মাদক মামলার একমাত্র আসামি মো. হাবিবুল্লাহ রাজন জামিন নিয়ে ছয় বছর ধরে পলাতক। এ অবস্থায় তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে আদালত। ঐ পরোয়ানামূলে গত ১৭ অক্টোবর ঐ মূল আসামির নামের সঙ্গে মিল থাকায় ‘মামলাহীন’ মো. রাজন ভূইয়াকে গ্রেফতার করে পুলিশ। সেই থেকে প্রায় এক মাস ধরে কারাগারে নির্দোষ রাজন। ইতিমধ্যে তার জামিনে মুক্তি চেয়ে আদালতে আবেদন করা হয়েছে। ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-১ এ তার জামিন আবেদনের ওপর সোমবার শুনানি হবে। এদিকে গ্রেফতারি পরোয়ানাভুক্ত মামলার একমাত্র আসামি হাবিবুল্লাহ রাজন আদালতে আত্মসমর্পণের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। সেই লক্ষ্যে বৃহস্পতিবার আদালতে হাজির হয়েছিলেন। দিয়েছেন আত্মসমর্পণপূর্বক জামিন আবেদন। ২৪ নভেম্বর ঐ আবেদনের ওপর শুনানির জন্য দিন ধার্য রেখেছেন ট্রাইব্যুনালের বিচারক আবু জাফর মো. কামরুজ্জামান।
এ প্রসঙ্গে হাবিবুল্লাহর আইনজীবী অ্যাডভোকেট ফিরোজ মাহমুদ ইত্তেফাককে বলেন, ‘রাজন ভূইয়া আসামি নয়। সে নির্দোষ। পুলিশ ভুল করে তাকে গ্রেফতার করেছে। গ্রেফতারি পরোয়ানার ভিত্তিতে আরো তদন্ত করে প্রকৃত যে আসামি তাকে ধরা উচিত ছিল। ইতিমধ্যে কোর্টকে বিষয়টি আমরা জানিয়েছি।’
রাজনের কৌঁসুলি অ্যাডভোকেট নিকুঞ্জ বিহারী আচার্যকে বলেন, মামলার আসামি না হয়েও বিনাদোষে কারাগারে বন্দি জীবন কাটাচ্ছেন রাজন। এ কারণে তার জামিনে মুক্তি চেয়ে আদালতে আবেদন দেওয়া হয়েছে। নির্দোষ ব্যক্তিকে এক মুহূর্তের জন্যও কারাগারে রাখা যায় না। যদি রাখা হয় তা মানবাধিকার লঙ্ঘনের শামিল।
২০১২ সালের ৯ মে ২৮ পিস নেশাজাতীয় ইনজেকশনসহ পুলিশের হাতে গ্রেফতার হন হাবিবুল্লাহ মিজান (২৬)। এ ঘটনায় ঐদিন তার বিরুদ্ধে রাজধানীর বংশাল থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করা হয়। মিজানের বাড়ি কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়ার গোপালনগরে। তার বাবার নাম মো. আব্দুল মান্নান। মাদক মামলায় গ্রেফতারের এক মাসের মধ্যে জামিন পান মিজান। দেওয়া হয় চার্জশিট। পরে আদালতে নিয়মিত হাজিরা না দেওয়ায় ২০১৩ সালের ৬ জুন মিজানের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে পুলিশ। ঐ গ্রেফতারি পরোয়ানা যায় কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া থানায়। সেই পরোয়ানামূলে পুলিশ গোপালনগরের মৃত আ. মান্নান ভূইয়ার ছেলে রাজন ভূইয়াকে গত ১৬ অক্টোবর গ্রেফতার করে। এরপর থেকে তিনি কারাগারে। মূল আসামি মিজানের বয়স বর্তমানে ৩৩ বছর। আর জন্মসনদ অনুযায়ী নির্দোষ রাজনের বয়স ১৯ বছর। এদিকে রাজনের পক্ষে ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার ৫ নম্বর দুলালপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আনিছুর রহমান ভূইয়া (রিপন) আদালতে প্রত্যয়নপত্র দিয়েছেন। এতে বলা হয়েছে, তার জানামতে রাজনের বিরুদ্ধে কোনো মামলা নেই। রাষ্ট্রবিরোধী কার্যকলাপের সঙ্গে সে জড়িত নয়।
মামলা হয়, সাক্ষী হাজির করা হয় না
এই মাদক মামলায় ২০১২ সালে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে পুলিশ। পরে হাবিবুল্লাহর বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে আদালত। অভিযোগ গঠনের পর ২৬টি কার্যদিবস অতিবাহিত হয়েছে। কিন্তু রাষ্ট্রপক্ষ একজন সাক্ষীও আদালতে হাজির করতে পারেনি। বিষয়টি হাবিবুল্লাহ রাজনের আত্মসমর্পণপূর্বক জামিনের আবেদনেও উল্লেখ করা হয়েছে। আসামির আইনজীবী জানান, মামলায় কিছুই নেই। সাক্ষী হাজির কিভাবে করবে।