সকালে সবুজ ঘাসের উপর রোদকে চাদর বিছিয়ে আয়েশ করতে দেখে ছুটে গেল সে। দুই হাত ছড়িয়ে মুখ তুলে ধরে রোদকে পাবে বলে। কাপড়ের নিচে উষ্ণতা ছড়িয়ে পড়ছে টের পায়। বলে, এ জীবন বড় সুন্দর।
এভাবে আগে বলেনি সে, জীবন বড়ো সুন্দর। আগে সে ছুটে পালিয়েছে রোদ থেকে। ছায়ার খোঁজে গাছের নিচে ছুটে গেছে, ঘন সবুজ পাতার গাছ, যার ফাঁক গলে রোদ আসতে পারে কম অথবা মোটেও আসে না। গাছ না পেলে মৃত কংক্রিটের দেয়াল-বাড়িঘরের আড়ালে ছায়ার তৃষ্ণা মিটিয়েছে সে। অস্থির হয়েছে বিরক্তির চটচটে ঘাম নিয়ে। বলেছে, তাপ আমার পছন্দ নয়।
দূর থেকে দেখতে হয়েছে সবই। অভিমান কি জমেনি সেই থেকে?
জমেছে।
অভিমান জমে জমে মেঘ হয়, ঢেকে দিতে চায় রোদের প্রপাত। তখনি সে নতজানু হয়েছে। শিহরিত হয়েছে শীত শীত অনুভূতিতে। জড়ানো কণ্ঠে বলেছে, আমাকে তাপিত করো। ওম ওম আদুরে তাপ কত প্রয়োজন আমার, কী করে বোঝাই বল!
আসলেই তো, অস্থিমজ্জাতে প্রাণ বিন্দু বিন্দু করে জমিয়ে তুলতে নির্দেশিত হয়েছে সে, কেননা পৃথিবীর পথে বয়স তো বাড়ছে বৈ কমছে না। ওদিকে পৃথিবীরও হাল ঝামা ঝামা, তাপিত বলেই শাপিত আজকাল সকলের, এমনকি সেও অন্য সময় ঠিকই এড়িয়ে চলে সাবধানে, ছায়াতে অর্ঘ্য দেয় জমা।
অভিমান জমে জমে ব্যথাহীন রোদ জিঘাংসা ঢেলে দেয় প্রপাতে। নেমে আসে রোদ, দুই হাত বাড়িয়ে সে যখন ওম চায়, তখন চামড়ায় বসে যায় কর্কট শাপ। তাপ বলে ভ্রম হয়, ভ্রমরের মতো গুঞ্জন তোলে। সে বোঝে না, ভাবে এ-ই তবে জীবনের একান্ত সৌন্দর্য!
আসলে সৌন্দর্য শব্দটাই আপেক্ষিক। বিষয়টা অ্যাবস্ট্রাক্ট কি না, তা নিয়েও ভাবতে হয় আজকাল।
অলংকরণ :অভিজিত্ চৌধুরী