নারী-পুরুষের সমতা আদৌ সম্ভব?

পুরুষ ও নারীর মধ্যে সমতা কি কখনো সম্ভব—বিশেষ করে যখন তাদের মধ্যে অনেক সহজাত পার্থক্য রয়েছে?

বর্তমান সময়ের পরিপ্রেক্ষিতে আমরা ‘সমতা’ কথাটাকে ভুল বুঝেছি। ‘সমতা’ মানে ‘এক’ নয়। সমতা মানে সমান সুযোগ, সমান যত্নশীলতা, সমান সম্মান, কিন্তু এক বা এক ধরনের কার্যকলাপ নয়। কার্যকলাপের দিক দিয়ে যদি এক করতে চান, তাহলে বহির্জগতের বহু ক্ষেত্রে নারীদের বিশাল অসুবিধাতে ফেলে দেওয়া হবে। এবং জীবনের অন্যান্য ক্ষেত্রে পুরুষদেরও ফেলে দেওয়া হবে নানা অসুবিধায়। সর্বোপরি, অকর্মের বাড়বাড়ন্ত ঘটবে সর্বত্র। নারীরা চেষ্টা করবেন সেই কাজগুলো করতে, যেগুলো পুরুষরা ভালো পারেন এবং পুরুষরা সেই কাজগুলো করার চেষ্টা করবেন যেগুলো নারীরা ভালো পারেন; এবং এইভাবে এক বিশৃঙ্খল অবস্থার সৃষ্টি হবে। প্রশিক্ষণ দিলে সবাই সবকিছুই করতে পারেন। কিন্তু সহজাত প্রবণতাকে ব্যবহার করা উচিত। এবার, কে কী করবেন সেটা নির্ণয় কে করবে? একজন পুরুষকে এটাই করতে হবে এবং একজন নারীকে ওটাই করতে হবে—এটা পূর্বনির্ধারিত কেন হওয়া উচিত? প্রত্যেকে নিজে নিজে সেটা নির্ধারণ করুক!

আজ কর্মক্ষেত্র বদলে গিয়েছে এবং বহু কার্যের সুযোগ পুরুষ ও নারীর কাছে সমানভাবে উপলব্ধ হয়েছে, যেটা কিনা অতীতে সম্ভব ছিল না। এটা সম্ভব হয়েছে প্রযুক্তির জন্য। খাবার জোগাড় করা মানে এখন সুপারমার্কেটে যাওয়া। একজন নারী এই কাজ এক পুরুষের থেকে ভালো করতে পারেন। জীবিকা অর্জন করতে আজ আর তির বা বল্লম ছুড়তে হয় না। কম্পিউটারের কিবোর্ডের বোতাম টিপলেই হয়ে যায়। সেটিও একজন নারী বেশি ভালো করতে পারেন, কারণ তাকে প্রত্যেক ঘণ্টায় উঠে, আড়মোড়া ভেঙে, বাইরে গিয়ে সিগারেট খেয়ে আসতে হয় না। তিনি কাজ করতে বসলে শুধু সেটাই করেন। নারীরা এই ধরনের কাজ পুরুষদের থেকে বেশি ভালো করছেন। এটা মানবমনের বিবর্তন বা নারীদের স্বতন্ত্রতা বা পৌরুষত্বের উদারতা নয়। এটা কেবলই প্রযুক্তির উন্নতির ফল। কর্মক্ষেত্রে এখন বেশ সমতা এসে গিয়েছে।

তো এখন, প্রশ্নটা ‘সমতা’ নিয়ে নয়। কিন্তু হুবহু এক কাজ করা বোকামি। নারীকে পুরুষতান্ত্রিক জগতের সঙ্গে নিজেকে বিন্যস্ত করার চেষ্টা না করিয়ে বরং আমাদের উচিত সমাজ ও জগেক এমনভাবে রূপান্তরিত করা, যাতে পুরুষ ও নারী উভয়েরই সমান অংশগ্রহণের সুযোগ থাকে। আমরা যে সমাজটি তৈরি করেছি সেটা এতটাই পুরুষতান্ত্রিক যে, সেটি পুরুষদের জন্যও মঙ্গলকারক নয়, নারীদের কথা তো ছেড়েই দিন। এই মুহূর্তে এটি প্রচণ্ড রকমভাবে নারীদের বিরুদ্ধে। এবং সেখানে তিনি অসহায়ভাবে চেষ্টা করে চলেছেন সেই পুরুষতান্ত্রিক জগতে নিজেকে মানিয়ে নিতে। দুর্ভাগ্যক্রমে তাকে এটির মূল্য চোকাতে হচ্ছে। এবং সেই মূল্য চোকাতে গিয়ে যে ভীষণ প্রভাব পড়ছে তার ওপর, তার ফলে সাধারণভাবেই জীবন-প্রক্রিয়ার বিঘ্ন ঘটছে সর্বত্র।

সমাজে আমাদের অনেক কিছু নতুন করে সাজানো প্রয়োজন, যাতে পুরুষত্ব এবং নারীত্বের বিকাশ ঘটার সমান সুযোগ থাকে। একদিকে যেমন পুরুষোচিত আক্রমণাত্মক স্বভাব প্রয়োজন নানা কার্যসাধনের জন্য, অন্যদিকে নন্দনশীলতা, সংগীত, সংবেদনশীলতা, এগুলোও সমান পরিমাণে প্রয়োজন।

n সৌজন্যে :ঈশা ফাউন্ডেশন