তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি
প্রিয় শিক্ষার্থীবৃন্দ,
আজ ৫ম অধ্যায়- প্রোগ্রামিং ভাষা নিয়ে আলোচনা করা হলো। এগুলো মনোযোগ দিয়ে পড়বে।
প্রশ্ন-১। প্রোগ্রামিং ভাষা বলতে কি বুঝায়? বিভিন্ন প্রকার প্রোগ্রামিং ভাষার সুবিধা-অসুবিধাসহ বর্ণনা দাও।
উত্তর: প্রোগ্রামিং ভাষা : কমিপউটারকে নিদের্শ প্রদান করার জন্য ব্যবহূত শব্দ, বর্ণ, সংকেত এবং এগুলো বিন্যাসের নিয়ম মিলিয়ে তৈরি হয় প্রোগ্রামিং ভাষা। কমিপউটারের নিদের্শ প্রদানযোগ্য প্রোগ্রামের ভাষা সুনির্দিষ্ট এবং নির্ভুল না হলে কমিপউটার কোন কাজ করে না।
কমিপউটার একটি মেশিন। তার একটি নিজস্ব ভাষা আছে।। এটি ইংরেজি, বাংলা, আরবি, উর্দু, হিন্দি ইত্যাদি কোন ভাষায় বোঝে না। শুধু তার নিজের ভাষায় প্রোগ্রাম লিখলেই সে বুঝতে পারে, অন্যথায় পারে না। কমিপউটার প্রোগ্রাম রচনার অনেকগুলো ভাষা আছে।
প্রোগ্রাম তৈরির জন্য বর্তমানে চার ধরনের প্রোগ্রামিং ভাষা ব্যবহার করা হয়। যথা-
১. যান্ত্রিক ভাষা বা মেশিন ভাষা
২. অ্যাসেম্বলি ভাষা
৩. উচ্চ স্তরের ভাষা
৪. চতুর্থ প্রজন্মের ভাষা।
নিম্নে এদের বর্ণনা দেয়া হলো :
১. যান্ত্রিক ভাষা বা মেশিন ভাষা : যান্ত্রিক ভাষার সহজ অর্থ হচ্ছে যন্ত্রের নিজস্ব ভাষা। কমিপউটার যন্ত্র সরাসরি যে ভাষা বুঝতে পারে সেই ভাষায় হচ্ছে কমিপউটারের যান্ত্রিক ভাষা। পৃথিবীর কোন দেশের মানুষের ভাষায় কমিপউটার বুঝতে পারে না। কমিপউটার মাত্র একটি ভাষায় বুঝতে পারে। সেটি হচ্ছে তার যন্ত্রের ভাষা। কমিপউটারের এই যন্ত্রের ভাষা তৈরি হয় বাইনারি সংখ্যা পদ্ধতিতে। বাইনারি সংখ্যা পদ্ধতিতে মাত্র 2টি অংক (0,1) ব্যবহূত হয়।
সুবিধা:
১. এ ভাষা সিপিইউ সরাসরি বুঝতে পারে বলে অন্য ভাষার তুলনায় কম সময় লাগে।
২. এ ভাষায় লিখিত প্রোগ্রাম দ্রুত নির্বাহ হয়।
৩. মেমরি কম হলেও প্রোগ্রাম রান করানো যায়।
অসুবিধা:
১. অনেক সময়ের প্রয়োজন হয়।
২. ভুল সনাক্ত করা বেশ কষ্টসাধ্য।
৩. এ ভাষায় এক কম্পিউটারের জন্য লিখিত প্রোগ্রাম অন্য কমিপউটারে চালানো যায় না।
২. অ্যাসেম্বলি ভাষা : এ ভাষার প্রচলন শুরু হয় ১৯৫০ সাল থেকে। দ্বিতীয় প্রজন্মের কমিপউটারে এ ভাষার ব্যাপক প্রচলন শুরু হয়। মেশিনের ভাষার মতো বাইনারি সংখ্যা সরাসরি ব্যবহার না করে বরং কতকগুলো বিটের সমষ্টিকে কয়েকটি ইংরেজি বর্ণের সাহায্যে বিশেষ কোডে প্রকাশ করে কম্পিউটারকে বোঝানো হয়। যেমন- যোগ করার জন্য কমিপউটারকে ADD বা A, বিয়োগ করার জন্য SUB বা S ইত্যাদি ব্যবহার করা হয়।
সুবিধা:
১. এ ভাষায় প্রোগ্রাম রচনা করা যান্ত্রিক ভাষার তুলনায় অনেক সহজ।
২. প্রোগ্রাম রচনা করতে কম সময় লাগে।
৩. সহজে প্রোগ্রামের ভুল ধরা যায়।
৪. প্রোগ্রাম পরিবর্তন করা সহজ।
অসুবিধা:
১. প্রোগ্রাম রচনার সময় প্রোগ্রামারকে মেশিন সমপর্কে ধারণা থাকতে হয়।
২. ভিন্ন ভিন্ন মেশিনে ভিন্ন ভিন্ন অ্যাসেম্বলি ভাষা ব্যবহার করতে হয়।
৩.ইহা যন্ত্র নির্ভর ভাষা।