ব্রিটিশ আমলে ভারতের অন্ধ্র প্রদেশ, রাজস্থান, মাদ্রাজ ও আসাম থেকে পরিচ্ছন্নতা কর্মী হিসেবে ও চা-বাগানে কাজের জন্য তেলেগু ভাষাভাষী অনেক নারী-পুরুষ এদেশে এসেছিল। তাদের কর্মদক্ষতা ও সহজ সরল মন মানসিকতার কারণে দ্রুতই এদেশের মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্যতা পায় তারা। এরপর বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানে স্থানীয় সরকার কর্তৃক প্রদত্ত জমি, রেল স্টেশনসহ সরকারি খাস জমিতে বসবাস করতে শুরু করে এসব নারী-পুরুষ। মূলত হরিজন ও দলিত সম্প্রদায় হিসেবেই এরা বেশি পরিচিত। তবে দুঃখের বিষয় শিক্ষাগতভাবে পিছিয়ে পড়া এসব হরিজন এখন নিজেদের মাথা গোঁজার ঠাঁই নিয়ে আতঙ্কে আছে।
জানা যায়, নারায়ণগঞ্জ রেলওয়ে স্টেশন কলোনিতে ১৯৬১ সাল থেকে বসবাস করে আসছে হিন্দু হরিজন সম্প্রদায়ের প্রায় ৩২টি পরিবারের লোকজন। ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ রেললাইন ডাবল লেন প্রকল্পের জন্য উচ্ছেদ হতে পারে এই কলোনিটি। এতে হুমকির মুখে রয়েছে হরিজনদের অর্ধশত বছরের পুরোনো এই আশ্রয়স্থল। নারায়ণগঞ্জ রেলওয়ে কলোনির হরিজনদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, পেশাগত কারণে সমাজের অন্যান্য জনগোষ্ঠীর সঙ্গে তাদের একটা দূরত্ব সৃষ্টি হওয়ার কারণে; তারা যে কোনো জায়গাতে ইচ্ছা করলেই বসবাস করতে পারে না। তাই তাদের দাবি, পুনর্বাসন করে তাদের যেন এখান থেকে উচ্ছেদ করা হয়। রঞ্জন ভাওয়াল নামে হরিজন সম্প্রদায়ের একজন বলেন, আমার বয়স ৫০ বছরের বেশি, জন্ম এখানেই হয়েছে এবং বাবা ও মায়েরাও শুনেছি এখানেই থাকত । তাই এই কলোনি ছাড়া আমাদের আর কোনো ঠিকানাও নেই। যদি এখান থেকে আমাদের ঘর-বাড়ি ভেঙে দেওয়া হয় তাহলে আমাদের রাস্তাতেই থাকতে হবে। শান্তি রঞ্জন দাস নামে আরেক জন বলেন, এখানকার বেশির ভাগ মানুষই সুইপার, ময়লা পরিষ্কারসহ নানা ধরনের কাজ করে। তাই এখানকার মানুষ যত্রতত্র ভাড়া বাসায় থাকতে পারে না।
কিন্তু এখন যদি তাদের এখান থেকে উচ্ছেদ করা হয়, তাহলে তারা যাবে কই? তাই যদি তাদের বিষয়ে সরকারি লোকজন একটু চিন্তা করে তাহলে ভালো হয়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক হরিজন সম্প্রদায়ের এক যুবক বলেন, যদি এখান থেকে আমাদের সরিয়ে দেওয়া হয় তাহলে আমরা কই যাব? কোনো রকম পুনর্বাসন না করেই আমাদের উচ্ছেদ করাটা অন্যায় হবে। শুনেছি রাজধানীতে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের সহযোগিতায় সেখানকার হরিজনরা মাথা গোঁজার জন্য বেশ কয়েকটি বহুতল ভবন পেয়েছে। তাই আমরা আশা করছি আমাদের জন্যও নারায়ণগঞ্জে এরকম কোনো উদ্যোগ নেওয়া হবে।