বড়লেখা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স

অ্যাম্বুলেন্স চালকসহ দুই জনকে বদলি

মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অ্যাম্বুলেন্স চালক এবং পরিচ্ছন্নতাকর্মীকে বদলি করা হয়েছে। এছাড়া হাসপাতালের রোগীদের জন্য সরবরাহ করা খাবারের মান উন্নত করার জন্য ঠিকাদারকেও চিঠি দেওয়া হয়েছে।

গত শনিবার পরিবেশ মন্ত্রী হাসপাতাল পরিদর্শন করেন। তার চোখে বিভিন্ন অনিয়ম ধরা পড়ে। এরপরই এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

বড়লেখা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে, বদলি হওয়া কর্মচারীরা হচ্ছেন- হাসপাতালের অ্যাম্বুলেন্স চালক মাছুম উদ্দিন, পরিচ্ছন্নতাকর্মী মো. মৌলা মিয়া। তাদের মধ্যে অ্যাম্বুলেন্স চালককে জুড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও পরিচ্ছন্নতাকর্মীকে শ্রীমঙ্গল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বদলি করা হয়েছে। গত বুধবার জেলার সিভিল সার্জন ডা. মো. শাহজাহান কবীর চৌধূরী তাদের বদলির আদেশ দেন। এছাড়া হাসপাতালের রোগীদের জন্য সরবরাহ করা খাবারের মান উন্নত করার জন্য পরিবেশনকারী ঠিকাদার মো. আতাউর রহমানকে ৭ নভেম্বর বৃহস্পতিবার চিঠি দিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

অপরদিকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে আপত্তিকর মন্তব্যের কারণে হাসপাতালের উপসহকারী কমিউনিটি মেডিক্যাল অফিসার মো. দীদার হোসেনের বিরুদ্ধেও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে চিঠি দেওয়া হয়েছে। তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে ৭ নভেম্বর বৃহস্পতিবার চিঠি দেওয়া হয়। এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে থানায় জিডি হয়েছে।

বড়লেখা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আহম্মদ হোসেন বৃহস্পতিবার বলেন, ‘চালক এবং পরিচ্ছন্নতাকর্মীকে বদলি করা হয়েছে। গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশসহ কর্মক্ষেত্রে তাদের অবহেলা ও নানা কারণে তাদের বদলি হয়েছে। সম্প্রতি মন্ত্রী পরিদর্শন করে খাবারের মানের বিষয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন। এজন্য ঠিকাদারকেও চিঠি দেওয়া হয়েছে। উপসহকারী কমিউনিটি মেডিক্যাল অফিসারের বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। তার মন্তব্যটি সঠিক হয়নি। কর্তৃপক্ষ সিদ্ধান্ত নেবেন।’

প্রসঙ্গত, সম্প্রতি বড়লেখা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের তিন কর্মচারীর বিরুদ্ধে অ্যাম্বুলেন্স বাণিজ্যের অভিযোগের কথা উল্লেখ করে ইত্তেফাকে সংবাদ প্রকাশ হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ২ নভেম্বর কোনো পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শন করেছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক মন্ত্রী মো. শাহাব উদ্দিন। এসময় মন্ত্রীর চোখে বিভিন্ন অনিয়ম ধরা পড়ে।