সুন্দরবনের ভারতীয় অংশে বুলবুলের আঘাত

গতকাল ভারতীয় সময় রাত ১১টার দিকে পশ্চিমবঙ্গের সাগরদ্বীপের কাছে সুন্দরবনে ১২০ কিলোমিটার বেগে আঘাত হেনে বাংলাদেশের খেপুপাড়ার দিকে এগিয়ে গেছে ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুল’। বড়ো বড়ো ঢেউয়ে প্লাবিত হয় সুন্দরবনের বেশ কিছু এলাকা। উপকূলে আছড়ে পড়ার কয়েক ঘণ্টা আগে থেকেই সাগরদ্বীপ ও সংলগ্ন অঞ্চলে ঝড়ের দাপট বাড়তে থাকে। বহু জায়গায় গাছ উপড়ে যায়, ভেঙে পড়ে কাঁচা বাড়ি। কলকাতার বালিগঞ্জে গাছ পড়ে নিহত হয় শেখ সোহেল নামে এক যুবক। ঝড় আছড়ে পড়ার ঘণ্টা দুয়েক পরও চলে তাণ্ডব।  হতাহতের সংখ্যা বাড়তে পারে।

বিপদের আশঙ্কায় পশ্চিমবঙ্গের উপকূলবর্তী অঞ্চল থেকে সরানো হয় প্রায় ১ লাখ ৫৮ হাজার মানুষকে। গতকাল সন্ধ্যা ৬টায় কলকাতা বিমানবন্দর থেকে বন্ধ করে দেওয়া হয় সমস্ত বিমান চলাচল। পরিস্থিতির ওপর নজর রাখতে পশ্চিমবঙ্গের প্রশাসনিক ভবন নবান্নে পৌঁছে যান মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি। জরুরি বৈঠক করেন। রাতভর সেখানে থেকে নজরদারি চালানোর পাশাপাশি প্রয়োজনীয় নির্দেশ দেন।

ভারতের আবহাওয়া দপ্তর আইএমডি জানিয়েছে, আছড়ে পড়ার পর ‘বুলবুল’? বাংলাদেশের ভেতর দিয়ে উত্তর-পূর্ব দিকে এগিয়েছে। ফলে রবিবার সকালের দিকে পশ্চিমবঙ্গে দুর্যোগ বেশ খানিকটা কমে গেলেও বাংলাদেশে বাড়তে পারে।

আইএমডি জানিয়েছে, ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুল’ বাংলাদেশে ঢোকার পর শক্তি খুইয়ে নিম্নচাপে পরিণত হয়ে এগিয়ে যাবে ত্রিপুরার দিকে। এর প্রভাবে রবিবার ত্রিপুরাসহ মিজোরাম, মেঘালয়, দক্ষিণ অসমে বৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে ।