জন্মদিন পালন করা হলো না ওয়াজিদের

 স্টাফ রিপোর্টার, নারায়ণগঞ্জ

১২ বছরের ছোট্ট ছেলে ইফতেকার আহমেদ ওয়াজিদ। এ মাসের ১৬ তারিখে জন্মদিন তার। বাবা আব্দুল রুবেল ও মা কাকলী বেগমের প্রথম সন্তান। ৬ষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ছে। ইচ্ছা ছিল অনুষ্ঠানের মাধ্যমে জন্মদিন আয়োজন করবে। কিন্তু তা আর হলো না। প্রায় ৪৭ ঘণ্টা পর গতকাল বেলা সাড়ে ৩টায় তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নারায়ণগঞ্জ শহরের  বাবুরাইল এলাকায়  খালের উপর ধসে পড়া এইচএম ম্যানশন নামের চারতলা ভবনটির নিচতলার ভেতর একটি ভিমের নিচে কাঁদাপানিতে চাপা পড়া অবস্থায় ছিল ওয়াজিদের মরদেহ। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নারায়ণগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস এন্ড সিভিল ডিফেন্সের সহকারী উপ-পরিচালক আব্দুল্লাহ আল আরেফিন।

ছোট বেলা থেকেই আরবি শেখায় তার প্রবল আগ্রহ। মায়ের নির্দেশনা অনুয়ায়ী সে তার খালা রুনার ঘরে আরবি শিক্ষক সোনিয়ার কাছে পড়ত। প্রতিদিন বিকাল ৪টা থেকে ৫টা পর্যন্ত আরবি শিখত। প্রতিদিনের মতোই পড়ার জন্য মা কাকলী বেগম ৪টায় তাকে আরবি পড়তে পাঠায়। কিন্তু এখনো ফিরেনি ওয়াজিদ। ২৪ ঘণ্টা পরেও এক বুক আশা নিয়ে ছেলে ফেরার অপেক্ষায় ছিলেন কাকলী বেগম। কখন তার ছেলে তার বুকে ফিরবে। ফিরলো ওয়াজিদ। তবে একেবারে নিথরভাবে।

গত রবিবার নারায়ণগঞ্জ শহরের বাবুরাইল এলাকাতে খালের উপর নির্মিত ভবনটি ধসে পড়ে। এই ৪ তলা ভবনের নীচের তলায় আরবি পড়তে গিয়েছিল ওয়াজিদ, তার খালাতো ভাই সোয়াইব ও সমবয়সী স্বপনা। তারা জানায়, হঠাত্ করেই বাইরে থেকে জোরে জোরে ডাক আসল ওয়াজিদ, সোয়াইর তোরা কই বাইরে আয়, জলদি আয়। ভিতরের সবাই বের হতে থাকে। দরজার কাছাকাছি গিয়ে আবারও নিজের কোরআন শরিফের টানে ঘরের ভিতরে যায়। এর মধ্যেই ধসে পড়ে ভবনটি। ঘরের ভিতরে সবাই যখন পানির দিকে যেতে থাকে স্বপনা খাটের পায়া ধরে রাখে। সোয়াইরের উপর ভাড়ি জিনিস পড়ায় সে উঠতে পারে না, আর ওয়াজিদ গড়িয়ে বারান্দার দিকে যেতে থাকে। ওয়াজিদ স্বপনার হাত ধরলেও বেশিক্ষণ ধরে রাখতে পারেনি। সে বারান্দার দিকে গড়িয়ে চলে যায়। ঘরের বারান্দার অংশটি খালের পানিতে ডুবে যায়। এরপর ফায়ার সার্ভিস এসে উদ্ধার কাজ চালায়। সাত জনকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে। গতকাল ওয়াজিদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।