চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে রোগীদের জন্য বরাদ্দ সরকারি ওষুধ ফার্মেসিতে পাচারের অভিযোগ পাওয়া গেছে। হাসপাতালের কতিপয় অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারী, চিকিত্সক ও পুলিশ প্রশাসনের পরোক্ষ সহায়তায় নির্দিষ্ট কিছু ফার্মেসিতে এসব ওষুধ নিয়মিত পাচার হয় বলে অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্টরা। হাসপাতাল থেকে না পেয়ে ফার্মেসি থেকে এসব ওষুধ রোগীদের উচ্চমূল্যে কিনতে হচ্ছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক চমেকের এক কর্মচারী ইত্তেফাককে বলেন, ওষুধ পাচার একটি প্রতিদিনের ঘটনা। অতীতে বিভিন্ন সময়ে প্রশাসনের অভিযানে সরকারি ওষুধ ফার্মেসিতে পাওয়া গেছে। ইদানীং অভিযানের হার তুলনামূলক কম হওয়ায় পাচারের পরিমাণ বেড়ে গেছে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, চমেক হাসপাতালের চার জনের একটি মূল সিন্ডিকেট রয়েছে। যারা হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যদের সহযোগিতায় সরকারি ওষুধ অবৈধভাবে বিক্রয়ের সঙ্গে জড়িত। এ সিন্ডিকেট হাসপাতালের জরুরি বিভাগের পূর্ব গেটে ৩৫টি ওষুধের দোকানে সপ্তাহে ২ হাজার ৮০০ টাকা এবং মাসে ১১ হাজার ২০০ টাকা চাঁদা আদায় করে। বেশির ভাগ দোকানেই সরকারি পাচারকৃত ওষুধ রাতে কেনাবেচা হয় সিন্ডিকেটের ইশারায়। এছাড়া কয়েকজন ওয়ার্ড মাস্টার এ পাচারকাজের সঙ্গে জড়িত।
হাসপাতালে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বেশির ভাগ সময় ওষুধ পাচার হয় রোগীদের অপারেশনের সময়। একজন রোগীর অপারেশনের জন্য যেসব ওষুধ বরাদ্দ পাওয়া যায় তার মধ্যে কিছু ওষুধ অব্যবহূত থেকে যায়। সেগুলো নার্স এবং আয়াদের সহযোগিতায় কৌশলে পাচার করে দেওয়া হয়। পাচারকৃত ওষুধের মধ্যে রয়েছে বিভিন্ন ধরনের সেফরাডিন ক্যাপসুল, ওমেপ্রাজল ক্যাপসুল, হিপনোফাস্ট, ইঞ্জেকশন, নোবেসিট ইটোরেক কনসুকন, ডিজমা ইত্যাদি। আবার অপারেশনের জন্য রোগীর স্বজনকে দিয়ে এসব ওষুধ নির্দিষ্ট ফার্মেসি থেকে কিনে আনা হয়। এসব ওষুধের বেশির ভাগই রাতের বেলা মেডিক্যালের পূর্ব গেটে দালাল নিয়ন্ত্রিত ৩০/৩৫টি ফার্মেসিতে সরবরাহ করা হয়। অনেক ওষুধ আবার চট্টগ্রাম নগরের বাইরে বিভিন্ন জেলা উপজেলাতেও সরবরাহ করা হয়।
গত বছরের জুলাইতে নগর গোয়েন্দা পুলিশের এক অভিযানে দীপক দাশ নামে এক ফার্মেসি মালিককে গ্রেফতার করা হয়। পরে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ জানায়, হাসপাতালের কর্মচারী কাওসার হোসেনের মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে তিনি সরকারি ওষুধ সংগ্রহ করে বিক্রি করেন। এর আগে ২০১৫ সালের অক্টোবরে পাঁচলাইশ এলাকায় এক অভিযানের সময় সরকারি ওষুধ নালায় ফেলে ফার্মেসি মালিককে পালাতে দেখা গেছে। সে সময় কয়েকটি ফার্মেসি থেকে সরকারি ওষুধ ও চিকিত্সককে সৌজন্য হিসেবে দেওয়া ওষুধ উদ্ধার করে ভ্রাম্যমাণ আদালত।