প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষা হলো ভবিষ্যত পাবলিক পরীক্ষার প্রস্তুতি

প্রিয় পরীক্ষার্থী বন্ধুরা, ১৭ নভেম্বর শুরু হবে প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষা। তোমাদের প্রতি রইল আমার শুভেচ্ছা ও আন্তরিক অভিনন্দন। আশাকরি, তোমাদের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। সিলেবাস অনুযায়ী লেখাপড়া করেছ। প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষার সবচেয়ে ভালো দিক হলো নিজের স্কুলের বাইরে অন্য স্কুলে গিয়ে পাবলিক পরীক্ষার জন্য নিজেকে তৈরি করার একটা সুযোগ। এই পরীক্ষার মাধ্যমে তোমাদের ভবিষ্যতে এসএসসি কিংবা এইচএসসির মতো পাবলিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করার প্রস্তুতি নেয়া হয়ে যায়। সমাপনী পরীক্ষা চালু হওয়ার পর থেকে ঝরে পড়ার হার অনেকটা কমে গেছে। এপরীক্ষার মাধ্যমে অভিভাবকদের মধ্যেও একটা মনোভাব তৈরি হয়েছে যে এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা একটা সার্টিফিকেট পায় এবং সন্তান সফলভাবে একটা পরীক্ষা সম্পন্ন করে।

সমাপনী পরীক্ষার ভালো দিক আছে বলেই সরকার এ পরীক্ষাটাকে নিয়মিত করেছে। সমাপনী পরীক্ষা সম্পন্ন করার জন্য কতগুলো বেঞ্চ মার্ক দেয়া আছে যে এই পরীক্ষার মাধ্যমে সে কী কী দক্ষতা শিক্ষার্থী অর্জন করলো। সে বেঞ্চ মার্কটা পরিমাপ করার মাধ্যম হলো প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষা। সমাপনী পরীক্ষা নেয়া প্রথম দিকে কিছুটা চ্যালেঞ্জ ছিলো। বাচ্চাদের  অন্য স্কুলে গিয়ে পরীক্ষা দিতে মনস্তাত্ত্বিকভাবে একটা দুর্বলতা কাজ করতো। যা এখন আর নেই। এখন সমস্যা হলো ভালো ফলের জন্য পরীক্ষার আগে শিক্ষার্থীদের উপর অভিভাবকদের অযাচিত চাপ। এটা এখন ট্রেন্ড হয়ে দাঁড়িয়েছে। আগে বাচ্চাদের যে স্বাধীনতা দেয়া হতো  এখন আর সেই স্বাধীনতা দেয়া হয় না। অভিভাবকরা সন্তানদের নিজেদের মতো করে আগলে রাখে। এই ক্ষতিকারক ট্রেন্ড থেকে দূরে সরে আসতে হবে। পড়াশোনার ক্ষেত্রে তার সন্তান কতটুকু নিতে পারবে বা কোন দিকে তার দক্ষতা আছে সে দিকে খেয়াল রাখতে হবে। অভিভাবকরা মনে করেন তার সন্তানকে সর্বোচ্চ মার্ক পেতেই হবে। আমি এমনও দেখেছি একজন শিক্ষার্থী একটি বিষয়ে ৯৬ পেয়েছে তারপরও সেই অভিভাবক উত্তরপত্র পুন:নিরীক্ষার আবেদন করেছেন। এটা খুবই দু:খজনক। কেন তার সন্তান ৪ নম্বর কম পেলো, ১০০ পেলো না, এটা তার কষ্ট। এমন অহেতুক কষ্ট পরিহার করুন। শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক স্বাধীনতা দিন। শাসন যদি করতে হয় তবে মায়ায় ঘেরা ছায়ায় ঘেরা রূপটি যেন থাকে শাসনে। তাদের মায়া-মমতা দিয়ে বড় করুন।