দেশে মিথ্যা ঘোষণায় আমদানি নিষিদ্ধ পণ্য আসছে ব্যাপক হারে। দেশের পাঁচটি কোম্পানি ক্যাসিনো-সামগ্রী আমদানি করে নিয়ে আসার ঘটনার পর ভায়াগ্রাও আমদানি হয়ে আসে মিথ্যা ঘোষণায়। আসছে সিসাসহ স্বাস্থ্যহানিকর নানা পণ্য। যদিও ক্যাসিনো আমদানি নীতিমালায় নিষিদ্ধ ছিল না বলেই বন্দর থেকে খালাস পেয়েছে এবং সেগুলোও খেলনাসামগ্রী হিসেবে আনা হয়েছিল। তবে এখন ক্যাসিনো-সামগ্রী আমদানি নিষিদ্ধ পণ্যের তালিকায় স্থান করে নিয়েছে।
বন্দরসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, মাদক, সিগারেটের চোরাচালান হলেও মিথ্যা ঘোষণায় নিয়ে আসার ঘটনা ক্রমেই বাড়ছে। সর্বশেষ কসমেটিকস পণ্য হিসেবে চট্টগ্রাম বন্দরের মাধ্যমে দেশে ঢুকেছে সিসা। নেশাজাতীয় এই দ্রব্য দেশে ঢোকার পর স্থলবন্দরগুলোর মাধ্যমে সহজেই আরো আমদানি নিষিদ্ধ পণ্য আসার সুযোগ রয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো।
জানা যায়, আমদানিকৃত পণ্যের পরীক্ষা, স্থলবন্দরগুলোতে কায়িক পরীক্ষার দুর্বলতা, টেস্টিং ল্যাব না থাকা, কাস্টমস কর্মকর্তাদের যোগসাজশ প্রভৃতি কারণে নিষিদ্ধ পণ্যের প্রবেশ বাড়ছে। অভিযোগ রয়েছে, বন্দরে পণ্য খালাস করার জন্য একটি গ্রুপ রয়েছে, যারা কর্মকর্তাদের ‘ম্যানেজ করা’র দায়িত্ব নেয়। থাকে নানা মহলের তদবির। এতে করে শুধু আমদানি নিষিদ্ধ পণ্যই দেশে আসছে না, বরং নিষিদ্ধ পণ্য সমাজকেও অস্থির করে দিচ্ছে। ধ্বংস করে দিচ্ছে দেশের যুবসমাজকে।
সর্বশেষ, কসমেটিকসের সহযোগী পণ্য হিসেবে আমদানি করা হয় সিসা, যা একধরনের মাদক এবং আমদানি নিষিদ্ধ পণ্য। গত বুধবার চট্টগ্রাম কাস্টম হাউজের কর্মকর্তারা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতি এ ধরনের একটি বড়ো চালান পরীক্ষা করে তা সিসা হিসেবে চিহ্নিত করেছেন বলে সূত্র জানিয়েছে।
আমদানিকারক প্রিমিয়ার ট্রেডিং নামে একটি প্রতিষ্ঠান এসব আমদানি নিষিদ্ধ সিসা কসমেটিকস ও অ্যাসোর্টেড পণ্য হিসেবে আমদানি করে। কিন্তু সন্দেহ হওয়ার পর এসব পণ্যের খালাস স্থগিত করে তা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে পরীক্ষা করা হয়। পরীক্ষায় প্রাথমিকভাবে ৫৪ কেজি সিসা চিহ্নিত করা হয়। এছাড়া সিসার সহযোগী হিসেবে ১৯২ কেজি চারকোল এবং বিপুল পরিমাণ নিকোটিন উদ্ধার করা হয়। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, চট্টগ্রাম বন্দরে এই প্রথমবারের মতো এ ধরনের সিসা আটক করা হয়।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন অনুযায়ী শূন্য দশমিক ২ শতাংশের বেশি নিকোটিন পাওয়া গেলে তা মাদকদ্রব্য হিসেবে বিবেচিত হবে। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আলোচ্য পণ্যে নিকোটিনের পরিমাণ ছিল শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ।
এর আগে বেনাপোলে এক চালানেই আড়াই হাজার কেজি ভায়াগ্রা ধরা পড়ে, যা সোডিয়াল স্টার্চ গ্লাইকোলেট নামে আমদানি করা হয়। বাস্তবে এর নাম সিলডেনাফিল সাইট্রেট। কিছু কোমল পানীয় উত্পাদনকারী প্রতিষ্ঠান কোমল পানীয় উত্পাদনে এ পণ্য ব্যবহার করছে মর্মেও ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তরে অভিযোগ রয়েছে বলে জানা গেছে। এছাড়া মিথ্যা ঘোষণায় আনা পণ্যটি ইউনানি ও আয়ুর্বেদিক যৌন উত্তেজক ওষুধ তৈরিতেও ব্যবহার করা হয় বলে জানায় সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো।