দেবীগঞ্জে শুরু হয়েছে জলপাই বিক্রি

পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জে অর্থনীতিতে সমৃদ্ধ হওয়ার নতুন মাত্রা যোগ করেছে জলপাই। ভিটামিন সি-সমৃদ্ধ সিজিওনাল ফলটির বিক্রি শুরু হয়েছে।

জানা গেছে, দেবীগঞ্জে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১০ লাখ টাকার জলপাই বিক্রি হচ্ছে। প্রতি কেজি জলপাই প্রকারভেদে ১৮ থেকে ২০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে।

ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, দেবীগঞ্জ থেকে প্রতিদিন ১ হাজার ৩০০ থেকে ১ হাজার ৪০০ মণ বা তারও বেশি জলপাই কেনা হয়। কমপক্ষে ১০০ জন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী জলপাই কিনে বাইরে থেকে আসা ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রি করেন। প্রতিদিন ছয়-সাতটি ট্রাক জলপাই লোড করে নিয়ে যায় দেশের বিভিন্ন প্রান্তে। ২০ টাকা কেজি হিসেবে মণ হয় ৮০০ টাকা। তাতে ১ হাজার ৩০০ মণের দাম হচ্ছে ১০ লাখ টাকারও বেশি। এভাবে জলপাই বেচাকেনা চলবে প্রায় তিন মাস যাবত্। সে অনুযায়ী দেবীগঞ্জের বাজার থেকে জলপাই বিক্রি হবে প্রায় ৯ কোটি টাকার। কার্তিকের প্রথম থেকে জলপাই বাজারে আসা শুরু করেছে, চলবে পুরো পৌষ মাস পর্যন্ত। কেনাবেচার এই প্রক্রিয়ায় দেবীগঞ্জে নতুন করে শতাধিক লোকের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।

এই অঞ্চলের জলপাই এখন যাচ্ছে ঢাকাসহ দেশের দক্ষিণাঞ্চলে। জলপাই কিনতে আসা ব্যবসায়ী  রহিদুল ও হেলালের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দক্ষিণাঞ্চলে জলপাইয়ের প্রচুর চাহিদা। এর একটি হচ্ছে ওদিকে জলপাই হয় না। অপরদিকে ঐ অঞ্চলের লোকজন ডালের মধ্যে জলপাই খায় এবং আচার করেও খায়।  উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শামীম ইকবাল জানান, জলপাই ভিটামিন সি ফল, উঁচু জমিতে জলপাই চাষ ভালো হয়। আর এখানকার জমি অপেক্ষাকৃত উঁচু, যা জলপাই ফলনের জন্য বেশ সহায়ক। দেবীগঞ্জে রয়েছে জলপাইয়ের ছোটো-বড়ো অসংখ্য বাগান। এছাড়া অধিকাংশ বাড়িতে রয়েছে দুই-চারটি করে জলপাইগাছ।

জলপাই থেকে আচার, তেল ও নানামুখী চাহিদা থাকায় এর প্রয়োজনীয়তা এখন সামনের দিকে এগোচ্ছে। কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগও কৃষকদের অনুপ্রেরণা দিচ্ছে। জলপাইয়ের ক্রমবর্ধমান চাহিদা ভবিষ্যতে এই উপজেলার অর্থনীতিতে আরো ব্যাপক গতি সঞ্চার করবে।