোকজন লঞ্চ আস্তে চালাতে বাধ্য করেন। কেননা দ্রুতগতিতে লঞ্চ চালালে নদীর তীরে ভাঙনের সৃষ্টি হয়। পরিশেষে, কুমিল্লার এই একমাত্র নৌবন্দরটিকে আধুনিকায়ন করা হলে হাজার হাজার মানুষ নিরাপদে স্বচ্ছন্দে নির্দিষ্ট গন্তব্যে চলাচল করতে পারবে। এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।
মামশাদ কবীর
কান্দিরপাড়, কুমিল্লা