রাজধানীতে ডিবি পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুক যুদ্ধে’ এক জন নিহত ও দুই জন আহত হয়েছেন। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করেছে ২টি পিস্তল, ৫ রাউন্ড গুলি, র্যাবের ৩টি জ্যাকেট, ২টি ওয়ারলেস সেট, ১ জোড়া হ্যান্ডকাফ ও ডাকাতি কাজে ব্যবহূত একটি মাইক্রোবাস। বুধবার দিবাগত রাত ১টার দিকে বাড্ডা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহতের নাম মো. লাভলু। আহতরা হচ্ছেন সেলিম চৌকিদার ও কামাল হোসেন। পুলিশ প্রহরায় তাদেরকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, নিহত লাভলু ও আহতরা কখনো ভুয়া ডিবি, কখনো র্যাব সেজে ব্যাংক ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সামনে থেকে টাকা নিয়ে যাওয়ার সময় ছিনতাইর সঙ্গে জড়িত। তাদের বিরুদ্ধে রাজধানীর বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা রয়েছে।
অভিযান পরিচালনাকারী ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের উপ-কমিশনার (উত্তর) মশিউর রহমান বলেন, গত ১৯ অক্টোবর মেরুল বাড্ডার প্রগতি সরণীতে দুর্বৃত্তরা একটি লোকাল বাসের গতিরোধ করে এক যাত্রীকে জোরপূর্বক নামিয়ে নেয়। এরপর চোখ বেঁধে মাইক্রোবাসে তোলে যাত্রীর কাছে থাকা ৫ লাখ ৩৫ হাজার টাকা নিয়ে নেয় এবং তাকে ডেমরা ব্রিজে ফেলে দেয়। মামলাটির ছায়া তদন্ত শুরু করে ডিবি উত্তর বিভাগ। ঐ যাত্রীকে বাস থেকে নামানোর সময় দুর্বৃত্তদের পরনে ছিল র্যাবের জ্যাকেট, হাতে ছিল ওয়ারলেস ও হ্যান্ডকাপ, কোমরে ছিল পিস্তল। এ ঘটনায় বাড্ডা থানায় একটি নিয়মিত মামলা হয়েছে।
এ গোয়েন্দা কর্মকর্তা বলেন, তারই ধারাবাহিকতায় বুধবার রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বাড্ডার একশ ফিট এলাকায় অভিযান চালানো হয়। এ সময় নম্বর বিহীন একটি মাইক্রোবাস রাস্তার পাশে দাঁড়ানো অবস্থায় দেখে ডিবি পুলিশ চ্যালেঞ্জ করে। সঙ্গে সঙ্গে ঐ মাইক্রোবাস থেকে ডিবি পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি ছোঁড়ে। ডিবি পুলিশ ও আত্মরক্ষার্থে পালটা গুলি করে। অবস্থা বেগতিক দেখে মাইক্রোবাসে থাকা দুর্বৃত্তরা দৌড়ে পালাবার সময় তিনজন গুলিবিদ্ধ হয়। অন্যরা পালিয়ে যায়। আহত তিনজনকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পর ভোর ৪টার দিকে কর্তব্যরত চিকিত্সক লাভলুকে মৃত বলে ঘোষণা করে।
উপকমিশনার মশিউর রহমান আরো বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আহত সেলিম ও কামাল স্বীকার করেছে তারা বাস যাত্রীর টাকা লুট করার ঘটনার সঙ্গে জড়িত ছিল।