কাশ্মীর ইস্যুতে নিজের প্রেসক্রিপশন হয়তো ভুলে গেছেন মোদি

ভারতীয় রাজনীতিবিদ ও লোকসভার সদস্য শশী থারুর বলেছেন, ভারতের রাজনীতির ন্যারেটিভ পালটে গেছে। ‘গুলি না করে, গালি না দিয়ে, বুকে টেনে নিয়ে কাশ্মীরিদের সমস্যার সমাধান হবে’ কাশ্মীর ইস্যুতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি তার নিজের দেওয়া এই ‘প্রেসক্রিপশন’ হয়তো ভুলে গেছেন। তাই আগামী সপ্তাহে সংসদে তাকে সেটা মনে করিয়ে দেওয়ার কথা জানালেন কংগ্রেসের এ নেতা।

গতকাল শনিবার ঢাকা লিট ফেস্টের তৃতীয় ও শেষ দিন শনিবার দুপুরে বাংলা একাডেমির আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ মিলনায়তনে ‘ইন্ডিয়া এগেইনস্ট ইটসেলফ’ শীর্ষক প্যানেল আলোচনায় অংশ নিয়ে শশী থারুর এসব কথা জানান।

শশী থারুর বলেন, ‘কাশ্মীর ইস্যুতে মোদি অনেকটা কার্যকর উপায়ের কথা বলেছিলেন কয়েক মাস আগে। ‘গুলি না করে, গালি না দিয়ে, বুকে টেনে নিয়ে কাশ্মীরিদের সমস্যার সমাধান হবে।’ নিজের এই ‘প্রেসক্রিপশন’ তিনি হয়তো ভুলে গেছেন বলে আমার মনে হয়। আমি আশা করি আগামী সপ্তাহে সংসদে তাকে সেটা আমি মনে করিয়ে দেব।’

কাশ্মীরের ভবিষ্যত্ কী? দর্শক সারি থেকে ওঠা এমন প্রশ্নের জবাবে কংগ্রেসের এ নেতা বলেন, ‘কাশ্মীরের বিষয় অনেক পুরোনো, অপ্রচলিত পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়েছে, যা মানবতা ও গণতন্ত্রের বিরোধী।’

কাশ্মীর সমস্যার সমাধান একটি চ্যালেঞ্জ উল্লেখ করে শশী থারুর বলেন, ‘গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার এটা কোনো পন্থা হতে পারে না। এরকম পরিস্থিতিতে রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের ঘরবন্দি করে রাখা গণতন্ত্রে এক ধরনের অগ্রহণযোগ্য চর্চা। এ বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই যে তারা সংবিধানের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন করেছেন। এভাবে গণতন্ত্র চলতে পারে না।’

বাবরি মসজিদের রায়ের বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে চান না জানিয়ে শশী থারুর বলেন, ‘আমি আশা করি মানুষ এ নিয়ে আর প্রশ্ন না তুলে এটিকে একটি সমাপ্তি হিসেবেই দেখবে এবং উত্তরণের পথে হাঁটবে। কারণ, আমার কাছে মনে হয় আমরা সামাজিকভাবে অনেক ভুগেছি এ নিয়ে। আমাদের জন্য এরচেয়েও বড়ো চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করছে।’