জানা-অজানা

ফটোগ্রাফি ও ক্যামেরা

 

বিজ্ঞাননির্ভর একটি শিল্প মাধ্যম হচ্ছে ফটোগ্রাফি। এর উদ্ভব বা আবিষ্কারের পেছনে রয়েছে অনেক ঘটনা। ফটো এবং গ্রাফি শব্দ দুটি এসেছে গ্রিক শব্দ ‘ফটোস’ অর্থাত্ ‘আলো’ এবং ‘গ্রাফোস’ অর্থাত্ ‘অঙ্কন’ বা ’চিত্রন’ থেকে । ফটোগ্রাফি শব্দ দুটোর একত্রে অর্থ দাঁড়ায় আলো দিয়ে লেখন বা আলোকচিত্রন। ১৮৩৯ সালে জার্মানি জ্যোতির্বিদ রসায়নবিদ জন হারসেল ফটোগ্রাফি শব্দটি প্রথম ব্যবহার করেন। ফটোগ্রাফিকে ছবি আঁকার সঙ্গে তুলনা করা যায়। কারণ ছবি আঁকার ক্ষেত্রে ব্যবহার হয় রং, তুলি, আর্ট পেপার ইত্যাদি। আর ফটোগ্রাফির ক্ষেত্রে ক্যামেরা, লাইট, ফিল্ম, পেপার...। ফটোগ্রাফি হচ্ছে কোনো ঘটনা বর্ণনার একটি বিশ্বস্ত মাধ্যম।

ফটোগ্রাফির ক্ষেত্রে যে যন্ত্রটি ব্যবহার হয় সেটি হচ্ছে ক্যামেরা। আর এই ক্যামেরা আবিষ্কার করেন আরব জ্যোতির্বিদ ইবনে-আল-হাইথাম। আরব দেশে ক্যামেরার আবিষ্কার হলেও সেখানে ক্যামেরা দিয়ে ছবি তোলা হতো না। ক্যামেরা ব্যবহার হতো সূর্যগ্রহণ দেখার জন্য। সেই সময় ক্যামেরা দিয়ে ছবি তুলতে খরচ করতে হতো ৮ থেকে ১৬ ঘণ্টা এবং ছবিও আসত ঝাপসা বা অপরিষ্কার। ১৫৫০ সালে জার্মান বিজ্ঞানী জিরোদামে কারদানো ক্যামেরাতে লেন্স ব্যবহার করে ছবি তোলার সময় কমিয়ে আনেন এবং ছবিও আগের চেয়ে স্পষ্ট হয়। ১৮২২ সালে ফ্রান্সের জোসেফ নিসফোর নিপে স্থায়ী ছবি তোলেন। ১৮৩৯ সালের প্রথমদিকে ইংল্যান্ডের হেনরি ফক্স ট্যালবট কাগজের ওপর ‘নেগেটিভ-পজেটিভ’ পদ্ধতিতে ছবি তুলতে সক্ষম হন। তিনি ‘হাইপো’ ব্যবহার করে ছবিকে আরো স্থায়ী করে তোলেন এবং তাঁর পদ্ধতিতে ছবি তুলতে সময় লাগত মাত্র পাঁচ মিনিট।

১৮৪১ সালে হাঙ্গেরির পিটস্ভাল ক্যামেরায় যৌগিক লেন্স ব্যবহার করে ছবি তোলার সময়কে আরো কমিয়ে আনেন। তারপর ১৮৮৮ সালে আমেরিকার জর্জ ইস্টম্যান ফটোগ্রাফি জগতে এক কথায় বিপ্লব ঘটান। তিনি ক্যামেরার মাধ্যমে সহজে ছবি তোলার জন্য রোল ফিল্ম প্রচলন করেন এবং ১৯১৪ সালে চালু করেন কোডাক্রম পদ্ধতি, যার মাধ্যমে নেগেটিভে দুটো রং ধারণ সম্ভব হয় এবং তখন থেকেই সাদা-কালো ও রঙিন এই দু ধরনের ছবি তোলার প্রচলন শুরু হয়। ১৯৩৫ সালে আমেরিকার এম. ল্যাপোর্ডে বাল্ব ফ্লাশের পরিবর্তে ইলেকট্রিক ফ্লাশ এবং ১৯৫৯ সালে ভয়েগ্টল্যান্ডার জুম লেন্স প্রবর্তন করে ছবি তোলার মধ্যে ব্যাপক পরিবর্তন ও উন্নয়ন আনেন। এভাবেই সময়ের সিঁড়ি বেয়ে ফটোগ্রাফি আজ বহুল ব্যবহূত মাধ্যম হয়ে উঠেছে।

সচেতন মানসিকতা তৈরি এবং বহির্বিশ্বের সঙ্গে কোনো দেশের পরিচিত হওয়ার ক্ষেত্রে ফটোগ্রাফির রয়েছে বিরাট ভূমিকা। ফটোগ্রাফিকে বলা যায় আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন ভাষাশক্তি।