গোয়ালন্দে বেরিয়ার বিহীন রেলগেট!

ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সংলগ্ন রেলগেটে বেরিয়ার না থাকায় চরম ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এতে যে কোন সময় দুর্ঘটনা ঘটে প্রাণহানির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

জানা গেছে, ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের ওপর দিয়ে গোয়ালন্দ ঘাট-পোড়াদহ রেল লাইন গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এলাকায় ক্রস (ঊ-২-অ) করেছে। প্রতিদিন এই রেলগেট পাড়ি দিয়ে ১০/১২ হাজার ছোট বড় যানবাহন চলাচল করে।

ট্রেন আসার সংক্ষেত পেলে দায়িত্বরত গেইটম্যানরা জরাজির্ণ বাঁশ কাঁধে করে এনে মহাসড়কের এক পাশে ব্রেরিয়ার হিসেবে ফেলে রাখে। অপরপাশে লাল রংয়ের পতাকা হাতে ঝুঁকি নিয়ে গাড়ির সামেন দাঁড়িয়ে থাকেন তারা। অনেক সময় দ্রুত গতির যানবাহনগুলো বাঁশের তোয়াক্কা না করে রেল লাইনের কাছে গিয়ে দাঁড়ায়। অনেক সময় ট্রেন একটু দূরে থাকায় গেটম্যানদের হিসেব না করে চলাচলকারীরা নিজ দায়িত্বে রেলগেট পার হয়ে চলে যায়। এ কারণে বড় ধরনের দূর্ঘটনার আশঙ্কা দেখা দেয়। 

সরেজমিনে দেখা যায়, বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১ টার দিকে খুলনা থেকে গোয়ালন্দ ঘাটগামী নকশী কাঁথা এক্সপ্রেস মেইল ট্রেন ওই রেলগেট পার হচ্ছিল। এ সময় মিতুল কুমার সরকার ও সোহেল রানা নামে দুইজন গেটম্যান একটি বাঁশ কাঁধে নিয়ে মহাসড়কের যানবাহন চলাচল বন্ধ করছিলেন। ট্রেনটি রেলগেট পার হয়ে যাওয়ার পর পূনরায় ওই বাঁশ গেটম্যান সড়কের বাইরে রেখে দেন। এ সময় শরিফুল নামে অপর গেটম্যান লাল পতাকা হাতে নিয়ে গেটের অপর প্রান্তে সড়কের মাঝখানে গাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে থাকেন।

গেটম্যানরা জানান, প্রায় ৭ মাস আগে এই রেলগেটের বেরিয়ার ভেড়ে যায়। উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষকেও জানানো হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা মো. শহিদুল ইসলাম জানান, এমনিতেই গোয়ালন্দ রেলগেট এলাকাটি দূর্ঘটনা প্রবণ এলাকা। এখানে প্রায়ই ছোট-বড় দূর্ঘটনা ঘটে থাকে। এ রকম একটি ব্যস্ততম রেলগেটে দীর্ঘদিন বেরিয়ার না থাকা দুঃখজনক।

এ বিষয়ে রাজবাড়ীর রেলওয়ের কর্মকর্তা এ.ই.এন আবু বক্কার সিদ্দিক জানান, গেট বেরিয়ার মেরামতের কাজটি চলমান আছে। আসা করছি দ্রুত সময়ের মধ্যে ওইখানে স্থায়ী রেলগেট বেরীয়ার নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হবে। তবে কবে নাগাদ হবে তা তিনি বলতে পারেননি।