অনেক দেশেই ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর উন্নয়নের জন্য পৃথক মন্ত্রণালয় রয়েছে। ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী উন্নয়ন দপ্তর সরকারের সামরিক, বেসামরিক, আধা সামরিক, সরকারি, আধা সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত, আধা স্বায়ত্তশাসিত, কোম্পানি ও এমপিওভুক্তিসহ সরকারি সাহায্যপুষ্ট সকল প্রকার চাকরিতে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর কোটা অনুযায়ী নিয়োগ নিশ্চিত করবে। যেহেতু ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর বেশিরভাগই ভূমিহীন—তাদের নিজস্ব বসতবাড়ি নেই, তাই তাদের আবাসনের ব্যবস্থা করাও রাষ্ট্রের একটা জরুরি কাজ। এক্ষেত্রে ক্ষুদ্র নৃ- গোষ্ঠী উন্নয়ন মন্ত্রণালয় ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর জন্য সরকারি খাস জমির বন্দোবস্ত্ত ও সরকারিভাবে আবাসনের ব্যবস্থা নেবে। এছাড়া সে সকল ভূমিতে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী বসবাস করছে, তাদের বিকল্প স্থায়ী আবাসনের ব্যবস্থা না করে উচ্ছেদ না করার ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। এই দপ্তর ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীদের ভূমি সমস্যাসহ সকল অর্থনৈতিক সমস্যার সমাধানে সচেষ্ট থাকবে। ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী শিক্ষার্থীদের জন্য মাতৃভাষায় উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায় পর্যন্ত শিক্ষার ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। তাদের ভাষার উন্নয়নে পৃথক পৃথক একাডেমি স্থাপন, যেমন সাঁওতাল একাডেমি, চাকমা একাডেমি, মারমা একাডেমি, ত্রিপুরা একাডেমি, হাজং একাডেমি, খাসি একাডেমি, গারো একাডেমি, রাজবংশী একাডেমি, মনিপুরী একাডেমি, ওঁরাও একাডেমি থাকলে সুফল মিলবে। সংস্কৃতির উন্নয়নের জন্য ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর কালচারাল একাডেমিকে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী মন্ত্রণালয়ের অধীনে এনে এর শাখা ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী অধ্যুষিত জেলায় স্থাপন করা। বিষয়টির প্রতি সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।
রিপন কুমার দাস
ট্রেড ইন্সট্রাক্টর, ডোনাভান মাধ্যমিক বিদ্যালয়,
পটুয়াখালী