মো. কামরুল হাসান, সহকারী শিক্ষক
ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল জাহানাবাদ সেনানিবাস, খুলনা
১. কমা (,)
নাম : কমা
চিহ্ন : (,)
বাক্যে অবস্থান :মধ্যে
বিরতিকাল :১ (এক) বলতে যে সময় লাগে।
ফাঁকা (Space) :আগে ফাঁকা থাকবেনা, তবে পরে ফাঁকা থাকবে।
ব্যবহারের নিয়ম :
১. বাক্যের অর্থ স্পষ্ট করার জন্য কমা বসে। যেমন :সুখচাও, সুখপাবে পরিশ্রমে। কারণ, জানা গিয়াছে যে, যত বয়সই হোক, জীবিতদের মধ্যে জন্মে কেউ কখনও এমন গরম নাকি দেখেননি।
২. সমজাতীয় একাধিক পদ পরপর থাকলে কমা বসে। যেমন :পদ্মা, মেঘনা, যমুনা ও ব্রহ্মপুত্র আমাদের বড়ো নদী। পরিত্যক্ত বাড়িতে ইঁদুর, তেলাপোকা, চামচিকা, উইপোকা ইত্যাদির উত্পাত বেড়ে গেছে।
৩. সম্বোধন পদের পরে কমা বসে। যেমন :রনি, পড়তে বসো।হেনা, এদিকে এসো।
৪. উদ্ধৃতি চিহ্নের আগে কমা বসে। যেমন :মা বললেন, “অঙ্ক করতে বসো।‘তিনি বললেন, “আমি বাড়ি যাবনা।”
৫. একজাতীয় একাধিক বাক্যবা বাক্যাংশ পাশাপাশি ব্যবহূতহলেকমা বসে। যেমন :সজল শ্রেণিকক্ষে ঢুকল, বই রাখল, তারপর বেরিয়ে গেল।
৬. অন্যথা সূচক অব্যয় যদি বাক্যে ব্যবহূত হয়-তা হলে ঐ অব্যয়ের পূর্বেকমা বসে।যেমন :কাল অফিসে যেও, নইলে তোমার চাকরি থাকবেনা।
৭. অনেক অঙ্ক পরপর বসিয়ে সংখ্যা প্রকাশের ক্ষেত্রে কমা বসে।যেমন :১,৪৭,৫৭০। [ এক্ষেত্রে আগে ওপরে ফাঁকা থাকবেনা।]
৮. তারিখ লেখার সময় অনেক সময় কমা বসে। যেমন :৮ মাঘ, বুধবার, ১৩৭৫সাল।
৯. বাড়ি বা রাস্তার নম্বরের পরে কমা বসে। যেমন :৯, ইকবাল রোড, ঢাকা।
১০. নামের পরে ডিগ্রিসূচক পরিচয় সংযোজিত হলে কমা বসে।
যেমন :ড. ছিদ্দিকুর রহমান, এম.এ., এম.এড. ।
২. সেমিকোলন (;)
নাম : সেমিকোলন
চিহ্ন : (;)
বাক্যে অবস্থান :মধ্যে
বিরতিকাল :১ (এক) বলার দ্বিগুণ সময়সীমা।
ফাঁকা (Space) :আগে ফাঁকা থাকবেনা, তবে পরে ফাঁকা থাকবে।
ব্যবহারের নিয়ম :
১. বাক্যের মধ্যে একাধিক বক্তব্য থাকে, তাহলে অর্থস্পষ্ট করারজন্য একেকটি বক্তব্যের পরে সেমিকোলন বসে। যেমন :বাবা বললেন, “মিথ্যাবলার দরকার নেই; তুমি বলো, ‘আমি জানিনা’ ।”
২. কোনো তালিকায় একাধিকব্যক্তির নামওতাঁদের পদের উল্লেখ থাকলে বোঝবার সুবিধের জন্যে সেমিকোলন ব্যবহার করা প্রয়োজন হয়ে পড়ে। যেমন :অনুষ্ঠানে যাঁরা উপস্থিত ছিলেন তাঁরা হলেন : শামসুররহমান, সভাপতি; আবুল হোসেন, সাধারণ সম্পাদক; চিন্ময়দত্ত, প্রচার সম্পাদক।”
৩. দাঁড়ি (।)
নাম : দাঁড়ি
চিহ্ন : (।)
বাক্যেঅবস্থান :শেষে
বিরতিকাল :১ (এক) সেকেন্ডকাল পরিমাণ।
ফাঁকা (ঝঢ়ধপব) :আগেও পরে ফাঁকা থাকবে।
ব্যবহারের নিয়ম :
বাক্যের সমাপ্তি বা পূর্ণ-বিরতি বোঝাতে দাঁড়ি বসে।যেমন :আমরা বাংলাদেশে বসবাস করি।
[* বিজয় ফন্ট দিয়ে লিখলে আংশিক ফাঁকা এমনিতেই হয়ে যায়; কিন্তু অভ্রদিয়ে লিখলে একসাথে লেগে থাকে। সেক্ষেত্রে, পড়ার সময়বিভ্রান্তি ঘটতে পারে। তাই, অভ্র দিয়ে লেখার সময় ফাঁকা দিতে হয়; বিজয়ফন্ট দিয়ে লেখার সময় ফাঁকা দেওয়ার প্রয়োজন হয়না।]
৪. উদ্ধৃতি (‘ ’/“ ”)
নাম : উদ্ধৃতি
চিহ্ন : (‘ ’/“ ”)
বাক্যে অবস্থান :পূর্বে, মধ্যেও শেষে
বিরতিকাল :১ (এক) বলতে যেসময় লাগে।
ফাঁকা (Space) :আগে ওপরে ফাঁকা থাকবে।
ব্যবহারের নিয়ম :
১. একজনের বক্তব্যের ভিতরে যদি ভিন্নজনের বক্তব্য উদ্ধৃত হয়তা হলে প্রধান ক্ষেত্রে জোড়- উদ্ধৃতি চিহ্ন এবং তার অন্তর্গত উদ্ধৃতিতে এক-উদ্ধৃতি চিহ্ন বসে। যেমন :বাবা বললেন, “মিথ্যা বলার দরকার নেই; তুমি বলো, ‘আমিজানিনা’ ।”
২. সাধারণত উদ্ধৃত শব্দের দুইদিকে এক-উদ্ধৃতিএবং বাক্যাংশবা বাক্যেরদুই দিকেদ্বৈত-উদ্ধৃতি চিহ্ন বসে। যেমন :‘সন্ধি’ শব্দের অর্থ হলো মিলন।হৈম ব্যথিত হইয়া প্রশ্ন করিল, “কেহ যদি বয়স জিজ্ঞাসা করে কী বলিব ?”