বরিশাল প্রধান ডাকঘরে কাঙ্ক্ষিত সেবা পাচ্ছে না গ্রাহকরা

বরিশাল প্রধান ডাকঘরসহ সাবপোস্ট অফিসগুলোতে ডিজিটাল সরঞ্জাম না থাকায় কাঙ্ক্ষিত সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে গ্রাহকরা। প্রধান ডাকঘরটি থেকে ইএমটিএস (ইমার্জেন্সি মানি ট্রান্সফার সার্ভিস দিবা ও নৈশ শিফট), ই-কমার্স, অনলাইন সেভিংস সার্টিফিকেট (অনলাইনে সঞ্চয়পত্র ক্রয়), পিএলআই (পোস্টাল লাইফ ইন্স্যুরেন্স) ও আইপিএস (ইন্টারন্যাশনাল পার্সেল সার্ভিস) ডিজিটাল সেবা দেওয়া হয় গ্রাহকদেরকে। এছাড়াও প্রায় ২৫ ধরনের সেবা প্রদানের কথা থাকলেও নানান সংকটে তা সম্ভব হচ্ছে না। প্রধান ডাকঘরে গড়ে প্রতিদিন কোটি টাকার বেশি লেনদেন হলেও জমা ও উত্তোলনের ১০টি কাউন্টারের একটিতেও ক্যাশ কাউন্টার মেশিন বা টেলার মেশিন এবং জাল নোট শনাক্তকারী মেশিন নেই। ট্রেজারিতে একটি মাত্র ক্যাশ কাউন্টার মেশিন থাকলেও তা দিয়ে উপজেলা ও সাবপোস্ট অফিসের টাকা গণনা করা হয়। এছাড়াও অনলাইন সঞ্চয়পত্রের ট্রেনিং দেওয়া হলেও প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম না থাকায় সেবা বন্ধ রয়েছে। একাধিক গ্রাহক জানান, বিভিন্ন কারণে তাদের প্রধান ডাকঘরের সেবা নিতে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও কাঙ্ক্ষিত সেবা পাচ্ছে না বলে তারা অভিযোগ করেন।

বরিশাল নগরীর নৌবন্দর সংলগ্ন প্রধান ডাকঘরের অধীন আটটি উপজেলা অফিস, সাবপোস্ট অফিস ৩১টি, এক্সটা সাবপোস্ট অফিস পাঁচটি ও ১০টি ব্রাঞ্চ পোস্ট অফিস রয়েছে। এসব অফিস থেকেও এ ধরনের সেবা দেওয়ার নির্দেশনা থাকলেও কম্পিউটার ও ইন্টারনেট সংযোগ না থাকায় গ্রাহকরা শুধু মোবাইলে টাকা লেনদেনের কাজটি করতে পারে। গ্রাহকরা জানান, প্রধান ডাকঘরসহ তাদের অধীন অফিসগুলোতে টাকার লেনদেনে পড়তে হয় নেটওয়ার্ক বিড়ম্বনায়। এছাড়া ডিজিটাল সুযোগ-সুবিধা না পাওয়ায় অনেকেই মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন এ সেবা থেকে। সরেজমিনে প্রধান ডাকঘরে দেখা গেছে, প্রয়োজনের তুলনায় সামান্যসংখ্যক কম্পিউটার রয়েছে যা খুবই ধীরগতির। ইন্টারনেট সংযোগ থাকলেও তা প্রায় সময়ই সচল থাকছে না। ৫ মিনিটের কাজ ৫০ মিনিটেও সম্পাদন করা সম্ভব হচ্ছে না প্রধান ডাকঘরের কম্পিউটারগুলোতে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কর্মকর্তারা জানান, ২৫টি কম্পিউটারের মধ্যে ১০টি কম্পিউটার সচল থাকলেও তা প্রায় ব্যবহার অনুপযোগী। বর্তমান সফটওয়ারে কাজ করতে ব্যর্থ কম্পিউটারগুলো নিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অলস সময় কাটাতে হচ্ছে সংশ্লিষ্টদের। প্রধান ডাকঘর সূত্র জানায়, বরিশাল প্রধান ডাকঘরটিতে ২২টি পদে ১৩২ জনবল বরাদ্দ থাকলেও কর্মরত রয়েছে ৯৯ জন, ৩২টি পদ শূন্য রয়েছে।