অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের প্রভাবে ১০ নম্বর মহাবিপদ সংকেত থাকা সত্বেও সুন্দরবনের দুবলার চরের জেলে পল্লী বড় ধরনের কোন ক্ষয়ক্ষতি ছাড়াই রক্ষা পেয়েছে। আশঙ্কা করা হচ্ছিল বুলবুল যে গতিতে ধেয়ে আসছে তাতে সুন্দরবনই হবে ধ্বংসস্থল। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গে আঘাত হেনে কিছুটা দুর্বল হয়ে যাওয়া বুলবুলের চলার পথে সাতক্ষীরা, খুলনা, বাগেরহাট, পিরোজপুর হওয়ায় সুন্দরবনের জেলেপল্লীগুলো রক্ষা পায়।
শনিবার দুবলার চরে বুলবুলের অগ্রভাগ আঘাত হানলেও মধ্যরাত থেকে ভোর পর্যন্ত ৪০ থেকে ৫০ কিলোমিটার বেগে দুবলার চরে বুলবুল হানা দেয়। এসময় প্রবল বৃষ্টি হলেও বাতাসের গতি ছিল কম।
আরো পড়ুন: সাতক্ষীরায় বুলবুলের তাণ্ডবে ২ লক্ষাধিক মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত
দুবলার চর থেকে দুবলা ফিসারমেন গ্রুপের সভাপতি কামাল উদ্দিমন আহমেদ জানান, এই চরটির বিভিন্ন স্থানে ৫ টি সাইক্লোন শেল্টারে প্রায় ৫হাজার মানুষ আশ্রয় নেয়। এছাড়া বনের অভ্যন্তরের বিভিন্ন খালে অজস্র নৌকার জেলেরা অবস্থান নেয়। বাতাসের গতিবেগ কম থাকায় এবং বুলবুল হানা দেয়ার সময় সাগরে ভাটা থাকায় জলোচ্ছাসের হাত থেকে দুবলার চরের মানুষ রক্ষা পায়। ৫ টি জেলে পল্লীর অস্থায়ী জেলে ঘর ও ডিপো ঘরের আংশিক ক্ষতি হয়েছে।
দুবলার মাঝের চর থেকে ফরিদ আহমেদ নামের এক মৎস্য ব্যবসায়ী জানান, আগে থেকে প্রস্তুতি থাকায় জেলেরা নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যায়।
ইন্দুরকানীর বালিপাড়ার মৎস্য ব্যবসায়ী দুলাল ফকির ইত্তেফাককে জানান, তার এলাকার ১০ থেকে ১১ টি ফিশিং বোড দুবলার চরের মেহেরআলীর খালে জেলেদের নিয়ে অবস্থান করেছে। তারা নিরাপদে রয়েছে।
সিপিপির ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচীর দুবলা ভিএইচএফ স্টেশনের ওয়ারলেস অপারেটর আবুল কাসেম জানান, আগে ভাগে ১০ নম্বর সিগনাল পেয়ে সিপিপির স্বেচ্ছাসেবকেরা সতর্ক বানী প্রচার করে জেলেদের নিরাপদ আশ্রয়ে নিতে সক্ষম হওয়ায় কোন প্রাণহানীর ঘটনা ঘটেনি।
ইত্তেফাক/এমআরএম