লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানে বনের মধ্য দিয়ে চলে যাওয়া রেলপথ, সড়কপথ ও বৈদ্যুতিক লাইনে বিপণ্ন প্রজাতির প্রাণির মৃত্যু রোধ করা সম্ভব হচ্ছে না। গত ২৮ অক্টোবর রাতে সজারুর মৃত্যুর পর গত শুক্রবার রাতে উদ্যানের ভেতর গাড়িচাপায় মারা গেছে বিরল প্রজাতির একটি গন্ধগোকুল। বারো দিনের মাথায় কমলগঞ্জ-শ্রীমঙ্গল সড়কে বিপণ্ন প্রজাতির এই প্রাণি দুটির মৃত্যু পরিবেশবাদীদের আতঙ্কিত করে তুলেছে।
লাউয়াছড়া বনবিট কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেন গত বারো দিনে উদ্যানের ভিতর সড়ক পারাপারের সময় দুটি বন্যপ্রাণির মৃত্যুর ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, চালকেরা বেশিরভাগ অসচেতন, তাই দুর্ঘটনা ঘটছে।
বন্যপ্রাণি ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের তথ্য মতে, ২০১৬ সালের অক্টোবর মাস পর্যন্ত ৪৪টি ব্যাঙ ও সাপ এবং পাঁচটি হরিণ এভাবে মারা গেছে। এর মধ্যে রেলপথে দুইটি, সড়ক পথে দুইটি আর স্বাভাবিকভাবে একটি হরিণের মৃত্যু হয়। বিভিন্ন সময়ে জাতীয় উদ্যানের সড়ক পথে লজ্জাবতি বানর, সিভিট, গন্ধগোকুল, চশমাপড়া হনুমান, লিজার্ড, শিয়াল, বনবিড়াল, দাঁড়াস, গিন্নিসাপ মারা গেছে। রেলপথে হরিণ, অজগর, বন্যশূকর, লিজার্ড, শংখী, দাঁড়াস ও অজস্র ব্যাঙ মারা গেছে। বৈদ্যুতিক লাইনেও বানরসহ বিভিন্ন প্রাণির মৃত্যু ঘটেছে।
প্রসঙ্গত, লাউয়াছড়া উদ্যানে ৪৬০ প্রজাতির দুর্লভ উদ্ভিদ ও প্রাণির মধ্যে ১৬৭ প্রজাতির উদ্ভিদ, চার প্রজাতির উভচর, ছয় প্রজাতির সরীসৃপ, ২৪৬ প্রজাতির পাখি এবং ২০ প্রজাতির স্তন্যপায়ী প্রাণি রয়েছে।
মৌলভীবাজার পরিবেশ সাংবাদিক ফোরামের সভাপতি সৈয়দ মহসিন পারভেজ বলেন, গাড়ির চাকায় পিষ্ট হয়ে প্রাণি মারা যাওয়ার বিষয়টি উদ্বেগের। লাউয়াছড়া উদ্যানে বিপণ্ন প্রাণিসমূহের এমনিতেই খাবার ও বাসস্থান সংকট রয়েছে। এভাবে ঘন ঘন মৃত্যুর ফলে উদ্যানটি প্রাণিশূন্য হয়ে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
লাউয়াছড়া বন রেঞ্জ কর্মকর্তা মোনায়েম হোসেন বলেন, এ উদ্যানে সাধারণত রাতে বন্যপ্রাণি চলাচল করে থাকে। আর রাতে চলাচলকারী দ্রুতগামী গাড়ির চাপায় বন্যপ্রাণি মারা যাচ্ছে। পরিবেশ ও সড়ক মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এ সড়কটি যানবাহন চলাচলের জন্য বন্ধ করে বিকল্প সড়ক চালু হলে বন্যপ্রাণির মৃত্যু ঘটবে না।