রাজধানীর ধানমন্ডিতে গৃহকর্ত্রী আফরোজা বেগম ও গৃহপরিচারিকা দিতি খুনের কথা স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন সুরভী আক্তার নাহিদা। বৃহস্পতিবার ঢাকা মহানগর হাকিম সরাফুজ্জামান আনছারীর আদালতে তিনি জবানবন্দি দেন। জবানবন্দি রেকর্ড শেষে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়।
আদালতে হাজির করে আসামি সুরভীর জবানবন্দি রেকর্ড করার জন্য আবেদন করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের পরিদর্শক রবিউল আলম। পরে আদালত তার জবানবন্দি রেকর্ড করেন। গত ১ নভেম্বর ধানমন্ডির ২৮ নম্বর রোডে অবস্থিত ২১ নম্বর বাসার ই-৫ ফ্ল্যাটে গৃহকর্ত্রী আফরোজা বেগম ও গৃহপরিচারিকা দিতি খুন হন।
আদালতে দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে সুরভী আক্তার নাহিদা বলেন, তিন বছর আগে নিহত আফরোজার বাসার পাশের পানের দোকানদার সুমনের সঙ্গে তার পরিচয় ঘটে। একপর্যায়ে তাদের মধ্যে মানসিক ও শারীরিক সম্পর্ক গড়ে উঠে। শেরেবাংলা নগর উচ্চ বিদ্যালয়ে ক্লাস নাইন পর্যন্ত পড়ার পর তার আর পড়াশোনা হয়নি। বেকার থাকায় ঢাকার একটি শপিংমলে তিনি ক্লিনার হিসেবে কাজ শুরু করেন। এমনকি মিরপুরের একটি গার্মেন্টসে তিনি কাজ নেন। কিন্তু মানসিক অশান্তির কারণে তিনি ঐ চাকরি করেনি। সুরভী তার বড়ো বোনকে নিয়ে আগারগাঁও বিএনপির বস্তিতে ভাড়া থাকতেন।
সংসারে টানাপড়েনের কারণে একদিন ঐ পান দোকানি সুমনকে সুরভী জানান যে, যেকোনো বাসায় গৃহকর্মীর কাজ করতে তিনি রাজি আছেন। ঐ পান দোকানির কাছে পান খেতেন নিহতের জামাতার গাড়িচালক বাচ্চু। বাচ্চু তার মালিকের বাসায় এক জন কাজের মেয়ে লাগবে সুমনকে বিষয়টি জানালে ১ নভেম্বর সুমনের মাধ্যমে ঐ বাসায় গৃহকর্মী হিসেবে তিনি যোগ দেন। ঐ দিন দুপুরে গিয়ে তিনি ঐ বাসার কাপড় ধুয়ে ভাতও খেয়েছেন। বিকাল ৪টার দিকে ঘরের কাজ শেষ করে একপর্যায়ে তিনি বাইরে যেতে চান। কিন্তু আফরোজা বেগম তাকে ঘরের বাইরে বের হতে দেননি।
আফরোজা বেগম তাকে জানান যে, তাকে বাসার বাইরে যাওয়া নিষেধ। যে তাকে বাসায় কাজ পাইয়ে দিয়েছেন সে আসলে যেতে পারবেন। আফরোজা ও অন্য কাজের মেয়ে দিতি মূল গেটে তালা দেন। তাকে বাসার বাইরে না যেতে দেওয়ার কারণে সে ফ্ল্যাটে ভয় পাচ্ছিল। তাকে পাচার কিংবা অন্য কোনো অনৈতিক কাজে জড়ানো হয় কি-না তার মধ্যে সন্দেহের দানা বেঁধে উঠে। তারই পরিপ্রেক্ষিতে আপেল কাটা চুরি দিয়ে উপর্যপরি আঘাত করে গৃহকর্ত্রী আফরোজা বেগম ও গৃহকর্মী দিতিকে হত্যা করে সুরভী।